পাকিস্তানে ইমরান-সমর্থকদের বিক্ষোভে পুলিশের গুলি, আহত ৫
- Update Time : 02:36:52 pm, Wednesday, 14 October 2026
- / 8 Time View
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) শক্ত ঘাঁটি খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারির প্রতিবাদে বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় পুলিশের গুলিতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
প্রাদেশিক সরকার স্থগিত করে কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্তে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা।
সংবাদমাধ্যমটির নিউজফিডের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এ প্রদেশে জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারির পর থেকেই প্রতিবাদ জানাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা।
পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের অভিযোগ, নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে প্রাদেশিক সরকার।
এ অভিযোগের ভিত্তিতে জরুরি অবস্থা জারি এবং নির্বাচিত প্রাদেশিক সরকারের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। পরে প্রদেশটিতে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে ইমরান খানের দল পিটিআই এ পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। দলটির অভিযোগ, ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদমুখী কর্মসূচি ঠেকাতেই কেন্দ্রীয় সরকার প্রাদেশিক সরকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।
বিক্ষোভকারীদের একজন ব্যবসায়ী তারেক আলী সরকারের সমালোচনা করে বলেন, সরকার সব সময়ই সন্ত্রাসীদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল। তার মতে, সংবিধান জনগণের মতামত উপেক্ষা করার অধিকার কাউকে দেয় না। চার কোটি মানুষের নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীকে উপেক্ষা করে কীভাবে প্রদেশ শাসন করা সম্ভব, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
এদিকে সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আরিফা নূর মনে করেন, সন্ত্রাসবাদ দমনের সঙ্গে জরুরি অবস্থা জারির সরাসরি সম্পর্ক স্পষ্ট নয়। তার মতে, বিরোধী দলের নেতৃত্বাধীন প্রাদেশিক সরকারকে মেনে নিতে অনীহাও কেন্দ্রের এ সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
গত এক সপ্তাহ ধরে ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে খাইবার পাখতুনখোয়ায় মিছিল, সমাবেশ ও পদযাত্রা করেছেন তার হাজার হাজার সমর্থক। ২০১৩ সাল থেকে প্রদেশটিতে পিটিআইয়ের রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি অবস্থা জারি এবং নির্বাচিত সরকারকে স্থগিত করার সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পর্যবেক্ষকেরা।
তথ্যসূত্র: আলজাজিরা, রয়টার্স।












