৭ মামলায় জামিনের পর ফের গ্রেপ্তার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হেলাল
- Update Time : 02:42:29 pm, Monday, 21 September 2026
- / 8 Time View
সাতটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর রাজধানীর পল্টন মডেল থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় ফের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন মিয়াজীকে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এদিন কারাগার থেকে হেলাল উদ্দিন মিয়াজীকে আদালতে হাজির করা হয়। তার উপস্থিতিতেই গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে শুনানি হয়। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার না দেখানোর আবেদন জানান।
আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম বলেন, হেলাল উদ্দিন ইতিমধ্যে সাতটি মামলায় জামিন পেয়েছেন।
এরপরও নতুন করে এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া যাতে তাকে গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করা হয়, এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রুলসহ নির্দেশনা রয়েছে বলেও তিনি জানান। তবে আদালত এসব আইনগত বিষয় আমলে না নিয়ে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
শুনানি শেষে আদালত পল্টন মডেল থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় হেলাল উদ্দিন মিয়াজীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল ঢাকার একটি স্থান থেকে হেলাল উদ্দিন মিয়াজীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন পল্টন মডেল থানার একটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।
কারাগারে থাকা অবস্থায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্টন মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. আবু সালেহ তাকে হত্যাচেষ্টার এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ২১ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত।
মামলার অভিযোগ
২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল মুশফিকুর রহমান আবির বাদী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৯৮ জনের বিরুদ্ধে পল্টন মডেল থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির মহাসমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী প্রচারণা শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে ওই বছরের ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের পক্ষ থেকে কলাবাগান এলাকায় প্রচারণা চালানো হয়।
এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, প্রচারণা শেষে বাসায় ফেরার পথে কলাবাগান লেক সার্কাস ১ নম্বর রোডের মাথা থেকে তাকে একটি গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে মারধর করে অচেতন করা হয়। পরে হাজারীবাগের একটি ট্যানারি গোডাউনে আটকে রেখে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। বাদীর বাবার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নেওয়ার পর ৫ ডিসেম্বর সকালে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে বাদী জানতে পারেন, ওই ব্যক্তিরা মেয়র তাপসের সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য ছিলেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে আরো বলা হয়, বিএনপির সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে ৭ ডিসেম্বর সকাল থেকেই নয়াপল্টন এলাকায় স্লোগান ও প্রচারণা চলছিল। বাদীও সেখানে যোগ দেন। সমাবেশ পণ্ড করতে ওইদিন পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা হামলা চালায় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় সমাবেশস্থলে গুলি, টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জের কথাও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদী আরো অভিযোগ করেন, ওই ঘটনায় তিনি আহত হয়ে ৭ থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে কলাবাগানের বাসায় ফেরার পরদিন স্থানীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তার বাসায় ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং তাকে মারধর করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরো বলা হয়, পরে বাদীকে কলাবাগান থানার হাজতে নেওয়া হয়। সেখানে তার বাবার সঙ্গে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কথা বলেন এবং টাকা দাবি ও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন বাদী। পরদিন আদালতে হাজির করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠান। পরে ২২ দিন কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্ত হন বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।







