Dhaka 9:48 pm, Tuesday, 13 October 2026
সর্বশেষ
পার্বত্য অঞ্চলে সেনাবাহিনীর মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি, চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা ১৯ অক্টোবর দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দরপত্র জমার সময় বাড়ল ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে ভাতা উত্তোলন, ৩ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা ১২ দিনে দেড় কোটি আবেদন বিশ্বকাপ টিকিটের, কত দিন চলবে প্রক্রিয়া জেনে নিন স্কুলে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ ১৮ বছরে ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়েও রেলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি : মন্ত্রী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত দাম্মামেও বিমানের সব ফ্লাইট স্থগিত গবেষণায় এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা চিন্তাশক্তি কমায় : ঢাবি উপ-উপাচার্য

মায়েদের সঙ্গে কারাগারে ৩০৩ শিশু, পরিবেশ অনুকূল নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 01:11:45 pm, Monday, 12 October 2026
  • / 6 Time View

দেশের বিভিন্ন কারাগারে মায়েদের সঙ্গে ২৯৮ থেকে ৩০৩ শিশু আছে। এসব শিশুদের প্রাথমিক বিকাশ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতি’র মাধ্যমে।

সংগঠনটি নিয়মিতভাবে খেলনা, পোশাক ও পুষ্টিকর শিশু খাদ্য সরবরাহ করে থাকে। আর এ বিষয়টি তত্ত্বাবধান করেন অধিদপ্তরের প্রবেশন কর্মকর্তা। 

হাইকোর্টের নির্দেশ তৈরি করা সমাজসেবা অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনটি এখনো হাইকোর্টে দাখিল করা হয়নি।

গত ৮ মে ‘কারাগারে বিপন্ন শৈশব’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে একটি জাতীয় দৈনিক। প্রতিবেদন যুক্ত করে পরদিন হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ (দীপা)। গত ১৫ জুন এই রিটে প্রাথমিক শুনানির পর হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। বিভিন্ন অপরাধে জড়িত বা দণ্ডিত মায়েদের সঙ্গে কত শিশু কারা হেফাজতে আছে, কোন কারাগারে কত শিশু, তাদের কার বয়স কত, কোন পরিবেশে তাদের রাখা হচ্ছে, শিশু পরিচর্যার জন্য কোন কারাগারে কি ব্যবস্থা আছে, এসব বিষয় উল্লেখ করে কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শককে দুই মাসের মধ্যে এই প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ (দীপা) কালের কণ্ঠকে বলেন, মায়েদের সঙ্গে কারাগারে থাকলেও এসব শিশুদের দেখভাল করে সমাজসেসবা অধিপ্তরের শিশু সুরক্ষা ইউনিট ও প্রবেশন শাখা। এই দুটি শাখা সমন্বিতভাবে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি রিট আবেদনকারী হিসেবে আমাকে দেওয়া হয়েছে। অবকাশ ছুটির পর নিয়মিত বিচারকাজ শুরু হলে হয়তো কারা অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রতিবেদনটি এখতিয়ার সম্পন্ন হাইকোর্ট বেঞ্চে দাখিল করা হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারাগারের পরিবেশ শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে অনুকূল নয়।

তাই নির্দিষ্ট বয়স বা সময়সীমা শেষে কারাবন্দি মায়ের সঙ্গে থাকা শিশুকে তার সর্বোত্তম স্বার্থে সমাজের নিকটাত্মীয়ের কাছে ‘ফস্টার কেয়ার’ বা বিকল্প পারিবারিক যত্নের আওতায় পুনর্বাসন করা যেতে পারে। 

নিকটাত্মীয় না থাকলে বা সেখানে রাখা নিরাপদ না হলে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন ‘সরকারি শিশু পরিবার’ কিংবা উপযুক্ত নিরাপদ আবাসন কেন্দ্রে রেখে তাদের সার্বিক লালন-পালন ও শিক্ষার ব্যবস্থা করার সুপারিশও করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

