Dhaka 7:14 pm, Friday, 18 September 2026
সর্বশেষ
রাজধানীতে মসজিদে ‘গোপন বৈঠক’, জঙ্গি সন্দেহে আটক ২৩ শেখ হাসিনা আমলের ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করবে ঢাকা, যা বলল ভারত মসজিদে জুমার নামাজে বোমা হামলা, পুলিশসহ নিহত বেড়ে ১৬ প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক যাচ্ছেন সোমবার জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন তারেক রহমান, ধন্যবাদ দিলেন মোদি ইরানের প্রেসিডেন্ট-পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের ভিসা দিল যুক্তরাষ্ট্র কারাগার থেকে গৃহবন্দি হচ্ছেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক হার্টের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এখন বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে না স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে : পানিসম্পদ মন্ত্রী জামায়াত মেনে নিয়েছে একাত্তরে তাদের ভূমিকা সঠিক ছিল না : আইনমন্ত্রী

কারাগার থেকে গৃহবন্দি হচ্ছেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 12:47:20 pm, Friday, 18 September 2026
  • / 2 Time View

মালয়েশিয়ার কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে বাকি সাজা গৃহবন্দি অবস্থায় কাটানোর অনুমতি দিয়েছেন দেশটির রাজা সুলতান ইব্রাহিম। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে ১এমডিবি দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার কারণে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

এবার তাকে শর্তসাপেক্ষে গৃহবন্দি থেকে বাকি সাজা ভোগের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আরব নিউজজের প্রতিবেদনে এই খবর বলা হয়েছে। তবে এ জন্য তাকে প্রায় ১২ দশমিক ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জরিমানা দিতে হবে।

৭৩ বছর বয়সী নাজিবকে মালয়েশিয়ার সরকারি বিনিয়োগ তহবিল ১ মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট বারহাদ (১এমডিবি) থেকে অর্থ আত্মসাতের মামলায় কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কার্যালয়ের আইনজীবীরা জানান, মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম নাজিবকে শর্তসাপেক্ষ ক্ষমা দিয়েছেন। এর ফলে তিনি ২০২৮ সালের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত গৃহবন্দি থেকে বাকি সাজা ভোগ করতে পারবেন।

আইন বিষয়ক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এই সুবিধা পেতে নাজিবকে ৫০ মিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত বা ১২ দশমিক ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জরিমানা দিতে হবে। তাকে গৃহবন্দি থাকার সব শর্তও মেনে চলতে হবে।

কোনো শর্ত ভঙ্গ করলে ক্ষমা বাতিল হয়ে যাবে এবং তাকে আবার কারাগারে গিয়ে বাকি সাজা ভোগ করতে হবে। এর আগে, গত বছরের শেষ দিকে একজন মালয়েশীয় বিচারক নাজিবের বাকি সাজা বাড়িতে থেকে ভোগ করার আবেদন খারিজ করেছিলেন।  

পরে জানা যায়, ১এমডিবির সাবেক সহযোগী প্রতিষ্ঠান এসআরসি ইন্টারন্যাশনাল এসডিএন বিএইচডি থেকে অর্থ আত্মসাতের মামলায় ২০২০ সালের জুলাইয়ে তাকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরে একটি ক্ষমা বোর্ড তার সাজা অর্ধেক কমিয়ে দেয়। একই সঙ্গে জরিমানার পরিমাণ কমিয়ে ৫০ মিলিয়ন রিঙ্গিত করা হয়।

এই মামলায় তার সাজা ২০২৮ সালের আগস্টে শেষ হওয়ার কথা। 

এর মধ্যে গত ডিসেম্বরে গৃহবন্দি থাকার আবেদন নাকচ হওয়ার কয়েক দিন পর ১এমডিবি-সংক্রান্ত আরেকটি মামলায় নাজিবকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই মামলায় তাকে ১১ দশমিক ৪ বিলিয়ন রিঙ্গিত জরিমানাও করা হয়েছে।

নাজিব এই ১৫ বছরের সাজা চ্যালেঞ্জ করে আপিল করছেন। তার বর্তমান ছয় বছরের সাজা শেষ হওয়ার পর নতুন ১৫ বছরের সাজা কার্যকর হওয়ার কথা। নাজিব মালয়েশিয়ার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নেতার ছেলে। ছোটবেলা থেকেই তাকে রাজনীতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে ১ এমডিবি কেলেঙ্কারি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি ক্ষমতা হারান। এরপর বিভিন্ন সরকারের সময় চলা তদন্তে নাজিব ও তার স্ত্রী রোসমাহ মানসুরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।

