Dhaka 1:15 pm, Tuesday, 13 October 2026
সর্বশেষ
ঢাবির ক্লাসে ইন্ডাস্ট্রি বিশেষজ্ঞ যুক্ত করতে ইউএন্ডআইএর প্রস্তাব জাতি গঠনে তরুণ সমাজকে অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার ভূমিসেবায় স্বচ্ছতা ও কাজের মান নিশ্চিত করার নির্দেশ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রীর সাক্ষাৎ এলএনজি খাতে বাংলাদেশের অংশীদার হতে চায় কানাডা ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব : প্রধানমন্ত্রী ঠিকাদারদের কাছ থেকে ওয়ারেন্টি হিসেবে জামানত নেওয়ার সুপারিশ গাজীপুরে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ করবেন ২৬৬৫ জন : জেলা প্রশাসক বহিষ্কৃত নেতারাই করলেন কমিটি অনুমোদন চলতি বছর ৪১ হাজার ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে : সমাজকল্যাণমন্ত্রী

সারাবিশ্বের সঙ্গে দেশের পর্দায় নতুন ‘অ্যাভাটার’

বিনোদন ডেস্ক :
  • Update Time : 11:06:07 am, Friday, 19 December 2025
  • / 308 Time View

জেমস ক্যামেরন এবং ‘অ্যাভাটার’, দু’টি নামই সিনেমাপ্রেমীদের হৃদয়ে জায়গা করে আছে বিস্ময়কর মুগ্ধতায়। যার শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালে। ‘অ্যাভাটার’ নামের এক মহাকাব্যিক কল্পবিজ্ঞান সিনেমা দিয়ে বিশ্বজুুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। ২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার আয়ের রেকর্ড করে সিনেমাটি। ২০২২ সালে মুক্তি পায় সিরিজের দ্বিতীয় সিনেমা ‘দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’। দ্য হলিউড রিপোর্টার-এর তথ্যমতে, এটি করোনা পরবর্তী সময়েও প্রায় ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার আয় করে। শুধু আয়ের রেকর্ড নয়, বিশাল ক্যানভাসের এই সিনেমা দর্শকদের চোখে যে বিস্ময় জাগিয়েছে তার ঘোর কাটানো দুস্কর। সুখবর হলো, আবার পর্দায় আসছে ‘অ্যাভাটার’। ১৯ ডিসেম্বর বিশ্বব্যাপী মুক্তি পেতে চলেছে সিরিজের তৃতীয় সিনেমা। এবারের সিনেমার নাম ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’।

বাংলাদেশের দর্শকরাও খুশি হতে পারেন এজন্য যে, সারা বিশ্বের সঙ্গে একই দিনে বাংলাদেশের স্টার সিনেপ্লেক্সে মুক্তি পাবে সিনেমাটি। নিশ্চিত করেছেন প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ।

সম্প্রতি লন্ডনে সিনেমাটির একটি বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর সেখানেই যেন রীতিমতো ‘প্যান্ডোরা ঝড়’! প্রদর্শনী শেষে সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া দেখে বোঝা যায় ক্যামেরন আবারও তার ‘ভিজ্যুয়াল জাদু’তে সবাইকে মুগ্ধ করেছেন। সমালোচক কোর্টনি হাওয়ার্ড সরাসরি লিখেছেন, ‘অ্যাভাটার ৩ মনে করিয়ে দেয় কেন সিনেমা হলে সিনেমা দেখা জরুরি!’ কলাইডারের পেরি নেমিরফ বলেছেন, ‘পানডোরায় ফিরে যাওয়ার মতো অনুভূতি হয়েছে সিনেমাটি দেখে। এ যেন নীল-আধার প্যান্ডোরা আবার ডাকছে!’

