Dhaka 5:42 am, Thursday, 15 October 2026
সর্বশেষ
ক্যান্সারসহ ৭ রোগে অনুদানের জন্য আবেদনকারীদের নতুন নির্দেশনা দক্ষতা উন্নয়নে সুইজারল্যান্ডের ‘ইউপিআর ইনফো’র সঙ্গে ঢাবির চুক্তি ক্যাম্পাসে পশু জবাই নিষিদ্ধ করল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবেলায় নাগরিকদের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তা ফ্যাসিস্ট শক্তি বাংলাদেশে সফল হতে পারবে না : আমানউল্লাহ আমান চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শনে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত দেশে শীত নামবে কবে, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর গ্রিনল্যান্ডে শুরু হবে তেল-গ্যাস ও খনিজ অনুসন্ধান : ট্রাম্প ধবলধোলাই এড়াতে পারল না বাংলাদেশ সিসা দূষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর : পরিবেশমন্ত্রী

গ্রিনল্যান্ডে শুরু হবে তেল-গ্যাস ও খনিজ অনুসন্ধান : ট্রাম্প

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 03:12:25 pm, Wednesday, 14 October 2026
  • / 8 Time View

গ্রিনল্যান্ডের বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ ও কৌশলগত অবস্থানকে ঘিরে নতুন করে আগ্রহ দেখাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দ্বীপটিতে তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ডের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন তিনি। 

ট্রাম্পের দাবি, গ্রিনল্যান্ডে বিপুল পরিমাণ তেল ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, দ্বীপটিতে ব্যাপকভাবে তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান শুরু হতে যাচ্ছে। তবে এ কাজে যুক্তরাষ্ট্র কিভাবে অংশ নেবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে গ্রিনল্যান্ড সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া ও উত্তর আমেরিকার মধ্যবর্তী আর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত এই দ্বীপ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ও নজরদারির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও গ্রিনল্যান্ডের অবস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এ ছাড়া, দ্বীপটিতে বিপুল পরিমাণ অনাবিষ্কৃত খনিজ সম্পদ রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আর্কটিক অঞ্চলের বরফ গলে নতুন নৌপথ উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও গ্রিনল্যান্ডের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব বাড়িয়ে তুলেছে। 

এর আগে গত আগস্টে পূর্ব গ্রিনল্যান্ডের একটি প্রত্যন্ত এলাকায় মার্কিন একটি তেল কম্পানির প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের খবর প্রকাশিত হলে স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। একই পোস্টে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি আরো জানান, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কোনো হামলা হলে গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে। সেখানে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের আকাশপথের হুমকি মোকাবেলায় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি।

ট্রাম্প আরো বলেন, গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রকে এমন সময়, কৌশলগত অবস্থান ও নজরদারির সুযোগ দেবে, যা বিশ্বের অন্য কোথাও পাওয়া কঠিন। গত সেপ্টেম্বরে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র একটি নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর করে। ১০ পৃষ্ঠার ওই চুক্তি অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে দুটি নতুন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমানে উত্তর গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের পিটুফিক সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, দক্ষিণে নার্সারসুয়াক এবং পূর্বাঞ্চলে মেস্টারসভিগে আরো দুটি ঘাঁটি স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিও বাড়তে পারে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

গ্রিনল্যান্ডে শুরু হবে তেল-গ্যাস ও খনিজ অনুসন্ধান : ট্রাম্প

Update Time : 03:12:25 pm, Wednesday, 14 October 2026

গ্রিনল্যান্ডের বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ ও কৌশলগত অবস্থানকে ঘিরে নতুন করে আগ্রহ দেখাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দ্বীপটিতে তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ডের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন তিনি। 

ট্রাম্পের দাবি, গ্রিনল্যান্ডে বিপুল পরিমাণ তেল ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, দ্বীপটিতে ব্যাপকভাবে তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান শুরু হতে যাচ্ছে। তবে এ কাজে যুক্তরাষ্ট্র কিভাবে অংশ নেবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে গ্রিনল্যান্ড সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া ও উত্তর আমেরিকার মধ্যবর্তী আর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত এই দ্বীপ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ও নজরদারির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও গ্রিনল্যান্ডের অবস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এ ছাড়া, দ্বীপটিতে বিপুল পরিমাণ অনাবিষ্কৃত খনিজ সম্পদ রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আর্কটিক অঞ্চলের বরফ গলে নতুন নৌপথ উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও গ্রিনল্যান্ডের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব বাড়িয়ে তুলেছে। 

এর আগে গত আগস্টে পূর্ব গ্রিনল্যান্ডের একটি প্রত্যন্ত এলাকায় মার্কিন একটি তেল কম্পানির প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের খবর প্রকাশিত হলে স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। একই পোস্টে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি আরো জানান, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কোনো হামলা হলে গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে। সেখানে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের আকাশপথের হুমকি মোকাবেলায় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি।

ট্রাম্প আরো বলেন, গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রকে এমন সময়, কৌশলগত অবস্থান ও নজরদারির সুযোগ দেবে, যা বিশ্বের অন্য কোথাও পাওয়া কঠিন। গত সেপ্টেম্বরে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র একটি নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর করে। ১০ পৃষ্ঠার ওই চুক্তি অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে দুটি নতুন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমানে উত্তর গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের পিটুফিক সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, দক্ষিণে নার্সারসুয়াক এবং পূর্বাঞ্চলে মেস্টারসভিগে আরো দুটি ঘাঁটি স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিও বাড়তে পারে।