Dhaka 3:35 pm, Monday, 21 September 2026
সর্বশেষ
দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন কতজন, তালিকায় যারা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আমানুল্লাহর সাক্ষাৎ হামের টিকা পাচ্ছে ৩৪ লাখ শিশু, বিশেষ কার্যক্রম শুরু ২৬ সেপ্টেম্বর উপকূলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ইতালির কম্পানিকে আমন্ত্রণ স্পিকারের দফায় দফায় হুতি হামলা, সৌদির নিরাপত্তায় সমর্থন জানাল তুরস্ক জাপানি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ঢাবি প্রো-উপাচার্যের মতবিনিময় কুষ্টিয়ায় সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় কুষ্টিয়া সাংবাদিক ফোরামের নিন্দা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে এখন অর্থনীতিই বড় ভূরাজনৈতিক হাতিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে আরো একজন গ্রেপ্তার, অপরাধ স্বীকার

ইনুর মামলার ৫০০ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 05:59:52 am, Sunday, 20 September 2026
  • / 8 Time View

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশ করা হয়েছে। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) প্রায় ৫০০ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয় বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ।

এর আগে ৩০ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ ইনুকে তিন অভিযোগে পৃথকভাবে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন। তিনটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে মোট ১০ বছর কারাভোগ করতে হবে। একই সঙ্গে দুই অভিযোগে এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়। মামলায় মোট আটটি অভিযোগ আনা হলেও পাঁচটি অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়।

মামলার একমাত্র আসামি ছিলেন ইনু। প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আসামিপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে ইনু বিভিন্নভাবে উসকানি, প্ররোচনা, ষড়যন্ত্র ও সহায়তা করেন।

আন্দোলনকারীদের বিএনপি, জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগে উসকানি দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়। 

অভিযোগে বলা হয়, ১৮ জুলাই বিদেশি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে এবং ২৭ জুলাই একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া বক্তব্যে ইনু আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। ১৯ ও ২৯ জুলাই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকেও তিনি উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এসব বৈঠকে আন্দোলন দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্তে তার সম্মতি ও সহায়তার অভিযোগ আনা হয়।

এ ছাড়া আন্দোলন দমনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার, কারফিউ বহাল রাখা, আন্দোলনকারীদের আটক ও নির্যাতনের পরিকল্পনা এবং তা বাস্তবায়নে সহায়তার অভিযোগও করা হয়।

মামলার অন্যতম অভিযোগ ছিল ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার নির্দেশনা ও এতে সম্পৃক্ততা। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ওই দিন আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণে শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন ও মো. উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী এবং চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ নিহত হন। আহত হন অনেকে।

মামলার অভিযোগপত্রে ইনুর বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ট্রাইব্যুনাল তিন অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেন। বাকি পাঁচ অভিযোগে তাকে খালাস দেওয়া হয়।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ইনুর মামলার ৫০০ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

Update Time : 05:59:52 am, Sunday, 20 September 2026

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশ করা হয়েছে। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) প্রায় ৫০০ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয় বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ।

এর আগে ৩০ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ ইনুকে তিন অভিযোগে পৃথকভাবে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন। তিনটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে মোট ১০ বছর কারাভোগ করতে হবে। একই সঙ্গে দুই অভিযোগে এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়। মামলায় মোট আটটি অভিযোগ আনা হলেও পাঁচটি অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়।

মামলার একমাত্র আসামি ছিলেন ইনু। প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আসামিপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে ইনু বিভিন্নভাবে উসকানি, প্ররোচনা, ষড়যন্ত্র ও সহায়তা করেন।

আন্দোলনকারীদের বিএনপি, জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগে উসকানি দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়। 

অভিযোগে বলা হয়, ১৮ জুলাই বিদেশি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে এবং ২৭ জুলাই একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া বক্তব্যে ইনু আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। ১৯ ও ২৯ জুলাই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকেও তিনি উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এসব বৈঠকে আন্দোলন দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্তে তার সম্মতি ও সহায়তার অভিযোগ আনা হয়।

এ ছাড়া আন্দোলন দমনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার, কারফিউ বহাল রাখা, আন্দোলনকারীদের আটক ও নির্যাতনের পরিকল্পনা এবং তা বাস্তবায়নে সহায়তার অভিযোগও করা হয়।

মামলার অন্যতম অভিযোগ ছিল ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার নির্দেশনা ও এতে সম্পৃক্ততা। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ওই দিন আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণে শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন ও মো. উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী এবং চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ নিহত হন। আহত হন অনেকে।

মামলার অভিযোগপত্রে ইনুর বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ট্রাইব্যুনাল তিন অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেন। বাকি পাঁচ অভিযোগে তাকে খালাস দেওয়া হয়।