Dhaka 3:07 am, Monday, 31 August 2026
সর্বশেষ
‘মিনি সিঙ্গাপুর’খ্যাত বসুন্ধরায় ছিনতাই, নিরাপত্তাকর্মীদের তৎপরতায় আটক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টঙ্গীতে ছাত্রলীগের ৫ নেতাকর্মীসহ গ্রেপ্তার ৬ উপসাগরীয় শাসকদের সতর্ক করলেন মোজতবা খামেনি ই-রিকশা ব্যবস্থাপনায় নীতিমালা প্রণয়ন করছে সরকার : স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী নতুন ঝুঁকিতে নেপাল টাঙ্গাইলে ছেলের হাতে বাবা খুন সড়ক দুর্ঘটনায় দুই পক্ষের সমঝোতা, তাসনুভা তিশাকে ৩০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট জাতীয় সমস্যা, সরকার এটি তৈরি করেনি : নুর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কৌশলগত সংলাপ শুরুর বিষয়ে একমত বাংলাদেশ-চীন

সুন্দরবন খুলছে ১ সেপ্টেম্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 11:42:02 am, Sunday, 30 August 2026
  • / 11 Time View

দীর্ঘ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আগামী ১ সেপ্টেম্বর সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়া হবে। ফলে জেলে ও পর্যটকরা ওই দিন থেকেই সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি পাবেন।

একই সঙ্গে সুন্দরবনের পরিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় সবাইকে নির্দেশিত নিয়ম-কানুন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। 

পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. মশিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সুন্দরবন শুধু জীববৈচিত্র্যের আধার নয়, এটি মৎস্যসম্পদেরও গুরুত্বপূর্ণ উৎস। ১ সেপ্টেম্বর থেকে জেলে ও পর্যটকদের সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ফরেস্ট স্টেশনগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে জুন, জুলাই ও আগস্ট সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও মাছের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় তিন মাসের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বন বিভাগ। এই সময়ে জেলেদের মাছ-কাঁকড়া আহরণ, বাওয়ালীদের গোলপাতা ও মধু সংগ্রহ, এমনকি পর্যটকদের বনে প্রবেশও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকে।

এদিকে দীর্ঘ তিন মাস সুন্দরবনে প্রবেশ করতে না পেরে ঋণ করে সংসার চালাতে হয়েছে বলে জানান বনজীবীরা। জেলে আয়ুব আলী, ইসমাইল হোসেন, সুবোল মুন্ডাসহ কয়েকজন বলেন, সুদে টাকা নিয়ে সংসার চালাতে হয়েছে।

আবার এখন সুদ করেই নৌকা, জাল সারাই করছি। বনে গিয়ে মাছ-কাঁকড়া ধরে ঋণ শোধের পাশাপাশি ছেলে-মেয়েদের পড়া-লেখা, বাবা-মায়ের ওষুধ ও সংসারের খরচ জোগাতে হবে। শুধু জেলে নন, সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে যাদের অন্য ধরনের জীবিকা রয়েছে, তারাও তিন মাসের ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা করছেন। 

নীলডুমুর ট্রলার মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম জানান, পর্যটকের ওপর নির্ভর করে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকায় পাঁচ শতাধিক ট্রলার চলে। সুন্দরবনে জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত মাছ ও কাঁকড়া ধরা বন্ধ রাখার পাশাপাশি পর্যটক ঢোকা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এ সময় ট্রলারচালক ও শ্রমিকরা বেকার জীবনযাপন করেন। তাদের সংসার খুব কষ্টে ধারদেনা করে চলে। 

একাধিক জেলে জানান, সুন্দরবনের প্রায় ৭০ ভাগ এলাকা অভয়ারণ্য হিসেবে সবসময়ই বন্ধ থাকে। জেলেদের দাবি, তিন মাসের নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে অসাধু জেলেরা অভয়ারণ্য এলাকায় প্রবেশ করে বিষ দিয়ে মাছ ধরা এবং ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার করে। কারণ অভয়ারণ্য এলাকায় মাছ ও হরিণ শিকার করতে অসাধু চক্রের সুবিধা হয়।

স্থানীয় জেলেদের দাবি, সুন্দরবনের ৬০ ভাগ মাছ-কাঁকড়া আহরণের জন্য উন্মুক্ত করা হোক। এতে সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার ও ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার কমবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সুন্দরবন খুলছে ১ সেপ্টেম্বর

Update Time : 11:42:02 am, Sunday, 30 August 2026

দীর্ঘ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আগামী ১ সেপ্টেম্বর সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়া হবে। ফলে জেলে ও পর্যটকরা ওই দিন থেকেই সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি পাবেন।

একই সঙ্গে সুন্দরবনের পরিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় সবাইকে নির্দেশিত নিয়ম-কানুন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। 

পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. মশিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সুন্দরবন শুধু জীববৈচিত্র্যের আধার নয়, এটি মৎস্যসম্পদেরও গুরুত্বপূর্ণ উৎস। ১ সেপ্টেম্বর থেকে জেলে ও পর্যটকদের সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ফরেস্ট স্টেশনগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে জুন, জুলাই ও আগস্ট সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও মাছের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় তিন মাসের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বন বিভাগ। এই সময়ে জেলেদের মাছ-কাঁকড়া আহরণ, বাওয়ালীদের গোলপাতা ও মধু সংগ্রহ, এমনকি পর্যটকদের বনে প্রবেশও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকে।

এদিকে দীর্ঘ তিন মাস সুন্দরবনে প্রবেশ করতে না পেরে ঋণ করে সংসার চালাতে হয়েছে বলে জানান বনজীবীরা। জেলে আয়ুব আলী, ইসমাইল হোসেন, সুবোল মুন্ডাসহ কয়েকজন বলেন, সুদে টাকা নিয়ে সংসার চালাতে হয়েছে।

আবার এখন সুদ করেই নৌকা, জাল সারাই করছি। বনে গিয়ে মাছ-কাঁকড়া ধরে ঋণ শোধের পাশাপাশি ছেলে-মেয়েদের পড়া-লেখা, বাবা-মায়ের ওষুধ ও সংসারের খরচ জোগাতে হবে। শুধু জেলে নন, সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে যাদের অন্য ধরনের জীবিকা রয়েছে, তারাও তিন মাসের ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা করছেন। 

নীলডুমুর ট্রলার মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম জানান, পর্যটকের ওপর নির্ভর করে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকায় পাঁচ শতাধিক ট্রলার চলে। সুন্দরবনে জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত মাছ ও কাঁকড়া ধরা বন্ধ রাখার পাশাপাশি পর্যটক ঢোকা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এ সময় ট্রলারচালক ও শ্রমিকরা বেকার জীবনযাপন করেন। তাদের সংসার খুব কষ্টে ধারদেনা করে চলে। 

একাধিক জেলে জানান, সুন্দরবনের প্রায় ৭০ ভাগ এলাকা অভয়ারণ্য হিসেবে সবসময়ই বন্ধ থাকে। জেলেদের দাবি, তিন মাসের নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে অসাধু জেলেরা অভয়ারণ্য এলাকায় প্রবেশ করে বিষ দিয়ে মাছ ধরা এবং ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার করে। কারণ অভয়ারণ্য এলাকায় মাছ ও হরিণ শিকার করতে অসাধু চক্রের সুবিধা হয়।

স্থানীয় জেলেদের দাবি, সুন্দরবনের ৬০ ভাগ মাছ-কাঁকড়া আহরণের জন্য উন্মুক্ত করা হোক। এতে সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার ও ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার কমবে।