Dhaka 11:10 pm, Tuesday, 29 September 2026
সর্বশেষ
ওসির কক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে ‘থানার ইট খুলে নেওয়ার’ হুঁশিয়ারি এনসিপি নেতার ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১ ওয়ার্ল্ড এনার্জিস সামিটে দেশের অফশোর জ্বালানি সম্ভাবনা তুলে ধরলেন প্রতিমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে নাটকীয়ভাবে বেড়েছে দক্ষিণ এশীয়দের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ গাইবান্ধায় অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই অসুস্থ গরু জবাই, জরিমানা টঙ্গীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ৪ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার অনিয়মের জন্য ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল মাদরাসায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ ৫ শিক্ষার্থীর একজনের মৃত্যু ‘তোরা আমাকে ভালো হতে দিলি না’, কাদের উদ্দেশে বললেন সালমান মুক্তাদির? হামলা-ভাঙচুর মামলায় জামায়াত এমপির জামাতা মিজানুর কারাগারে

মসজিদের পাশের কক্ষে ইমামের লাশ, একই কক্ষে আহত বন্ধু

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 01:53:47 pm, Monday, 28 September 2026
  • / 6 Time View

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে মসজিদের পাশের কক্ষ থেকে এক ইমামের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই কক্ষ থেকে তার বন্ধু সোহানকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চর-ঝাকালিয়া গ্রামের ইছামুদ্দিন সরকার বাড়ির মসজিদ সংলগ্ন একটি ছোট কক্ষ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

মৃত ইমামের নাম শামীম মিয়া (২৫)। তিনি ওই গ্রামের ফরিদ মিয়ার ছেলে। স্থানীয় মাদরাসায় পড়াশোনার পাশাপাশি ওই মসজিদের ইমাম ছিলেন।

আহত সোহান (২৪) একই গ্রামের মৃত ছইদু মিয়ার ছেলে। তারা দুজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। 

স্থানীয় একাধিক মুসল্লি জানান, ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়ায় মাঝেমধ্যে মসজিদ সংলগ্ন ওই কক্ষে একসঙ্গে রাত যাপন করতেন ইমাম ও সোহান। রবিবার মধ্যরাতে ওই কক্ষ থেকে হট্টগোলের শব্দ শুনে সেখানে যান কয়েকজন মুসল্লি।

এ সময় সোহানকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার গলা ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। শামীম তাকে আঘাত করেছেন বলেও জানান সোহান। পরে আহত অবস্থায় সোহানকে উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান স্থানীয় লোকজন। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এরপর শামীমের বাবা ফরিদ মিয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে মসজিদ সংলগ্ন ওই কক্ষে ছেলের লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে ভোরে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।

শামীমের বাবা ফরিদ মিয়া বলেন, শামীম এলাকায় কারো সঙ্গে ঝগড়ায় জড়াতে না। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে বলে আমার সন্দেহ। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানাচ্ছি।

সোহানের চাচি স্বপ্না বলেন, প্রতিবেশীদের কাছ থেকে হট্টগোলের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে সোহানকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাই। তার গলা ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। শামীম তাকে আঘাত করেছেন বলে জানিয়েছিল সোহান। তবে তাদের মধ্যে কোরো বিরোধ ছিল বলে আমাদের জানা ছিল না।

জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, ‘কি কারণে ঘটনাটি ঘটেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশের তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’

কটিয়াদী মডেল থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থলের আলামত দেখে শামীমের মৃত্যুর ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহত সোহানের জবানবন্দি পাওয়া গেলে ঘটনা সম্পর্কে আরো তথ্য জানা যাবে।’

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মসজিদের পাশের কক্ষে ইমামের লাশ, একই কক্ষে আহত বন্ধু

Update Time : 01:53:47 pm, Monday, 28 September 2026

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে মসজিদের পাশের কক্ষ থেকে এক ইমামের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই কক্ষ থেকে তার বন্ধু সোহানকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চর-ঝাকালিয়া গ্রামের ইছামুদ্দিন সরকার বাড়ির মসজিদ সংলগ্ন একটি ছোট কক্ষ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

মৃত ইমামের নাম শামীম মিয়া (২৫)। তিনি ওই গ্রামের ফরিদ মিয়ার ছেলে। স্থানীয় মাদরাসায় পড়াশোনার পাশাপাশি ওই মসজিদের ইমাম ছিলেন।

আহত সোহান (২৪) একই গ্রামের মৃত ছইদু মিয়ার ছেলে। তারা দুজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। 

স্থানীয় একাধিক মুসল্লি জানান, ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়ায় মাঝেমধ্যে মসজিদ সংলগ্ন ওই কক্ষে একসঙ্গে রাত যাপন করতেন ইমাম ও সোহান। রবিবার মধ্যরাতে ওই কক্ষ থেকে হট্টগোলের শব্দ শুনে সেখানে যান কয়েকজন মুসল্লি।

এ সময় সোহানকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার গলা ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। শামীম তাকে আঘাত করেছেন বলেও জানান সোহান। পরে আহত অবস্থায় সোহানকে উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান স্থানীয় লোকজন। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এরপর শামীমের বাবা ফরিদ মিয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে মসজিদ সংলগ্ন ওই কক্ষে ছেলের লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে ভোরে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।

শামীমের বাবা ফরিদ মিয়া বলেন, শামীম এলাকায় কারো সঙ্গে ঝগড়ায় জড়াতে না। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে বলে আমার সন্দেহ। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানাচ্ছি।

সোহানের চাচি স্বপ্না বলেন, প্রতিবেশীদের কাছ থেকে হট্টগোলের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে সোহানকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাই। তার গলা ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। শামীম তাকে আঘাত করেছেন বলে জানিয়েছিল সোহান। তবে তাদের মধ্যে কোরো বিরোধ ছিল বলে আমাদের জানা ছিল না।

জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, ‘কি কারণে ঘটনাটি ঘটেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশের তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’

কটিয়াদী মডেল থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থলের আলামত দেখে শামীমের মৃত্যুর ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহত সোহানের জবানবন্দি পাওয়া গেলে ঘটনা সম্পর্কে আরো তথ্য জানা যাবে।’