দিল্লির যন্তর মন্তরে আর নয় বিক্ষোভ, নতুন জায়গা নির্ধারণ সরকারের
- Update Time : 02:31:10 pm, Monday, 12 October 2026
- / 2 Time View
ভারতের রাজধানী দিল্লির ‘যন্তর মন্তরে’ আর কোনো বিক্ষোভ, প্রতিবাদ কর্মসূচি করা যাবে না। বিক্ষোভ কর্মসূচির জন্য নতুন তিনটি জায়গাকে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এমনটাই জানিয়েছে পুলিশ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হিন্দুস্তান টাইমসেরর প্রতিবেদন অনুযায়ী এত দিন দিল্লির উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত কেন্দ্রীয় এলাকা যন্তর মন্তর বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে সেখানে আর বিক্ষোভ বা অবস্থান কর্মসূচি পালন করা যাবে না।
রাজধানীতে বিক্ষোভ বা মিছিলের জন্য তিনটি নতুন জায়গা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে বিতর্কের মধ্যে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ এবং ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভের মধ্যেই এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের পুরনো ব্যবস্থা বন্ধ হওয়ার ফলে দিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে।
দিল্লি পুলিশের কমিশনার অনুরাগ কুমার যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদের নির্দিষ্ট স্থান হিসেবে বাতিল করার নির্দেশ জারি করেছেন।
নির্দেশে জানানো হয়েছে, কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পরিবর্তে রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ডকে নতুন প্রতিবাদস্থল হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নতুন নির্ধারিত এই তিনটি স্থানে বিক্ষোভ আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সংশোধিত কার্যপদ্ধতি বা এসওপি আলাদাভাবে জারি করা হবে। নতুন তিনটি জায়গায় বিক্ষোভের জন্যও প্রযোজ্য অনুমতি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম মানতে হবে। দিল্লি পুলিশের কমিশনার অনুরাগ কুমারের স্বাক্ষরিত এই নির্দেশটি ২৮ এপ্রিল, ২০২২-এ জারি করা পূর্ববর্তী একটি স্থায়ী নির্দেশকে সংশোধন করে; সেই আগের নির্দেশটিতে যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের স্থান হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়েছিল।
যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমতি চেয়ে সিজেপি নেতারা পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানা থেকে বেরিয়ে আসার পর বিক্ষোভের জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থানের দাবি জানান। এরপরই এই নির্দেশটি আসে। দিল্লির যন্তর মন্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপত্তার দিক থেকে সংবেদনশীল এলাকায় অবস্থিত। সেখানে বড় জমায়েত হলে যান চলাচল, জননিরাপত্তা এবং জরুরি পরিষেবায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিকল্প জায়গা নির্দিষ্ট করার পেছনে এই বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকেই জানানো হয়েছিল যন্তর-মন্তরের বিকল্প স্থান হিসাবে অন্য জায়গার সন্ধান দিতে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার বজায় রেখেই জননিরাপত্তা ও নাগরিক পরিষেবার মধ্যে ভারসাম্য রাখার ওপর জোর দিয়েছিলেন শীর্ষ আদালত।









