Dhaka 3:17 am, Friday, 2 October 2026
সর্বশেষ
‘পদক্ষেপ যথেষ্ট না, দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ দেখতে চায় দেশবাসী’ রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কারও প্রতি বৈষম্য করা হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিষ্টির পদত্যাগে সংরক্ষিত নারী আসন শূন্য ঘোষণা সরকারি দামেই বিক্রি করতে হবে এলপিজি, না মানলে কঠোর ব্যবস্থা পানির নিচে একসঙ্গে ১১৬ ড্রোন চালিয়ে চীনের নতুন বিশ্বরেকর্ড মাদককে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, সড়কির আঘাতে নিহত ১, আহত ৭ বিনিয়োগ ও জ্বালানিতে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুলের জামিন নামঞ্জুর জুলাই-আগস্টের ভ্যাট রিটার্ন জমায় সময় বাড়াল এনবিআর গুপ্তচরবৃত্তি আইনের মামলায় ভারতীয় নাগরিক রবিউল ৭ দিনের রিমান্ডে

কোটা বরাদ্দের পরও আটকে আছে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া

মো, এলাহী মালয়েশিয়া
  • Update Time : 11:56:50 am, Thursday, 1 October 2026
  • / 108 Time View

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়ার পর কোটা বরাদ্দ ও অ্যাম্বাসি অ্যাটাস্টেশন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে কর্মী নির্বাচন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ইন্টারভিউসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শুরু করতে এখনো প্রয়োজনীয় অনুমোদন না মেলায় পুরো প্রক্রিয়া আটকে আছে বলে জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানিকারকরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়ার পর দেশটির বিভিন্ন নিয়োগকর্তা ও রিক্রুটিং প্রতিষ্ঠান কর্মী নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছে। এরইমধ্যে তাদের অনেকেই কোটা পেয়েছেন। তবে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ও নির্দেশনার অভাবে কর্মী নিয়োগের পরের ধাপ শুরু হচ্ছে না।

জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি (বায়রা) সদস্যরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব প্রক্রিয়া শেষ না হলে মালয়েশিয়া বাংলাদেশী কর্মী পাঠানো বাধাগ্রস্থ হতে পারে। তারা আরও বলছেন, নিয়োগকারীরা তখন অন্যদেশ থেকে শ্রমিক নিয়ে নিতে পারে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর শ্রমবাজারটি পুনরায় উন্মুক্ত হলেও প্রশাসনিক ও প্রক্রিয়াগত বিলম্বের কারণে কর্মীদের মালয়েশিয়া যাত্রা পিছিয়ে যাচ্ছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নির্দেশনা না পাওয়ায় পরের কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না বলেও দাবি তাদের।বায়রার সদস্য এবং আর্থ স্মার্ট বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহফুজুর রহমান জানান, দুই সপ্তাহ আগে কোটা বরাদ্দ ও অ্যাম্বাসি অ্যাটেস্টেশনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে কর্মী নির্বাচন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ইন্টারভিউসহ পরের কার্যক্রম শুরুর প্রয়োজনীয় অনুমোদন না পাওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াই আটকে আছে।

তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব প্রক্রিয়া শেষ না হলে মালয়েশিয়া অন্য সোর্স দেশে থেকে শ্রমিক নিয়ে নিতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।জনশক্তি রপ্তানিকারক সূত্র বলছে, মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য প্রায় আড়াই লাখ কর্মীর কোটা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫ হাজার কর্মীর অ্যাম্বাসি অ্যাটাস্টেশনের জন্য আবেদন জমা পড়েছে।

কয়েকজন কর্মীর অ্যাটাস্টেশন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন বরাদ্দ পাওয়া কর্মীদের দ্রুত নির্বাচন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রাক-বহির্গমন প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা দরকার জলে জানান সংশ্লিষ্টরা।সূত্র বলছে, বাংলাদেশি কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বর্তমানে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের পাশাপাশি আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকায় ১৪টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে এখনো এসব প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

