পানির নিচে একসঙ্গে ১১৬ ড্রোন চালিয়ে চীনের নতুন বিশ্বরেকর্ড
- Update Time : 02:12:35 pm, Thursday, 1 October 2026
- / 8 Time View
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
চীনের একটি গবেষণা দল একসঙ্গে ১১৬টি মাইক্রো-অটোনমাস বা ক্ষুদ্র স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ড্রোন সফলভাবে পরিচালনা করে নতুন একটি বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে। কোনও ধরনের মানবিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই পানির নিচে এই ড্রোনগুলো সাঁতারের পুলে নির্দিষ্ট রুট ধরে চলাচল করেছে। গত ২৯ আগস্ট প্রদর্শনী চলাকালীন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে এবং এই সাফল্য রেকর্ডভুক্ত করে।
নর্থওয়েস্টার্ন পলিটেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি এবং জিয়ান তিয়ানহে মেরিটাইম টেকনোলজিসের গবেষকদের তৈরি এই ড্রোনগুলো পানির নিচে ১ হাজার ৬৪০ ফুট দূরত্বে নির্ধারিত পথ পরিক্রমা করে। প্রদর্শনীতে ড্রোনগুলো পানিতে নামানোর পর এর নিজস্ব অনবোর্ড স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম দায়িত্বভার গ্রহণ করে। পানির নিচে ১১৬টি ড্রোন একটি ঝাঁকের মতো সুশৃঙ্খলভাবে চলাচল করে। প্রতিটি ড্রোন সঠিক পথে থাকতে রিয়েল-টাইম ডাটা ব্যবহার করে এবং কোনও ড্রোন নির্ধারিত পথ থেকে সরে গেলে সিস্টেমটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।
পানির নিচে রেডিও সিগন্যাল অনিয়মিত আচরণ করায় পানির নিচে যোগাযোগ স্থাপন করা সহজ নয়। তবে ড্রোনগুলো মানুষের কোনও সাহায্য ছাড়াই এই কাজটি নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করেছে। নর্থওয়েস্টার্ন পলিটেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি এটিকে বৃহত্তর স্বয়ংক্রিয় জলীয় সিস্টেমের দিকে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে অভিহিত করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে পানির নিচের সেন্সিং, অ্যাকোস্টিক কমিউনিকেশন এবং ভিজ্যুয়াল পারসেপশন নিয়ে কাজ করছে।
ব্যবহারের জন্য তৈরি টিএইচ-৬১৮ মডেলের এই ড্রোনগুলো আকারে বেশ ছোট। লম্বায় প্রায় ২৪ ইঞ্চি এবং চওড়ায় ৭.৮ ইঞ্চির এই ড্রোনগুলোর প্রতিটির ওজন প্রায় ৫ কেজি। প্রতিটি ড্রোনের রেঞ্জ ৩০ কিলোমিটার এবং এরা এক টানা আট ঘণ্টার বেশি সময় ধরে কাজ করতে পারে। পানির নিচে নেভিগেশনের জন্য এতে একটি ক্যামেরা রয়েছে, যা চারপাশের পরিবেশ বিশ্লেষণ করে সে অনুযায়ী ড্রোনগুলোকে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে।
পানির নিচের স্রোত এবং অন্যান্য কারণে প্রায়ই বিঘ্ন ঘটে, যা ড্রোনগুলোকে তাদের উদ্দেশ্যমূলক পথ থেকে সরিয়ে দিতে পারে। তবে এই ড্রোনগুলোতে এমন সিস্টেম রয়েছে যা এমন পরিস্থিতিতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ড্রোন সমুদ্রের তলদেশের জরিপ এবং তেল ও গ্যাস পাইপলাইন পরিদর্শনের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের উন্মোচন করতে পারে।