প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং ১এমডিবির উপদেষ্টা বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকাকালে নাজিব নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে তহবিলের বিপুল অর্থ নিজের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করেন।

তদন্তকারীদের দাবি, ওই অর্থের একটি অংশ দিয়ে দামি সম্পত্তি, একটি বিলাসবহুল ইয়ট এবং মোনে ও ভ্যান গঘের মতো বিখ্যাত শিল্পীদের মূল্যবান চিত্রকর্ম কেনা হয়েছিল।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

কারাগার থেকে গৃহবন্দি হচ্ছেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক

Update Time : 12:47:20 pm, Friday, 18 September 2026

মালয়েশিয়ার কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে বাকি সাজা গৃহবন্দি অবস্থায় কাটানোর অনুমতি দিয়েছেন দেশটির রাজা সুলতান ইব্রাহিম। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে ১এমডিবি দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার কারণে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

এবার তাকে শর্তসাপেক্ষে গৃহবন্দি থেকে বাকি সাজা ভোগের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আরব নিউজজের প্রতিবেদনে এই খবর বলা হয়েছে। তবে এ জন্য তাকে প্রায় ১২ দশমিক ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জরিমানা দিতে হবে।

৭৩ বছর বয়সী নাজিবকে মালয়েশিয়ার সরকারি বিনিয়োগ তহবিল ১ মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট বারহাদ (১এমডিবি) থেকে অর্থ আত্মসাতের মামলায় কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কার্যালয়ের আইনজীবীরা জানান, মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম নাজিবকে শর্তসাপেক্ষ ক্ষমা দিয়েছেন। এর ফলে তিনি ২০২৮ সালের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত গৃহবন্দি থেকে বাকি সাজা ভোগ করতে পারবেন।

আইন বিষয়ক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এই সুবিধা পেতে নাজিবকে ৫০ মিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত বা ১২ দশমিক ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জরিমানা দিতে হবে। তাকে গৃহবন্দি থাকার সব শর্তও মেনে চলতে হবে।

কোনো শর্ত ভঙ্গ করলে ক্ষমা বাতিল হয়ে যাবে এবং তাকে আবার কারাগারে গিয়ে বাকি সাজা ভোগ করতে হবে। এর আগে, গত বছরের শেষ দিকে একজন মালয়েশীয় বিচারক নাজিবের বাকি সাজা বাড়িতে থেকে ভোগ করার আবেদন খারিজ করেছিলেন।  

পরে জানা যায়, ১এমডিবির সাবেক সহযোগী প্রতিষ্ঠান এসআরসি ইন্টারন্যাশনাল এসডিএন বিএইচডি থেকে অর্থ আত্মসাতের মামলায় ২০২০ সালের জুলাইয়ে তাকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরে একটি ক্ষমা বোর্ড তার সাজা অর্ধেক কমিয়ে দেয়। একই সঙ্গে জরিমানার পরিমাণ কমিয়ে ৫০ মিলিয়ন রিঙ্গিত করা হয়।

এই মামলায় তার সাজা ২০২৮ সালের আগস্টে শেষ হওয়ার কথা। 

এর মধ্যে গত ডিসেম্বরে গৃহবন্দি থাকার আবেদন নাকচ হওয়ার কয়েক দিন পর ১এমডিবি-সংক্রান্ত আরেকটি মামলায় নাজিবকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই মামলায় তাকে ১১ দশমিক ৪ বিলিয়ন রিঙ্গিত জরিমানাও করা হয়েছে।

নাজিব এই ১৫ বছরের সাজা চ্যালেঞ্জ করে আপিল করছেন। তার বর্তমান ছয় বছরের সাজা শেষ হওয়ার পর নতুন ১৫ বছরের সাজা কার্যকর হওয়ার কথা। নাজিব মালয়েশিয়ার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নেতার ছেলে। ছোটবেলা থেকেই তাকে রাজনীতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে ১ এমডিবি কেলেঙ্কারি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি ক্ষমতা হারান। এরপর বিভিন্ন সরকারের সময় চলা তদন্তে নাজিব ও তার স্ত্রী রোসমাহ মানসুরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।

প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং ১এমডিবির উপদেষ্টা বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকাকালে নাজিব নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে তহবিলের বিপুল অর্থ নিজের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করেন।

তদন্তকারীদের দাবি, ওই অর্থের একটি অংশ দিয়ে দামি সম্পত্তি, একটি বিলাসবহুল ইয়ট এবং মোনে ও ভ্যান গঘের মতো বিখ্যাত শিল্পীদের মূল্যবান চিত্রকর্ম কেনা হয়েছিল।