Dhaka 3:39 pm, Friday, 16 October 2026
সর্বশেষ
সিআইসিএ সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য চলাকালে বাংলাদেশের ওয়াকআউট পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর দুর্গাপূজার আগে ৩৪ স্থানে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ বিদেশি কম্পানিকে কনটেইনার টার্মিনাল লিজের সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী : বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ১৮ তারিখ পর্যন্ত দাম্মাম ও রিয়াদগামী সব ফ্লাইট স্থগিত পরিবারসহ সাবেক এসবি প্রধান মনিরুলের ৮৩ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ সরকারি আবাসন বরাদ্দে স্বচ্ছতা ও গতি আনতে চালু হলো অনলাইন সেবা মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ হবে যে প্রক্রিয়ায় বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় যাবেন ১০ হাজার কর্মী, নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু মাদকাসক্তির ভয়ানক বলি নিহত ১, আশঙ্কা জনক ২

তুরস্কের উপকূলে মিললো বিশ্বের প্রাচীনতম জাহাজডুবির সন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 02:32:48 pm, Wednesday, 14 October 2026
  • / 16 Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
তুরস্কের উপকূলে বিশ্বের প্রাচীনতম জাহাজডুবির সন্ধান পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকেরা। তাদের ধারণা, জাহাজটি প্রায় ৪ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৭০০ বছর আগে ডুবে গিয়েছিল। সে সময়টি ছিল ব্রোঞ্জ যুগের শুরুর দিক, যখন মিসরের বিখ্যাত গিজার মহাপিরামিড নির্মাণের কাজ চলছিল।

জাহাজটির কাঠের কাঠামো এত দিনে নষ্ট হয়ে গেছে। তবে জাহাজে বহন করা মাটির তৈরি বড় বড় পাত্র এখনো সমুদ্রের তলদেশে ছড়িয়ে রয়েছে। আশ্চর্যের বিষয়, কয়েকটি পাত্রের ভেতরে সেগুলোতে রাখা পণ্যের অবশিষ্টাংশও পাওয়া গেছে।

প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, জাহাজটি প্রায় ১০ মিটার লম্বা ছিল। এটি ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে পণ্য পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি বাণিজ্যিক জাহাজ।

অভিযানটির নেতৃত্ব দেন তুরস্কের আকদেনিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাকান ওনিজ। ভূমধ্যসাগরীয় প্রত্নতত্ত্ব সমিতির এই অভিযানের সন্ধান সম্পর্কে তিনি বলেন, সমুদ্রের তলদেশে এই জাহাজডুবি যেন একটি সময়ের ক্যাপসুল।

তুরস্কের আনতালিয়া উপকূলের কাছে কেকোভা দ্বীপের পাশে জাহাজটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৩০ মিটার গভীরে পানির নিচের একটি ঢালু এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে প্রত্নবস্তুগুলো।

সেখানে তিনটি বড় পাথরের নোঙর এবং ৩০টিরও বেশি মাটির তৈরি পণ্য রাখার পাত্র পাওয়া গেছে। এ ধরনের পাত্রকে অ্যাম্ফোরা বলা হয়।

পাত্রের গঠন দেখে বয়স নির্ধারণ
জাহাজটির কাঠের কোনো অংশ অবশিষ্ট না থাকায় এর বয়স নির্ধারণে তেজস্ক্রিয় কার্বন পরীক্ষার মতো পদ্ধতি ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। এ পদ্ধতিতে জৈব পদার্থের মধ্যে থাকা কার্বনের একটি বিশেষ ধরনের পরিমাণ বিশ্লেষণ করে বয়স নির্ধারণ করা হয়।

তাই প্রত্নতাত্ত্বিকেরা পাত্রগুলোর আকৃতি ও নকশা বিশ্লেষণ করে জাহাজটির বয়স নির্ধারণ করেছেন। সময়ের সঙ্গে মাটির পাত্র তৈরির ধরন বদলে যাওয়ায় এসব বৈশিষ্ট্য থেকে নির্দিষ্ট সময়কাল সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

কেকোভায় পাওয়া পাত্রগুলোর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এগুলোর দুটি হাতল, মাঝখানে একটি উঁচু রেখা এবং সমতল তলা রয়েছে। অধ্যাপক ওনিজ জানান, মিসর ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে পাওয়া একই ধরনের পাত্রের সঙ্গে এগুলোর মিল রয়েছে। সেসব পাত্রের বয়সও প্রায় ৪ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৭০০ বছর বলে জানা গেছে।

তিনি বলেন, সাজসজ্জার কৌশলগুলোর তুলনা করে আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, আমাদের পাওয়া জাহাজডুবিটি ব্রোঞ্জ যুগের শুরুর দিকের। এ বিষয়ে আমরা শতভাগ নিশ্চিত।

