প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দৌলতপুরের সেই শিক্ষককে ছেড়ে দিল পুলিশ
- Update Time : 11:34:59 am, Thursday, 1 October 2026
- / 34 Time View
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাংলা উচ্চারণ নিয়ে শ্রেণিকক্ষে মন্তব্য করার অভিযোগে আটক স্কুলশিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালনকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে শিক্ষককে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পরে পুলিশ সদস্যরা তাকে নিরাপদে তার বাড়িতে পৌঁছে দেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানান, শিক্ষককে আটকের বিষয়টি জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
বুধবার দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে মাহ্দী আমিন বলেন, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে শ্রেণিকক্ষে এক স্কুল শিক্ষকের কটূক্তি ও আপত্তিকর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ হলে পুলিশ ওই শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
মাহ্দী আমিনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রী সংক্ষুব্ধ হন। এরপর সংশ্লিষ্ট থানাকে শিক্ষককে সসম্মানে ছেড়ে দিয়ে নিরাপদে তার বাসায় পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর পুলিশ শিক্ষককে তার বাড়িতে পৌঁছে দেয়।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, মতের ভিন্নতা থাকতেই পারে এবং প্রত্যেক মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামত তার নিজস্ব। কারও মতের সঙ্গে একমত না হলেও তার মতপ্রকাশের অধিকারকে সম্মান করা উচিত।
মাহ্দী আমিন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে বলেন, ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি সম্মানই গণতন্ত্রের শক্তি। ইতিবাচক আচরণ, পারস্পরিক সম্মান ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি সমাজকে আরও শক্তিশালী করবে—এমন বিশ্বাসও প্রধানমন্ত্রীর রয়েছে।
এর আগে বুধবার বেলা ১১টার দিকে ভেড়ামারা-প্রাগপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রাগপুর এলাকা থেকে গোলাম কিবরিয়া লালনকে আটক করে পুলিশ। তিনি দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক।
স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, মঙ্গলবার বিকেলে বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বাংলা ক্লাসে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সাম্প্রতিক বাংলা ভাষণের প্রসঙ্গ ওঠে। এ সময় শিক্ষক লালন প্রধানমন্ত্রীর বাংলা উচ্চারণ নিয়ে মন্তব্য করেন। একপর্যায়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন বলেও অভিযোগ ওঠে।
বিষয়টি শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে অভিভাবকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে বুধবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কয়েকজন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা জড়ো হয়ে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একপর্যায়ে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শিক্ষক লালনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এসকাগজ/আরডি








