ভারতীয় সেই নাগরিক রবিউল ফের ৪ দিনের রিমান্ডে
- Update Time : 11:54:00 am, Sunday, 27 September 2026
- / 7 Time View
নাশকতার সম্পৃক্তার সন্দেহ, পাসপোর্ট, এনআইডি ও ড্রাইভিং লাইসেন্সে জন্ম তারিখের ভিন্নতা এবং অসংলগ্ন তথ্যের কারণে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা রবিউল ইসলামকে (৪৪) চার দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ফের আরও চার দিনের দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন মাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে গত বুধবার ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় রবিউলকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন গোয়েন্দা পুলিশের রমনা বিভাগের এসআই বিনয় কুমার রায়। ওইদিন তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। আজ দ্বিতীয় দফার রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, চারদিনের রিমান্ডে আসামির কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
ওই তথ্য যাচাইয়ের জন্য তাকে পূনরায় সাত দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।
এদিন তদন্ত কর্মকর্তা আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি আদালতকে বলেন, ‘এ আসামিকে চার দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে কিছু তথ্য পেয়েছি সেগুলো যাচাই-বাছাই করতে আরো রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাই’।
একই সাথে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ তার রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। তারা আদালতে বলেন, ‘সে বৈধ ভাবেই এদেশে এসেছে। তাকে গ্রেপ্তার করে ইতোমধ্যে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে, অদ্ভুত কথা বলে আবারও রিমান্ড চাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। চার দিনের রিমান্ডের কোনো অগ্রগতিও নেই।’ পরে আদালত আদেশ পর্যালোচনার জন্য রেখে কিছুক্ষণ পরে চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
রিমান্ড আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, রবিউল ইসলাম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার মাটিয়া থানার গৌড়ি ভোজ গ্রামের বাসিন্দা শহীদুল ইসলামের ছেলে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর রোডের ৬০ নম্বর বাসার নিচতলা থেকে তাকে আটক করা হয়।
গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, রবিউল ইসলাম গত ১৪ সেপ্টেম্বর ভারত থেকে বাংলাদেশে আসে। এরপর তার গতিবিধি সন্দেহজনক ছিল। নিজেকে ভারতীয় নাগরিক দাবি করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে পাসপোর্ট দেখালেও পরবর্তীতে তার কাছে থাকা ভারতীয় পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও এনআইডি পরীক্ষা করা হয়। এতে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও এনআইডিতে থাকা জন্মতারিখের সঙ্গে পাসপোর্টের জন্ম তারিখের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। আবেদনে আরো বলা হয়, রবিউল এর আগেও একাধিকবার বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করলেও এর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ দেখাতে পারেনি। একেক সময় একেক ধরনের তথ্য দিয়ে সে তদন্ত বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, রবিউল বাংলাদেশে কোনো ধর্তব্য অপরাধ বা সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে প্রবল সন্দেহ করা হচ্ছে।