বায়রার সদস্য ও জনশক্তি রপ্তানীকারী ফরিদ আহমেদ মজুমদার জানান, মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কোটা বরাদ্দ এবং ই-অ্যাটেস্টেশন প্রক্রিয়া এগিয়ে গেলেও পরের কার্যক্রম শুরু হয়নি।তিনি বলেন, এতে দেশটির নিয়োগকর্তা ও নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে হতাশা তৈরি হতে পারে। সময়মতো বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানো সম্ভব না হলে কিছু নিয়োগকর্তা অন্য দেশ থেকে কর্মী নেওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারে।

এসকাগজ/আরডি

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

কোটা বরাদ্দের পরও আটকে আছে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া

Update Time : 11:56:50 am, Thursday, 1 October 2026

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়ার পর কোটা বরাদ্দ ও অ্যাম্বাসি অ্যাটাস্টেশন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে কর্মী নির্বাচন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ইন্টারভিউসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শুরু করতে এখনো প্রয়োজনীয় অনুমোদন না মেলায় পুরো প্রক্রিয়া আটকে আছে বলে জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানিকারকরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়ার পর দেশটির বিভিন্ন নিয়োগকর্তা ও রিক্রুটিং প্রতিষ্ঠান কর্মী নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছে। এরইমধ্যে তাদের অনেকেই কোটা পেয়েছেন। তবে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ও নির্দেশনার অভাবে কর্মী নিয়োগের পরের ধাপ শুরু হচ্ছে না।

জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি (বায়রা) সদস্যরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব প্রক্রিয়া শেষ না হলে মালয়েশিয়া বাংলাদেশী কর্মী পাঠানো বাধাগ্রস্থ হতে পারে। তারা আরও বলছেন, নিয়োগকারীরা তখন অন্যদেশ থেকে শ্রমিক নিয়ে নিতে পারে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর শ্রমবাজারটি পুনরায় উন্মুক্ত হলেও প্রশাসনিক ও প্রক্রিয়াগত বিলম্বের কারণে কর্মীদের মালয়েশিয়া যাত্রা পিছিয়ে যাচ্ছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নির্দেশনা না পাওয়ায় পরের কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না বলেও দাবি তাদের।বায়রার সদস্য এবং আর্থ স্মার্ট বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহফুজুর রহমান জানান, দুই সপ্তাহ আগে কোটা বরাদ্দ ও অ্যাম্বাসি অ্যাটেস্টেশনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে কর্মী নির্বাচন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ইন্টারভিউসহ পরের কার্যক্রম শুরুর প্রয়োজনীয় অনুমোদন না পাওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াই আটকে আছে।

তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব প্রক্রিয়া শেষ না হলে মালয়েশিয়া অন্য সোর্স দেশে থেকে শ্রমিক নিয়ে নিতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।জনশক্তি রপ্তানিকারক সূত্র বলছে, মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য প্রায় আড়াই লাখ কর্মীর কোটা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫ হাজার কর্মীর অ্যাম্বাসি অ্যাটাস্টেশনের জন্য আবেদন জমা পড়েছে।

কয়েকজন কর্মীর অ্যাটাস্টেশন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন বরাদ্দ পাওয়া কর্মীদের দ্রুত নির্বাচন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রাক-বহির্গমন প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা দরকার জলে জানান সংশ্লিষ্টরা।সূত্র বলছে, বাংলাদেশি কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বর্তমানে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের পাশাপাশি আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকায় ১৪টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে এখনো এসব প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

বায়রার সদস্য ও জনশক্তি রপ্তানীকারী ফরিদ আহমেদ মজুমদার জানান, মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কোটা বরাদ্দ এবং ই-অ্যাটেস্টেশন প্রক্রিয়া এগিয়ে গেলেও পরের কার্যক্রম শুরু হয়নি।তিনি বলেন, এতে দেশটির নিয়োগকর্তা ও নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে হতাশা তৈরি হতে পারে। সময়মতো বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানো সম্ভব না হলে কিছু নিয়োগকর্তা অন্য দেশ থেকে কর্মী নেওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারে।

এসকাগজ/আরডি