Dhaka 9:31 am, Thursday, 15 October 2026
সর্বশেষ
ক্যান্সারসহ ৭ রোগে অনুদানের জন্য আবেদনকারীদের নতুন নির্দেশনা দক্ষতা উন্নয়নে সুইজারল্যান্ডের ‘ইউপিআর ইনফো’র সঙ্গে ঢাবির চুক্তি ক্যাম্পাসে পশু জবাই নিষিদ্ধ করল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবেলায় নাগরিকদের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তা ফ্যাসিস্ট শক্তি বাংলাদেশে সফল হতে পারবে না : আমানউল্লাহ আমান চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শনে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত দেশে শীত নামবে কবে, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর গ্রিনল্যান্ডে শুরু হবে তেল-গ্যাস ও খনিজ অনুসন্ধান : ট্রাম্প ধবলধোলাই এড়াতে পারল না বাংলাদেশ সিসা দূষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর : পরিবেশমন্ত্রী

এক মাসে ইয়েমেনের নতুন ১৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করেছে হুথিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 11:47:02 am, Wednesday, 14 October 2026
  • / 8 Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
সৌদি আরব এবং সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘাতের ৩৭ দিনে ইয়েমেনের নতুন ১৫ হাজার কিলোমিটার এলাকার দখল নিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। এএফপির এক প্রতিবেদনে জানা গেছে এ তথ্য।

গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে সংঘাত শুরু হয়েছে হুথি বিদ্রোহীদের। সেদিন সৌদির চার শহরে হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাতের সূত্রপাত।

তারপর পেরিয়ে গেছে এক মাস ৭ দিন, অর্থাৎ ৩৭ দিন। এই ৩৭ দিনে একদিকে সৌদি আরবের বিমানবন্দর, জ্বালানি স্থাপনা, রাজধানী রিয়াদসহ বিভিন্ন বড় শহর এমনকি মক্কা-মদিনাতেও ধারাবাহিক ভাবে হামলা অব্যাহত রেখেছে হুথি যোদ্ধারা এবং একই সময়সীমায় ইয়েমেনের নতুন ১৫ হাজার কিলোমিটার এলাকা নিজেদের দখলে এনেছে।

ইয়েমেনের থিংক-ট্যাঙ্ক সানা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডি’ এই সময়কালকে ‘অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও নির্ণায়ক এক ​​পর্যায়’ হিসেবে অভিহিত করেছে। সংস্থার এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেছেন, “এখানে যা ঝুঁকির মুখে রয়েছে তা হলো খোদ ইয়েমেন রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ, ইয়েমেনি নাগরিকরা কেমন সমাজে বসবাস করবেন এবং সেই ভবিষ্যৎ কারা নির্ধারণ করবেন—সেসব বিষয়।”

হামলার এক মাস :
‘এনডিটিভি ডেটাফাইয়ের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ৭ই সেপ্টেম্বর থেকে হুথিরা সৌদি আরবের বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার, পাইপলাইন, গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং সামরিক স্থাপনাগুলোর লক্ষ্য করে অন্তত দুই ডজন বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে কিছু লক্ষ্যবস্তু হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে ১,২৫০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত।

রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত চার দিনের মধ্যে অন্তত তিনবার হামলা করেছে হুথিরা, যার জেরে কর্তৃপক্ষ ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করতে বাধ্য হয়। রয়টার্সের তথ্যমতে, বিমানবন্দরে এসব হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন।

এছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমের শহর আবহা, নাজরান এবং জিজানের বিমানবন্দরগুলোতেও হামলা চালানো হয়েছে।

স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় গত এক মাসে সৌদি আরবের অন্তত নয়টি জ্বালানি স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব স্থাপনার মধ্যে শোধনাগার, তেল ক্ষেত্র এবং গ্যাস প্ল্যান্ট অন্তর্ভুক্ত।

এই হামলাগুলো সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুতর দুর্বলতা উন্মোচন করেছে; কারণ এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। পাশাপাশি, নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দেশটির নির্ভরতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

সংঘাত যেভাবে তীব্র হলো :
জুলাইয়ের শেষের দিকে উত্তেজনা দানা বাঁধতে শুরু করে, যখন বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ ঘোষণা করে। খামিস মুশাইত, নাজরান, জিজান এবং আবহা শহরে হামলার মধ্য দিয়ে এই উত্তেজনা তীব্র হয়ে ওঠে; এসব হামলায় ৭০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন এবং তেল স্থাপনাগুলোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এরপর হুথিরা এক ঝটিকা স্থল অভিযান চালায় এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক কৌশলগত পথ ‘বাব আল-মান্দাব প্রণালী’-র নিকটবর্তী লোহিত সাগরের উপকূলীয় বেশ কিছু এলাকা নিজেদের দখলে নিয়ে নেয়।

এর জবাবে সৌদি আরব বিমান হামলা চালিয়ে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সামরিক অভিযানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে; উল্লেখ্য, ৪ অক্টোবর থেকে ওই সরকারের বাহিনীগুলো কিছু এলাকায় সাফল্য অর্জন করেছে।

ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি:
সানা সেন্টারের সহ-নির্বাহী পরিচালক ওসামা আল-রাওয়ানি বলেন, হুথিদের পরাজিত করা সহজ হবে না, কারণ তারা উল্লেখযোগ্য সামরিক সক্ষমতা গড়ে তুলেছে।

“তবে কোনো এলাকা ধরে রাখা এবং পাল্টা আক্রমণের জন্য প্রয়োজন আর্থিক সম্পদ, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও দৃঢ় সংকল্প—বিশেষ করে রিয়াদের পক্ষ থেকে। সৌদি আরবের অতীতের কর্মকাণ্ড এমন কোনো আস্থার জন্ম দেয় না যে, দীর্ঘস্থায়ী কোনো যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়ার মতো সক্ষমতা বা ধৈর্য তাদের আছে,” এএফপিকে বলেন ওসামা আল-রাওয়ানি।

