যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন শি চিনপিং, বিমানবন্দরে স্বাগত জানাবেন ট্রাম্প
- Update Time : 12:04:39 pm, Saturday, 19 September 2026
- / 2 Time View
এক দশকেরও বেশি সময় পর চীনের কোনো শীর্ষ নেতা রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন। আগামী সপ্তাহে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ওয়াশিংটনে যাবেন।
সেখানে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংকে বহনকারী বিমান ওয়াশিংটনের কাছে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুস ঘাঁটিতে পৌঁছাবে। সেখানে তাকে স্বাগত জানাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই উপস্থিত থাকবেন।
সাধারণত ট্রাম্প বিদেশি নেতাদের হোয়াইট হাউসে স্বাগত জানান। তাই বিমানঘাঁটিতে গিয়ে তাকে স্বাগত জানানো বিশেষ ঘটনা।
শি চিনপিংয়ের আনুষ্ঠানিক সফর শুরু হবে বৃহস্পতিবার। এদিন ট্রাম্প ও তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে শি চিনপিং ও তার স্ত্রী পেং লিউয়ানকে স্বাগত জানাবেন।
এরপর ট্রাম্প ও শি চিনপিং বৈঠকে বসবেন। বৈঠকের আগে তারা হোয়াইট হাউসের ‘রোজ গার্ডেন’-এ সেনা সদস্যদের কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করবেন।
শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, শি চিনপিংয়ের সম্মানে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে যোগ দিতে অনেক মানুষ আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু হোয়াইট হাউসে নতুন একটি বড় বলরুম তৈরি হচ্ছে। সেটি এখনো নির্মাণাধীন থাকায় এবার বেশি অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো সম্ভব হয়নি।
ট্রাম্প বলেন, কাকে আমন্ত্রণ জানাবেন আর কাকে জানাবেন না, সেটি তার জন্য কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল। তার অনেক ঘনিষ্ঠ বন্ধুকেও এবার আমন্ত্রণ জানানো সম্ভব হয়নি।
তবে প্রযুক্তি খাতের কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তিকে নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস, টেসলা ও স্পেসএক্সের ইলন মাস্ক, গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই এবং ডেল টেকনোলজিসের সিইও মাইকেল ডেল।
এ ছাড়া এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং, ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যান, সিটিগ্রুপের সিইও জেন ফ্রেজার এবং অ্যাপলের সাবেক সিইও টিম কুকও নৈশভোজে থাকবেন। শুক্রবার শি চিনপিং ও তার স্ত্রী পেং লিউয়ান আবার হোয়াইট হাউসে যাবেন। সেখানে ট্রাম্প ও মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করবেন।
এরপর ট্রাম্প দম্পতি তাদের ন্যাশনাল আর্কাইভসে নিয়ে যাবেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নথি সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে দেশটি প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ দলিলও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতির মধ্যেই শি চিনপিংয়ের এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ন্যাশনাল আর্কাইভস পরিদর্শন শেষে শি চিনপিং ‘জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুস’-এর উদ্দেশে রওনা হবেন।
এদিকে শি চিনপিংয়ের সফরকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়, এমন কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক কিছুটা কমানোর কথা ভাবা হচ্ছে। তবে কোন কোন পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক কমানো হবে, তা তারা জানাননি।
মার্কিন কর্মকর্তারা আরো জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে বিরল খনিজের সরবরাহ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ শিথিল করবে না। তবে চীন যাতে এসব খনিজের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখে, সে বিষয়ে আলোচনা হবে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কমাবে, এমন কোনো সমঝোতার সম্ভাবনা কম বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এদিকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট নিউইয়র্কে চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী হে লিফেংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে দুই দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইও আলোচনার অন্যতম বিষয় হবে। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হে লিফেং শনিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন। এ সময় দুই দেশের মধ্যে অর্থনীতি ও বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হবে।
বৈঠকে চীনের বিরল খনিজের মজুদ ও সরবরাহ নিয়েও আলোচনা হবে। স্মার্টফোন, গাড়ি, যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্য তৈরিতে এসব খনিজ প্রয়োজন। এসব খনিজের বড় অংশের সরবরাহ চীনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ট্রাম্পের শুল্ক ও চীনের ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য বিরোধে বিরল খনিজের সরবরাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
জানা গেছে, এসব বিষয়ে আলোচনা সোমবার পর্যন্ত চলতে পারে। রবিবারের বৈঠকে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারও অংশ নেবেন। এর আগে ট্রাম্প চীন সফর করেছেন। শি চিনপিং সর্বশেষ ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফরে গিয়েছিলেন। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন বারাক ওবামা।






