রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা-ভাঙচুর : গ্রেপ্তার আরো দুই আসামি কারাগারে
- Update Time : 04:36:40 pm, Monday, 28 September 2026
- / 6 Time View
রাজধানীর মিরপুর-১ রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার আরো দুই আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তারা হলেন মো. মিন্টু (৩৫) ও মো. মিলন (৪৫)।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালত পুলিশের পৃথক দুই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আসামিদের জামিন শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক লুৎফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দুই আসামিকে কারাগারে পাঠিয়ে তাদের আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার জামিন শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।
এর আগে আসামিদের আদালতে হাজির করে তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলী থানার উপপরিদর্শক মো. আতোয়ার রহমান।
পুলিশের আবেদনে বলা হয়, আসামি মিন্টুর কোথাও জমিজমা বা বাড়িঘর নেই। তিনি ঢাকায় ভাসমানভাবে বসবাস করেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন।
জামিনে মুক্তি পেলে তিনি পালিয়ে যেতে পারেন। প্রয়োজন হলে পরবর্তী সময়ে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হবে।
অন্য আবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তারের সময় মিলনের বাঁ হাতের মাঝের তিন আঙুলে ব্যান্ডেজ ছিল। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি জানান, গ্রেপ্তারের দুই থেকে তিন দিন আগে বাসায় এসির কাজ করার সময় হাতে আঘাত পেয়েছেন। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে মামলার ঘটনায় তার জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।
মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন।
এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর চারজন এবং ২৭ সেপ্টেম্বর আরো ছয়জনকে এই মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়। নতুন দুই আসামিকে নিয়ে এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে কারাগারে পাঠানো হলো।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে শাহ আলী থানাধীন রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হ্যামার, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল লোক প্রবেশ করে। তারা প্রতিষ্ঠানের প্রাচীর টপকে ভেতরে ঢুকে দায়িত্ব পালনরত দুই নৈশপ্রহরী আন্দ্রিয় সরকার (৪৩) ও মো. আব্দুল হাইকে (৬৩) মারধর করে বেঁধে রাখে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে হামলাকারীরা হ্যামার দিয়ে প্রধান ফটক ভেঙে একটি ভেকু নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর পূর্ব পাশের প্রায় ২৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৫ ফুট প্রস্থের একটি সেমিপাকা ঘর ভেকু দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। এতে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেওয়ার আরেকটি সেমিপাকা ঘর ও এর আসবাব ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া ক্লিনিক ইনচার্জ, চিকিৎসক ও ডেপুটি ক্লিনিক ইনচার্জের ব্যবহৃত সেমিপাকা ঘর এবং সেখানে থাকা আসবাব ও যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
রেজিস্ট্রেশন শাখায়ও ভাঙচুর চালানো হয়। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আল্ট্রাসনোগ্রাম, টিকাদান ও ল্যাবরেটরি কক্ষের পাকা ভবনের দরজা-জানালা ভাঙচুরে আরো প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।
এজাহারে আরো বলা হয়েছে, হামলাকারীরা ক্লিনিক থেকে বিভিন্ন ওষুধ ও সামগ্রী, দুটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, দুটি কম্পিউটার, দুটি প্রিন্টার, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি ও তিনটি স্টিলের আলমারি নিয়ে যায়। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ৬০ লাখ টাকা।
এজাহার অনুযায়ী, পাঁচটি ঘর, দরজা-জানালা ভাঙচুর এবং মালামাল লুটে মোট প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় নৈশপ্রহরীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেয় এবং সেখানে একটি দোকানদার সমবায় সমিতির ব্যানার ও সাইনবোর্ড লাগিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক চিকিৎসক নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় মামলা করেন। মামলায় মো. হানিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।