মাঠপর্যায়ের তথ্য তুলে ধরে প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে প্রায় ২৯৮ থেকে ৩০৩ জন শিশু অবস্থান করছে। সরাসরি শিশু সুরক্ষা ইউনিটের আওতায় কারাগারে পৃথক কোনো কার্যক্রম না থাকলেও প্রবেশন শাখার মাধ্যমে শিশুদের মৌলিক চাহিদা পূরণের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ কারাবিধির (জেল কোড) ৯৫৭ বিধি অনুযায়ী, নারী হাজতি ও কয়েদিরা চার বছর পর্যন্ত তাদের সন্তানদের কাছে রাখতে পারেন। তবে কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে ছয় বছর পর্যন্ত সন্তানদের কাছে রাখার সুযোগ পান কারাবন্দি মায়েরা।

কারা অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে গত ৮ মে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ৭৪টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে ওই শিশুসহ ২৯৯ শিশু (২৬ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত) রয়েছে মায়েদের সঙ্গে। এসব শিশুর মায়েদের বেশিরভাগ মাদক মামলার আসামি। এর মধ্যে কন্যাশিশু ১৫৩ জন। আর ছেলেশিশু ১৪৬ জন। এই শিশুদের মায়েরা কেউ সাজা খাটছেন, কারো মামলা রয়েছে বিচারের পর্যায়ে।

ঢাকা বিভাগের ১৮টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে শিশু রয়েছে ১০০ জন। চট্টগ্রাম বিভাগের ১২টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে রয়েছে ৯০ শিশু। রাজশাহী বিভাগের ৮টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে রয়েছে ২৫ শিশু। সিলেট বিভাগের ৫টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে রয়েছে ১৯ শিশু। 

এ ছাড়া রংপুরে ৮টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে ২৫ জন, খুলনা বিভাগের ১০টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে ২০ জন, বরিশাল বিভাগের কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে (মোট ৬টি কারাগার) ৪ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের ৪টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে মায়েদের সঙ্গে আছে ১৩ জন শিশু। মায়েদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি শিশু রয়েছে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে। 

গত ৪ মে পর্যন্ত ওই কারাগারে ৫১ শিশু রয়েছে। এর মধ্যে ছেলেশিশু ২৪ ও কন্যাশিশু ২৭ জন। এই শিশুদের প্রায় সবাইকে থাকতে হয় কারাগারের নির্দিষ্ট ওয়ার্ড বা সেলে, যেখানে অন্য সাজাপ্রাপ্ত বা হাজতিরা থাকেন। যাদের বেশিরভাগ হত্যা ও মাদক মামলার আসামি।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মায়েদের সঙ্গে কারাগারে ৩০৩ শিশু, পরিবেশ অনুকূল নয়

Update Time : 01:11:45 pm, Monday, 12 October 2026

দেশের বিভিন্ন কারাগারে মায়েদের সঙ্গে ২৯৮ থেকে ৩০৩ শিশু আছে। এসব শিশুদের প্রাথমিক বিকাশ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতি’র মাধ্যমে।

সংগঠনটি নিয়মিতভাবে খেলনা, পোশাক ও পুষ্টিকর শিশু খাদ্য সরবরাহ করে থাকে। আর এ বিষয়টি তত্ত্বাবধান করেন অধিদপ্তরের প্রবেশন কর্মকর্তা। 

হাইকোর্টের নির্দেশ তৈরি করা সমাজসেবা অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনটি এখনো হাইকোর্টে দাখিল করা হয়নি।

গত ৮ মে ‘কারাগারে বিপন্ন শৈশব’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে একটি জাতীয় দৈনিক। প্রতিবেদন যুক্ত করে পরদিন হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ (দীপা)। গত ১৫ জুন এই রিটে প্রাথমিক শুনানির পর হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। বিভিন্ন অপরাধে জড়িত বা দণ্ডিত মায়েদের সঙ্গে কত শিশু কারা হেফাজতে আছে, কোন কারাগারে কত শিশু, তাদের কার বয়স কত, কোন পরিবেশে তাদের রাখা হচ্ছে, শিশু পরিচর্যার জন্য কোন কারাগারে কি ব্যবস্থা আছে, এসব বিষয় উল্লেখ করে কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শককে দুই মাসের মধ্যে এই প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ (দীপা) কালের কণ্ঠকে বলেন, মায়েদের সঙ্গে কারাগারে থাকলেও এসব শিশুদের দেখভাল করে সমাজসেসবা অধিপ্তরের শিশু সুরক্ষা ইউনিট ও প্রবেশন শাখা। এই দুটি শাখা সমন্বিতভাবে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি রিট আবেদনকারী হিসেবে আমাকে দেওয়া হয়েছে। অবকাশ ছুটির পর নিয়মিত বিচারকাজ শুরু হলে হয়তো কারা অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রতিবেদনটি এখতিয়ার সম্পন্ন হাইকোর্ট বেঞ্চে দাখিল করা হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারাগারের পরিবেশ শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে অনুকূল নয়।