অভিযানে অংশ নেওয়া ডুবুরিরা সমুদ্রের তলদেশ থেকে পাত্রগুলো তুলে এনেছেন। হাজার হাজার বছর পানির নিচে থাকার পর প্রত্নবস্তুগুলো যাতে নষ্ট না হয়, সে জন্য সেগুলো এখন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

তুরস্কের উপকূলে মিললো বিশ্বের প্রাচীনতম জাহাজডুবির সন্ধান

Update Time : 02:32:48 pm, Wednesday, 14 October 2026

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
তুরস্কের উপকূলে বিশ্বের প্রাচীনতম জাহাজডুবির সন্ধান পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকেরা। তাদের ধারণা, জাহাজটি প্রায় ৪ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৭০০ বছর আগে ডুবে গিয়েছিল। সে সময়টি ছিল ব্রোঞ্জ যুগের শুরুর দিক, যখন মিসরের বিখ্যাত গিজার মহাপিরামিড নির্মাণের কাজ চলছিল।

জাহাজটির কাঠের কাঠামো এত দিনে নষ্ট হয়ে গেছে। তবে জাহাজে বহন করা মাটির তৈরি বড় বড় পাত্র এখনো সমুদ্রের তলদেশে ছড়িয়ে রয়েছে। আশ্চর্যের বিষয়, কয়েকটি পাত্রের ভেতরে সেগুলোতে রাখা পণ্যের অবশিষ্টাংশও পাওয়া গেছে।

প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, জাহাজটি প্রায় ১০ মিটার লম্বা ছিল। এটি ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে পণ্য পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি বাণিজ্যিক জাহাজ।

অভিযানটির নেতৃত্ব দেন তুরস্কের আকদেনিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাকান ওনিজ। ভূমধ্যসাগরীয় প্রত্নতত্ত্ব সমিতির এই অভিযানের সন্ধান সম্পর্কে তিনি বলেন, সমুদ্রের তলদেশে এই জাহাজডুবি যেন একটি সময়ের ক্যাপসুল।

তুরস্কের আনতালিয়া উপকূলের কাছে কেকোভা দ্বীপের পাশে জাহাজটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৩০ মিটার গভীরে পানির নিচের একটি ঢালু এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে প্রত্নবস্তুগুলো।

সেখানে তিনটি বড় পাথরের নোঙর এবং ৩০টিরও বেশি মাটির তৈরি পণ্য রাখার পাত্র পাওয়া গেছে। এ ধরনের পাত্রকে অ্যাম্ফোরা বলা হয়।

পাত্রের গঠন দেখে বয়স নির্ধারণ
জাহাজটির কাঠের কোনো অংশ অবশিষ্ট না থাকায় এর বয়স নির্ধারণে তেজস্ক্রিয় কার্বন পরীক্ষার মতো পদ্ধতি ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। এ পদ্ধতিতে জৈব পদার্থের মধ্যে থাকা কার্বনের একটি বিশেষ ধরনের পরিমাণ বিশ্লেষণ করে বয়স নির্ধারণ করা হয়।

তাই প্রত্নতাত্ত্বিকেরা পাত্রগুলোর আকৃতি ও নকশা বিশ্লেষণ করে জাহাজটির বয়স নির্ধারণ করেছেন। সময়ের সঙ্গে মাটির পাত্র তৈরির ধরন বদলে যাওয়ায় এসব বৈশিষ্ট্য থেকে নির্দিষ্ট সময়কাল সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

কেকোভায় পাওয়া পাত্রগুলোর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এগুলোর দুটি হাতল, মাঝখানে একটি উঁচু রেখা এবং সমতল তলা রয়েছে। অধ্যাপক ওনিজ জানান, মিসর ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে পাওয়া একই ধরনের পাত্রের সঙ্গে এগুলোর মিল রয়েছে। সেসব পাত্রের বয়সও প্রায় ৪ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৭০০ বছর বলে জানা গেছে।

তিনি বলেন, সাজসজ্জার কৌশলগুলোর তুলনা করে আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, আমাদের পাওয়া জাহাজডুবিটি ব্রোঞ্জ যুগের শুরুর দিকের। এ বিষয়ে আমরা শতভাগ নিশ্চিত।

অভিযানে অংশ নেওয়া ডুবুরিরা সমুদ্রের তলদেশ থেকে পাত্রগুলো তুলে এনেছেন। হাজার হাজার বছর পানির নিচে থাকার পর প্রত্নবস্তুগুলো যাতে নষ্ট না হয়, সে জন্য সেগুলো এখন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।