তবে সংঘাত আরও তীব্র হলে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার ঝুঁকি বাড়বে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে—যে সরবরাহ ব্যবস্থা ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের হামলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া এর ফলে লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপরও হুথিদের হামলার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

এক মাসে ইয়েমেনের নতুন ১৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করেছে হুথিরা

Update Time : 11:47:02 am, Wednesday, 14 October 2026

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
সৌদি আরব এবং সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘাতের ৩৭ দিনে ইয়েমেনের নতুন ১৫ হাজার কিলোমিটার এলাকার দখল নিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। এএফপির এক প্রতিবেদনে জানা গেছে এ তথ্য।

গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে সংঘাত শুরু হয়েছে হুথি বিদ্রোহীদের। সেদিন সৌদির চার শহরে হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাতের সূত্রপাত।

তারপর পেরিয়ে গেছে এক মাস ৭ দিন, অর্থাৎ ৩৭ দিন। এই ৩৭ দিনে একদিকে সৌদি আরবের বিমানবন্দর, জ্বালানি স্থাপনা, রাজধানী রিয়াদসহ বিভিন্ন বড় শহর এমনকি মক্কা-মদিনাতেও ধারাবাহিক ভাবে হামলা অব্যাহত রেখেছে হুথি যোদ্ধারা এবং একই সময়সীমায় ইয়েমেনের নতুন ১৫ হাজার কিলোমিটার এলাকা নিজেদের দখলে এনেছে।

ইয়েমেনের থিংক-ট্যাঙ্ক সানা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডি’ এই সময়কালকে ‘অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও নির্ণায়ক এক ​​পর্যায়’ হিসেবে অভিহিত করেছে। সংস্থার এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেছেন, “এখানে যা ঝুঁকির মুখে রয়েছে তা হলো খোদ ইয়েমেন রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ, ইয়েমেনি নাগরিকরা কেমন সমাজে বসবাস করবেন এবং সেই ভবিষ্যৎ কারা নির্ধারণ করবেন—সেসব বিষয়।”

হামলার এক মাস :
‘এনডিটিভি ডেটাফাইয়ের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ৭ই সেপ্টেম্বর থেকে হুথিরা সৌদি আরবের বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার, পাইপলাইন, গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং সামরিক স্থাপনাগুলোর লক্ষ্য করে অন্তত দুই ডজন বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে কিছু লক্ষ্যবস্তু হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে ১,২৫০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত।

রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত চার দিনের মধ্যে অন্তত তিনবার হামলা করেছে হুথিরা, যার জেরে কর্তৃপক্ষ ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করতে বাধ্য হয়। রয়টার্সের তথ্যমতে, বিমানবন্দরে এসব হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন।

এছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমের শহর আবহা, নাজরান এবং জিজানের বিমানবন্দরগুলোতেও হামলা চালানো হয়েছে।

স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় গত এক মাসে সৌদি আরবের অন্তত নয়টি জ্বালানি স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব স্থাপনার মধ্যে শোধনাগার, তেল ক্ষেত্র এবং গ্যাস প্ল্যান্ট অন্তর্ভুক্ত।

এই হামলাগুলো সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুতর দুর্বলতা উন্মোচন করেছে; কারণ এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। পাশাপাশি, নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দেশটির নির্ভরতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

সংঘাত যেভাবে তীব্র হলো :
জুলাইয়ের শেষের দিকে উত্তেজনা দানা বাঁধতে শুরু করে, যখন বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ ঘোষণা করে। খামিস মুশাইত, নাজরান, জিজান এবং আবহা শহরে হামলার মধ্য দিয়ে এই উত্তেজনা তীব্র হয়ে ওঠে; এসব হামলায় ৭০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন এবং তেল স্থাপনাগুলোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এরপর হুথিরা এক ঝটিকা স্থল অভিযান চালায় এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক কৌশলগত পথ ‘বাব আল-মান্দাব প্রণালী’-র নিকটবর্তী লোহিত সাগরের উপকূলীয় বেশ কিছু এলাকা নিজেদের দখলে নিয়ে নেয়।

এর জবাবে সৌদি আরব বিমান হামলা চালিয়ে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সামরিক অভিযানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে; উল্লেখ্য, ৪ অক্টোবর থেকে ওই সরকারের বাহিনীগুলো কিছু এলাকায় সাফল্য অর্জন করেছে।

ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি:
সানা সেন্টারের সহ-নির্বাহী পরিচালক ওসামা আল-রাওয়ানি বলেন, হুথিদের পরাজিত করা সহজ হবে না, কারণ তারা উল্লেখযোগ্য সামরিক সক্ষমতা গড়ে তুলেছে।

“তবে কোনো এলাকা ধরে রাখা এবং পাল্টা আক্রমণের জন্য প্রয়োজন আর্থিক সম্পদ, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও দৃঢ় সংকল্প—বিশেষ করে রিয়াদের পক্ষ থেকে। সৌদি আরবের অতীতের কর্মকাণ্ড এমন কোনো আস্থার জন্ম দেয় না যে, দীর্ঘস্থায়ী কোনো যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়ার মতো সক্ষমতা বা ধৈর্য তাদের আছে,” এএফপিকে বলেন ওসামা আল-রাওয়ানি।

তবে সংঘাত আরও তীব্র হলে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার ঝুঁকি বাড়বে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে—যে সরবরাহ ব্যবস্থা ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের হামলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া এর ফলে লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপরও হুথিদের হামলার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।