Dhaka 12:56 pm, Friday, 9 October 2026
সর্বশেষ
১০ টাকা কেজিতে ২৪ ঘণ্টায় পার্সেল পৌঁছে দিচ্ছে ডাক বিভাগ কপাল পুড়ল অতিরিক্ত ডিআইজি টুটুল চক্রবর্তীর জোনভিত্তিক রং ব্যবহারের পরিকল্পনা কতটুকু কার্যকর নারায়ণগঞ্জে ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ১২২ রাজধানীতে প্রতি রুটে চলবে নির্দিষ্ট এক কোম্পানির বাস পুলিশের গাড়িতে ইট পাটকেল নিক্ষেপে ওসিসহ আহত ৩শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক ভুয়া তথ্য দিয়ে জন্ম নিবন্ধনের চেষ্টা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একজনের কারাদণ্ড ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে প্রযুক্তির রপ্তানিকারক হতে হবে : জনপ্রশাসন উপদেষ্টা মা-ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী দুর্যোগ-সহনশীল আবাসনে ১০ কোটি ডলার ঋণ, উপকৃত হবে ৪০ হাজার পরিবার

কপাল পুড়ল অতিরিক্ত ডিআইজি টুটুল চক্রবর্তীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 05:48:51 am, Friday, 9 October 2026
  • / 2 Time View

নিজেকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি পরিচয় দিয়ে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার ও অনুমোদিত ছুটির আগেই বিধিবহির্ভূতভাবে কর্মস্থল ত্যাগের অভিযোগে অতিরিক্ত ডিআইজি টুটুল চক্রবর্তীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত করা প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, রাজশাহীতে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে কর্মরত থাকাবস্থায় টুটুল চক্রবর্তীর ২০২৫ সালের ১৪ ও ১৫ নভেম্বর দুদিনের কর্মস্থল ত্যাগের অনুমতি এবং ১৬ থেকে ১৮ নভেম্বর তিন দিনের নৈমিত্তিক ছুটি মঞ্জুর ছিল। কিন্তু তিনি ১৩ নভেম্বর পূর্বাহ্নে কোনো প্রস্থান প্রতিবেদন দাখিল না করেই কর্মস্থল ত্যাগ করেন। এরপর ওই দিনই তিনি নিজেকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি পরিচয় দিয়ে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করেন।

পরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে রাজশাহী থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। 

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, টুটুল চক্রবর্তী এর আগেও কয়েকবার রাজশাহী বিমানবন্দরে নিজেকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি পরিচয় দিয়ে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করেন। বিষয়টি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসে। এ ঘটনা জনসম্মুখে পুলিশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন করেছে।

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে টুটুলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। পরে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি কোনো লিখিত জবাব দেননি। এমনকি সময় বাড়ানোর জন্যও আবেদন করেননি।

পরে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় গত ২ এপ্রিল তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা ৭ মে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। এতে টুটুল চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তিনি ২৩ জানুয়ারি থেকে পলাতক রয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।

গত ১৬ জুন দ্বিতীয়বার তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এতে কেন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অন্য কোনো গুরুদণ্ড দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। তবে তিনি এর কোনো জবাব দেননি। পরে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে গত ২৩ জুলাই বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ চাওয়া হয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর পিএসসি তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়া যেতে পারে বলে মত দিলে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে গত ৫ অক্টোবর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, টুটুল চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। পাশাপাশি তিনি গত ২৩ জানুয়ারি থেকে কর্মস্থল থেকে পলাতক রয়েছেন। এসব কারণে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

জানা গেছে, টুটুল চক্রবর্তীর বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায়। তিনি ২০তম বিসিএসে ২০০১ সালের ৩১ মে পুলিশে যোগ দেন। তিনি ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার ও ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২২ সালের ৩১ মে তিনি পুলিশ সুপার থেকে অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি পান। চাকরি জীবনে তিনি ডিএমপির ডিসি ছাড়াও সিরাজগঞ্জ ও কুমিল্লার পুলিশ সুপার ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি বিপিএম পদক পান। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

কপাল পুড়ল অতিরিক্ত ডিআইজি টুটুল চক্রবর্তীর

Update Time : 05:48:51 am, Friday, 9 October 2026

নিজেকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি পরিচয় দিয়ে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার ও অনুমোদিত ছুটির আগেই বিধিবহির্ভূতভাবে কর্মস্থল ত্যাগের অভিযোগে অতিরিক্ত ডিআইজি টুটুল চক্রবর্তীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত করা প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, রাজশাহীতে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে কর্মরত থাকাবস্থায় টুটুল চক্রবর্তীর ২০২৫ সালের ১৪ ও ১৫ নভেম্বর দুদিনের কর্মস্থল ত্যাগের অনুমতি এবং ১৬ থেকে ১৮ নভেম্বর তিন দিনের নৈমিত্তিক ছুটি মঞ্জুর ছিল। কিন্তু তিনি ১৩ নভেম্বর পূর্বাহ্নে কোনো প্রস্থান প্রতিবেদন দাখিল না করেই কর্মস্থল ত্যাগ করেন। এরপর ওই দিনই তিনি নিজেকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি পরিচয় দিয়ে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করেন।

পরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে রাজশাহী থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। 

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, টুটুল চক্রবর্তী এর আগেও কয়েকবার রাজশাহী বিমানবন্দরে নিজেকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি পরিচয় দিয়ে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করেন। বিষয়টি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসে। এ ঘটনা জনসম্মুখে পুলিশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন করেছে।

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে টুটুলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। পরে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি কোনো লিখিত জবাব দেননি। এমনকি সময় বাড়ানোর জন্যও আবেদন করেননি।

পরে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় গত ২ এপ্রিল তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা ৭ মে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। এতে টুটুল চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তিনি ২৩ জানুয়ারি থেকে পলাতক রয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।

গত ১৬ জুন দ্বিতীয়বার তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এতে কেন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অন্য কোনো গুরুদণ্ড দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। তবে তিনি এর কোনো জবাব দেননি। পরে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে গত ২৩ জুলাই বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ চাওয়া হয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর পিএসসি তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়া যেতে পারে বলে মত দিলে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে গত ৫ অক্টোবর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, টুটুল চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। পাশাপাশি তিনি গত ২৩ জানুয়ারি থেকে কর্মস্থল থেকে পলাতক রয়েছেন। এসব কারণে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

জানা গেছে, টুটুল চক্রবর্তীর বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায়। তিনি ২০তম বিসিএসে ২০০১ সালের ৩১ মে পুলিশে যোগ দেন। তিনি ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার ও ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২২ সালের ৩১ মে তিনি পুলিশ সুপার থেকে অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি পান। চাকরি জীবনে তিনি ডিএমপির ডিসি ছাড়াও সিরাজগঞ্জ ও কুমিল্লার পুলিশ সুপার ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি বিপিএম পদক পান। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।