রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিলে ট্রাম্পের সই, শতভাগ শুল্কের ঝুঁকিতে ভারত-চীন
- Update Time : 10:25:47 am, Saturday, 19 September 2026
- / 6 Time View
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত একটি বিলে স্বাক্ষর করেছেন। এর ফলে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের নতুন ক্ষমতা পেল তার প্রশাসন।
এতে ভারত ও চীনের ওপরও শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানায় ইন্ডিয়া টুডে।
আইনটিতে বলা হয়েছে, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বা গ্যাসের সবচেয়ে বেশি আমদানিকারক পাঁচ দেশের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার ক্ষেত্রে ৩০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে হবে ট্রাম্পকে। আইন কার্যকর হওয়ার পর জেনেশুনে রাশিয়ার তেল বা গ্যাস নতুন করে কেনা দেশগুলোর ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য হবে। পাশাপাশি রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করা শীর্ষ পাঁচ দেশের ক্ষেত্রেও এই আইন কার্যকর হবে।
রাশিয়ার তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতাদের মধ্যে ভারত ও চীন রয়েছে। তবে আইনে কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি। শীর্ষ পাঁচ দেশের তালিকা কীভাবে তৈরি হবে, সেটিও স্পষ্ট করে বলা হয়নি। ফলে কোন কোন দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে, তা নির্ধারণে ট্রাম্প প্রশাসনকে যথেষ্ট স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।
এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা ভারতীয় পণ্যের ওপর বড় ধরনের শুল্ক আরোপের পথ তৈরি হতে পারে। তবে এর তাৎক্ষণিক প্রভাব কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ভোক্তা পণ্যের দাম ও জ্বালানি খরচ বেড়ে যেতে পারে—এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে ট্রাম্প হয়তো অনিচ্ছুক থাকবেন। বিশেষ করে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হতে পারে। বুধবার কংগ্রেসে পাস হওয়া এই বিল রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতকে লক্ষ্য করেছে।
রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা এড়াতে মস্কোকে সহায়তা করার অভিযোগ থাকা তেলবাহী জাহাজের বহরকেও এর আওতায় আনা হয়েছে। এসব জাহাজকে রাশিয়ার ‘ছায়া বহর’ বলা হয়। এ ছাড়া জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে শুল্ক বা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ক্ষমতাও ট্রাম্পকে দেওয়া হয়েছে।
এক বছরের বেশি সময় ধরে বিলটি নিয়ে বিলম্বের পর গত জুলাইয়ে ট্রাম্প এটি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেন। কংগ্রেসের কয়েকজন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের পরিকল্পিত বৈঠকের আগে তার কাছে আর চাপ তৈরির ক্ষমতা দিতে মার্কিন কর্মকর্তারা বিলটি পাসের জন্য চাপ দিয়েছিলেন। হোয়াইট হাউসের আইনবিষয়ক পরিচালক জেমস ব্রেইড বলেন, প্রায় ৪০ বছরের মধ্যে এই প্রথম কংগ্রেস নির্বাহী বিভাগের হাতে নতুন করে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দিল। কোন কোন দেশের ওপর শেষ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে, তা স্পষ্ট না হওয়ায় আইনটি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ন্যাশনাল ফরেন ট্রেড কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেনেট চু বলেন, কোন কোন দেশ শুল্কের মুখে পড়তে পারে, তা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের হিসাব রয়েছে। আলোচনায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে ভারত, ব্রাজিল, জাপান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশ রয়েছে। ভারত সতর্ক করে বলেছে, নতুন মার্কিন শুল্ক দুই দেশের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে চীন আন্তর্জাতিক আইনে কোনো ভিত্তি নেই—এমন ‘দূরপ্রসারী এখতিয়ার’-এর বিরোধিতা করেছে। বিলটির সমালোচকেরা বলছেন, আইনের ভাষা খুব বিস্তৃত। এতে প্রেসিডেন্টকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আইনজীবী লরা ব্র্যাঙ্ক বলেন, প্রেসিডেন্টকে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়ায় এই ক্ষমতার অপব্যবহার হতে পারে।
তবে রক্ষণশীল সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের দাবি, কোন কোন দেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে, তা নির্ধারণের জন্য বিলে যথেষ্ট মানদণ্ড রয়েছে। তাদের মতে, এর মাধ্যমে অন্য কোনো সম্পর্কহীন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের গোপন সুযোগ রাখা হয়নি। নতুন শুল্ক কখন আরোপ করা হবে, সেটিও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ৩০ দিনের মধ্যে শুল্ক ঘোষণা করতে হবে। ফলে এর বাস্তবায়ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে হতে পারে। রাশিয়ার জ্বালানি কেনা দেশগুলোর ওপর বেশি শুল্ক আরোপ করা হলে তেল সরবরাহে সমস্যা তৈরি হতে পারে। এতে জ্বালানির দাম বাড়তে পারে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির ওপরও চাপ বাড়তে পারে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আবার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প ৮০টির বেশি দেশের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছেন। এসব পদক্ষেপের অনেকগুলোই সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করেছে। আদালত বলেছে, এসব শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ট্রাম্প তার ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। তবে নতুন আইনের আওতায় আরোপ করা শুল্ক নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জ করা আরো কঠিন হতে পারে। কারণ কংগ্রেস স্পষ্টভাবে এসব শুল্ক আরোপের অনুমোদন দিয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে শুল্ক বা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ক্ষমতাও ট্রাম্পকে দিয়েছে আইনটি। ফলে নতুন ক্ষমতা কতটা কঠোরভাবে ব্যবহার করা হবে, তা নির্ধারণের সুযোগ প্রশাসনের হাতে থাকছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনে ট্রেজারি বিভাগের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বেন হ্যারিস বলেন, ‘আইনে দেওয়া সংজ্ঞাগুলো অস্পষ্ট। আর ছাড় দেওয়ার ক্ষমতার মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের কাছে অনেকটা দায় এড়ানোর সুযোগ থাকছে।’






