সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পুলিশের যে অভিযোগ
- Update Time : 02:33:08 pm, Monday, 12 October 2026
- / 3 Time View
সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ ও লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরার বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী চক্রান্ত, সহিংস উসকানি, অবৈধ অর্থায়ন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ এনেছে পুলিশ। সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।
পল্লবী থানার করা মামলায় আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তাকে চার দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত এ আদেশ দেন।
পুলিশের তথ্যমতে, গতকাল রবিবার দিবাগত রাতে রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের পল্লবী জোনাল টিমের সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেন।
বনানী ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে রাত আড়াইটার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, ডিবি পুলিশের একজন পরিদর্শক বাদী হয়ে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা ও তাদের সহযোগীরা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারবিরোধী প্রচার, তহবিল সংগ্রহ এবং সহিংসতায় উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারের সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে ‘ইউনিটি কেয়ার পাবলিক পার্লামেন্ট’ নামের একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পলাতক শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহারে আরো বলা হয়, ‘কালআজকাল ডটকম’ নামের একটি পেজের মাধ্যমে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কনটেন্ট তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেও রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা ও প্রচারের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
পুলিশের এজাহার অনুযায়ী, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে অবৈধ অর্থায়ন এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর বিভিন্ন ধারায় অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তারা সহযোগীদের নিয়ে সরকার ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং কুৎসামূলক প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর নির্বাচনের আগে দেড় শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে গণভবনে গিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি প্রকাশ্যে একাত্মতা ও আনুগত্য প্রকাশের অভিযোগ আনা হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ নামের একটি কমিটি গঠন এবং ওই সংগঠনের মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগও রয়েছে এজাহারে।