তাই নির্দিষ্ট বয়স বা সময়সীমা শেষে কারাবন্দি মায়ের সঙ্গে থাকা শিশুকে তার সর্বোত্তম স্বার্থে সমাজের নিকটাত্মীয়ের কাছে ‘ফস্টার কেয়ার’ বা বিকল্প পারিবারিক যত্নের আওতায় পুনর্বাসন করা যেতে পারে। 

নিকটাত্মীয় না থাকলে বা সেখানে রাখা নিরাপদ না হলে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন ‘সরকারি শিশু পরিবার’ কিংবা উপযুক্ত নিরাপদ আবাসন কেন্দ্রে রেখে তাদের সার্বিক লালন-পালন ও শিক্ষার ব্যবস্থা করার সুপারিশও করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

মাঠপর্যায়ের তথ্য তুলে ধরে প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে প্রায় ২৯৮ থেকে ৩০৩ জন শিশু অবস্থান করছে। সরাসরি শিশু সুরক্ষা ইউনিটের আওতায় কারাগারে পৃথক কোনো কার্যক্রম না থাকলেও প্রবেশন শাখার মাধ্যমে শিশুদের মৌলিক চাহিদা পূরণের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ কারাবিধির (জেল কোড) ৯৫৭ বিধি অনুযায়ী, নারী হাজতি ও কয়েদিরা চার বছর পর্যন্ত তাদের সন্তানদের কাছে রাখতে পারেন। তবে কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে ছয় বছর পর্যন্ত সন্তানদের কাছে রাখার সুযোগ পান কারাবন্দি মায়েরা।

কারা অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে গত ৮ মে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ৭৪টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে ওই শিশুসহ ২৯৯ শিশু (২৬ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত) রয়েছে মায়েদের সঙ্গে। এসব শিশুর মায়েদের বেশিরভাগ মাদক মামলার আসামি। এর মধ্যে কন্যাশিশু ১৫৩ জন। আর ছেলেশিশু ১৪৬ জন। এই শিশুদের মায়েরা কেউ সাজা খাটছেন, কারো মামলা রয়েছে বিচারের পর্যায়ে।

ঢাকা বিভাগের ১৮টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে শিশু রয়েছে ১০০ জন। চট্টগ্রাম বিভাগের ১২টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে রয়েছে ৯০ শিশু। রাজশাহী বিভাগের ৮টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে রয়েছে ২৫ শিশু। সিলেট বিভাগের ৫টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে রয়েছে ১৯ শিশু। 

এ ছাড়া রংপুরে ৮টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে ২৫ জন, খুলনা বিভাগের ১০টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে ২০ জন, বরিশাল বিভাগের কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে (মোট ৬টি কারাগার) ৪ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের ৪টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে মায়েদের সঙ্গে আছে ১৩ জন শিশু। মায়েদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি শিশু রয়েছে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে। 

গত ৪ মে পর্যন্ত ওই কারাগারে ৫১ শিশু রয়েছে। এর মধ্যে ছেলেশিশু ২৪ ও কন্যাশিশু ২৭ জন। এই শিশুদের প্রায় সবাইকে থাকতে হয় কারাগারের নির্দিষ্ট ওয়ার্ড বা সেলে, যেখানে অন্য সাজাপ্রাপ্ত বা হাজতিরা থাকেন। যাদের বেশিরভাগ হত্যা ও মাদক মামলার আসামি।