Dhaka 10:53 pm, Monday, 21 September 2026
সর্বশেষ
ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৬ শহীদ মিনারে গিয়ে দেখি শামীম ওসমান বলছে, ‘মার মার’ বাস ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব, দুই-এক দিনে প্রজ্ঞাপন রেকর্ড আসন জয় পুতিনের দলের, কোনোমতে টিকে রইল বিরোধীরা রাজউকের নকশা অনুমোদনে আসছে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস : শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বস্ত্র খাতের সমস্যা সমাধানে বাস্তবভিত্তিক সমন্বিত নীতি সহায়তার আহ্বান রাষ্ট্রপতির বর্জ্য থেকে ৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক শিশুদের ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণে ৩৬ কোটি টাকা অনুদান মেসির সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে দুদকে মামলা মিয়ানমার সীমান্তে চোরাচালান থামছেই না

শহীদ মিনারে গিয়ে দেখি শামীম ওসমান বলছে, ‘মার মার’

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 03:19:21 pm, Monday, 21 September 2026
  • / 5 Time View

চব্বিশের গণ-আন্দোলন দমনে সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের নেতৃত্বেই নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া ও জালকুড়ি এলাকায় ব্যাপক গোলাগুলি হয়। এই গোলাগুলিকে আদিল ও ইয়াছিনসহ কয়েকজন নিহত হন।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ দেওয়া সাক্ষ্যে এমনটাই দবি করেন প্রসিকিউশনের সাক্ষী মাহমুদ হোসেন, তিনি বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি। 

সাক্ষ্যে মাহমুদ হোসেন বলেন, আন্দোলনের সময় ফতুল্লা, সিদ্দিরগঞ্জ, জালকুড়ি লিংক রোড ও নারায়ণগঞ্জ সদরে কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েন তারা। এতে অনেক নেতাকর্মী আহত ও নিহত হন। তাদের দলের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান টিপু গুলিবিদ্ধ হন এবং টিয়ারশেলের আঘাতে তিনি নিজেও আহত হন।

১৯ জুলাইয়ের বর্ণনায় তিনি বলেন, চাষাঢ়া ও জালকুড়ি এলাকায় শামীম ওসমানের নেতৃত্বে ব্যাপক গোলাগুলি হয়। এতে আদিল ও ইয়াছিনসহ কয়েকজন নিহত হন। একই দিন সন্ধ্যায় ডিআইটি সড়কে রিয়া গোপ নামে এক শিশুকন্যা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়।

৫ আগস্টের ঘটনার বর্ণনায় মাহমুদ হোসেন বলেন, সেদিন একটি প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় শামীম ওসমানের অনুসারীরা দলের কর্মী ও মামাত ভাই বদিউজ্জামানকে ধরে নিয়ে যায়।

পরে শহীদ মিনার মোড়ে তাকে লোহার রড, পাইপ ও গাছের ডাল দিয়ে মারধর করা হয়। 

সাক্ষী বলেন, ‘শহীদ মিনারে গিয়ে দেখি শামীম ওসমান বলছে, ‘মার মার’। তার নির্দেশে কয়েকজন বদিউজ্জামানকে পিটাচ্ছিল। আমরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

মামাতো ভাই বদিউজ্জামানের মৃত্যুর জন্য শামীম ওসমানসহ আসামিদের দায়ী করে ট্রাইব্যুনালের কাছে বিচার চান সাক্ষী মাহমুদ হোসেন।

এরপর সাক্ষ্য দেন প্রসিকিউশনের আরেক সাক্ষী মোশারফ ব্যাপারী। ফতুল্লার বাসিন্দা মোশারফ ব্যপারীর ছেলে রাকিব ২০২৪ সালের ২১ জুলাই নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। সাক্ষ্যে মোশারফ বলেন, ‘শুনেছি শামীম ওসমানের ছেলে, ভাতিজা ও আওয়ামী লীগের লোকজন আমার ছেলেকে গুলি করে হত্যা করেছে। আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে, আমি তাদের বিচার চাই।’ শামীম ওসমানসহ এ মামলার আসামি ১২ জন। তাঁদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

শহীদ মিনারে গিয়ে দেখি শামীম ওসমান বলছে, ‘মার মার’

Update Time : 03:19:21 pm, Monday, 21 September 2026

চব্বিশের গণ-আন্দোলন দমনে সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের নেতৃত্বেই নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া ও জালকুড়ি এলাকায় ব্যাপক গোলাগুলি হয়। এই গোলাগুলিকে আদিল ও ইয়াছিনসহ কয়েকজন নিহত হন।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ দেওয়া সাক্ষ্যে এমনটাই দবি করেন প্রসিকিউশনের সাক্ষী মাহমুদ হোসেন, তিনি বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি। 

সাক্ষ্যে মাহমুদ হোসেন বলেন, আন্দোলনের সময় ফতুল্লা, সিদ্দিরগঞ্জ, জালকুড়ি লিংক রোড ও নারায়ণগঞ্জ সদরে কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েন তারা। এতে অনেক নেতাকর্মী আহত ও নিহত হন। তাদের দলের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান টিপু গুলিবিদ্ধ হন এবং টিয়ারশেলের আঘাতে তিনি নিজেও আহত হন।

১৯ জুলাইয়ের বর্ণনায় তিনি বলেন, চাষাঢ়া ও জালকুড়ি এলাকায় শামীম ওসমানের নেতৃত্বে ব্যাপক গোলাগুলি হয়। এতে আদিল ও ইয়াছিনসহ কয়েকজন নিহত হন। একই দিন সন্ধ্যায় ডিআইটি সড়কে রিয়া গোপ নামে এক শিশুকন্যা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়।

৫ আগস্টের ঘটনার বর্ণনায় মাহমুদ হোসেন বলেন, সেদিন একটি প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় শামীম ওসমানের অনুসারীরা দলের কর্মী ও মামাত ভাই বদিউজ্জামানকে ধরে নিয়ে যায়।

পরে শহীদ মিনার মোড়ে তাকে লোহার রড, পাইপ ও গাছের ডাল দিয়ে মারধর করা হয়। 

সাক্ষী বলেন, ‘শহীদ মিনারে গিয়ে দেখি শামীম ওসমান বলছে, ‘মার মার’। তার নির্দেশে কয়েকজন বদিউজ্জামানকে পিটাচ্ছিল। আমরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

মামাতো ভাই বদিউজ্জামানের মৃত্যুর জন্য শামীম ওসমানসহ আসামিদের দায়ী করে ট্রাইব্যুনালের কাছে বিচার চান সাক্ষী মাহমুদ হোসেন।

এরপর সাক্ষ্য দেন প্রসিকিউশনের আরেক সাক্ষী মোশারফ ব্যাপারী। ফতুল্লার বাসিন্দা মোশারফ ব্যপারীর ছেলে রাকিব ২০২৪ সালের ২১ জুলাই নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। সাক্ষ্যে মোশারফ বলেন, ‘শুনেছি শামীম ওসমানের ছেলে, ভাতিজা ও আওয়ামী লীগের লোকজন আমার ছেলেকে গুলি করে হত্যা করেছে। আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে, আমি তাদের বিচার চাই।’ শামীম ওসমানসহ এ মামলার আসামি ১২ জন। তাঁদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।