Dhaka 12:33 am, Tuesday, 1 September 2026
সর্বশেষ
মেঘনা নদীর প্রবাহে বাধা, দখল-ভরাটে বিপন্ন নদী ও পরিবেশ অটিজমে অসামান্য অবদান, ‘মাদার তেরেসা অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন ইয়াশা সোবহান ‘মিনি সিঙ্গাপুর’খ্যাত বসুন্ধরায় ছিনতাই, নিরাপত্তাকর্মীদের তৎপরতায় আটক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টঙ্গীতে ছাত্রলীগের ৫ নেতাকর্মীসহ গ্রেপ্তার ৬ উপসাগরীয় শাসকদের সতর্ক করলেন মোজতবা খামেনি ই-রিকশা ব্যবস্থাপনায় নীতিমালা প্রণয়ন করছে সরকার : স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী নতুন ঝুঁকিতে নেপাল টাঙ্গাইলে ছেলের হাতে বাবা খুন সড়ক দুর্ঘটনায় দুই পক্ষের সমঝোতা, তাসনুভা তিশাকে ৩০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ

২০ টাকার জন্য খুন, ২৫ বছর পর আসামির যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 11:55:41 am, Sunday, 30 August 2026
  • / 11 Time View

দীর্ঘ ২৫ বছর আগে রাজধানীর ডেমরার গোপীবাগে (বর্তমানে ওয়ারী থানা) ২০ টাকার জন্য বাবার সামনে ছেলেকে ছুরিকাঘাতে খুনের দায়ে মনির হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রবিবার (৩০ আগস্ট) ঢাকার ১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জাহিদুল ইসলাম এ রায় দেন।

আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী সোহেল মিয়া বলেন, কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০০১ সালের ৪ ডিসেম্বর বিকেল ৪টার দিকে গোপীবাগ এলাকার মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বের হন নজির আহম্মদ ও তার ছেলে বিপ্লব ওরফে বশির (১৮)। মনির নজির আহম্মদের পাশ দিয়ে দ্রুতগতিতে একটু সামনে গিয়ে বশিরকে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছুরিকাঘাত করে।

বিপ্লব চিৎকার করলে নজির আহম্মদসহ কয়েকজন মিলে মনিরকে জাপটে ধরেন। এরপর বিপ্লবকে উদ্ধার করে প্রথমে মনোয়ারা হাসপাতালে, পরে ন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

এ ঘটনায় ওই দিনই নজির আহম্মদ ডেমরা থানায় হত্যা মামলা করেন।

পরে মনিরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। 

মামলাটি তদন্ত করে পরের বছরের ৩১ মার্চ মনিরকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন ডেমরা থানার এসআই আ. জব্বার। তদন্তে উঠে আসে, মনিরের কাছ থেকে বিপ্লব ২০ টাকা ধার নেন। এই টাকা ফেরত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে মনির বিপ্লবকে খুন করেন।

২০০২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।

বিচার চলাকালে আদালত ৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে। ২০০৯ সালে মনিরকে জামিন দেন আদালত। ২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলেও তিনি পলাতক রয়েছেন। মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত থেকে আজ আসামির সাজার রায় এলো।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

২০ টাকার জন্য খুন, ২৫ বছর পর আসামির যাবজ্জীবন

Update Time : 11:55:41 am, Sunday, 30 August 2026

দীর্ঘ ২৫ বছর আগে রাজধানীর ডেমরার গোপীবাগে (বর্তমানে ওয়ারী থানা) ২০ টাকার জন্য বাবার সামনে ছেলেকে ছুরিকাঘাতে খুনের দায়ে মনির হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রবিবার (৩০ আগস্ট) ঢাকার ১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জাহিদুল ইসলাম এ রায় দেন।

আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী সোহেল মিয়া বলেন, কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০০১ সালের ৪ ডিসেম্বর বিকেল ৪টার দিকে গোপীবাগ এলাকার মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বের হন নজির আহম্মদ ও তার ছেলে বিপ্লব ওরফে বশির (১৮)। মনির নজির আহম্মদের পাশ দিয়ে দ্রুতগতিতে একটু সামনে গিয়ে বশিরকে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছুরিকাঘাত করে।

বিপ্লব চিৎকার করলে নজির আহম্মদসহ কয়েকজন মিলে মনিরকে জাপটে ধরেন। এরপর বিপ্লবকে উদ্ধার করে প্রথমে মনোয়ারা হাসপাতালে, পরে ন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

এ ঘটনায় ওই দিনই নজির আহম্মদ ডেমরা থানায় হত্যা মামলা করেন।

পরে মনিরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। 

মামলাটি তদন্ত করে পরের বছরের ৩১ মার্চ মনিরকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন ডেমরা থানার এসআই আ. জব্বার। তদন্তে উঠে আসে, মনিরের কাছ থেকে বিপ্লব ২০ টাকা ধার নেন। এই টাকা ফেরত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে মনির বিপ্লবকে খুন করেন।

২০০২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।

বিচার চলাকালে আদালত ৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে। ২০০৯ সালে মনিরকে জামিন দেন আদালত। ২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলেও তিনি পলাতক রয়েছেন। মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত থেকে আজ আসামির সাজার রায় এলো।