পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কৌশলগত সংলাপ শুরুর বিষয়ে একমত বাংলাদেশ-চীন
- Update Time : 12:05:26 pm, Sunday, 30 August 2026
- / 3 Time View
বাংলাদেশ ও চীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কৌশলগত সংলাপ দ্রুত শুরু করার বিষয়ে একমত হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ে কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
এ ছাড়া তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার, রোহিঙ্গা সংকট এবং বাংলাদেশ থেকে চীনে কাঁঠাল ও পেয়ারা রপ্তানির প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
রবিবার (৩০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে হুমায়ুন কবির চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও মূল্যবান কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বাংলাদেশের এক চীন নীতির প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের পর দুই দেশের সম্পর্ক ‘ভাগাভাগি ভবিষ্যৎ নিয়ে বাংলাদেশ-চীন সম্প্রদায়’ পর্যায়ে উন্নীত হওয়া এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন গতি আসায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
চীনের রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবিরকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আরো এগিয়ে নিতে তার সহযোগিতা কামনা করেন। চীনের নির্বাহী উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও তিনি হুমায়ুন কবিরকে শুভেচ্ছা জানান।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের বিভিন্ন ফলাফল তুলে ধরেন ইয়াও ওয়েন। এর মধ্যে চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নে বাণিজ্যিক চুক্তি সই এবং মোংলায় রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠায় সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয় উল্লেখ করেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত জানান, সিইআইজেডে প্রায় ৩০টি চীনা কম্পানি বিনিয়োগ করতে পারে। এতে প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ এবং স্থানীয় বাংলাদেশিদের জন্য আনুমানিক এক লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।
এর মধ্যে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কৌশলগত সংলাপ দ্রুত শুরু এবং প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ে কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ চালুর বিষয় ছিল।
এ ছাড়া বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর, রোহিঙ্গা সংকটে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশ থেকে চীনে কাঁঠাল ও পেয়ারা রপ্তানির প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে চীনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থার (সিআইডিসিএ) ভাইস প্রেসিডেন্ট, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী এবং ইউনান প্রদেশের নির্বাহী ভাইস গভর্নরের বাংলাদেশ সফরসহ আসন্ন উচ্চপর্যায়ের সফর ও বিনিময় নিয়েও আলোচনা করা হয়।
এ সময় চীনের রাষ্ট্রদূত আগামী অক্টোবর মাসে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবিরকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান।