এই সিনেমার কেন্দ্রে সুলি পরিবার। আগের পর্বে নেটেয়ামের মৃত্যু তাদের জীবনে গভীর দাগ রেখে গেছে। সেই শোক, সেই লড়াই তার মাঝেই আসে নতুন বিপদ। এখানে প্রথমবারের মতো দর্শক দেখবে ‘আগুন উপজাতি’, যাদের আবির্ভাবই সিনেমার নতুন উত্তেজনা। মাইকেল লি লিখেছেন ‘এই সিনেমার ভিজ্যুয়াল-অ্যাকশন দাঁড়িয়ে গেছে আলাদা এক উচ্চতায়।’

আর সেই উচ্চতায় পৌঁছাতে সাহায্য করেছেন স্যাম ওয়ার্থিংটন, জো স্যালদানা, সিগরনি উইভার, স্টিফেন ল্যাং, এমনকি কেট উইন্সলেটও।

গত ৫ ডিসেম্বর প্যারিসে সংবাদ সম্মেলনে ক্যামেরন বলেন, ‘দর্শকরা দেখবেন, সন্তানরা বড় হয়ে নিজেদের পরিচয় খুঁজছে। কারণ তাদের মা পুরোপুরি নাভি প্রজাতির। আর বাবা অন্য গ্রহ থেকে আসা। এই শংকর জীবন তাদের হাসি-আনন্দের সঙ্গে এক ঝাঁক চ্যালেঞ্জও নিয়ে আসে।’

৭১ বছর বয়সী এই কানাডিয়ান পরিচালক আরও বলেন, ‘আমরা মূলত শরণার্থী বা বাস্তুচ্যুত অভিবাসীদের পারিবারিক অবস্থাকে দেখানোর চেষ্টা করেছি। মানুষ এটি দেখে সহজেই বাস্তবতার সংযোগ স্থাপন করতে পারবে।’

‘অ্যাভাটার’ সিনেমা মানেই প্রযুক্তির এক বিশাল চমক। এর সিনেমাটোগ্রাফি, অ্যানিমেশন বা কারিগরি সবকিছুতেই থাকে নতুনত্বের ছোঁয়া। কিন্তু আপনি হয়তো জানেন না, এই সিনেমার সংগীত বা মিউজিকের ক্ষেত্রেও ঠিক একই কথা প্রযোজ্য। সুরকার সাইমন ফ্র্যাংলেন জানিয়েছেন, এবারের সিনেমার কাজ শেষ করতে তার দীর্ঘ সাত বছর সময় লেগেছে। এই দীর্ঘ যাত্রায় তিনি ১,৯০৭ পাতার অর্কেস্ট্রা স্কোর বা স্বরলিপি লিখেছেন। এমনকি ভিনগ্রহের কাল্পনিক জগত ‘প্যান্ডোরা’র বাসিন্দাদের বাজানোর জন্য তিনি সম্পূর্ণ নতুন বাদ্যযন্ত্রও আবিষ্কার করেছেন।

জেমস ক্যামেরন জানিয়েছেন, এই সিনেমার ব্যবসায়িক ফলই ঠিক করবে ‘অ্যাভাটার’র ভবিষ্যৎ পথচলা। কারণ, প্রথম ‘অ্যাভাটার’ এখনও বিশ্বের সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমা, আর দ্বিতীয় কিস্তি সফল হলেও সেই রেকর্ড ছুঁতে পারেনি। তাই তরুণ-বুড়ো সব দর্শকের চোখ এখন ১৯ ডিসেম্বরের দিকে। বক্স অফিসে ক্যামেরন কি আবারও বাজিমাত করতে পারবেন?

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সারাবিশ্বের সঙ্গে দেশের পর্দায় নতুন ‘অ্যাভাটার’

Update Time : 11:06:07 am, Friday, 19 December 2025

জেমস ক্যামেরন এবং ‘অ্যাভাটার’, দু’টি নামই সিনেমাপ্রেমীদের হৃদয়ে জায়গা করে আছে বিস্ময়কর মুগ্ধতায়। যার শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালে। ‘অ্যাভাটার’ নামের এক মহাকাব্যিক কল্পবিজ্ঞান সিনেমা দিয়ে বিশ্বজুুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। ২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার আয়ের রেকর্ড করে সিনেমাটি। ২০২২ সালে মুক্তি পায় সিরিজের দ্বিতীয় সিনেমা ‘দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’। দ্য হলিউড রিপোর্টার-এর তথ্যমতে, এটি করোনা পরবর্তী সময়েও প্রায় ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার আয় করে। শুধু আয়ের রেকর্ড নয়, বিশাল ক্যানভাসের এই সিনেমা দর্শকদের চোখে যে বিস্ময় জাগিয়েছে তার ঘোর কাটানো দুস্কর। সুখবর হলো, আবার পর্দায় আসছে ‘অ্যাভাটার’। ১৯ ডিসেম্বর বিশ্বব্যাপী মুক্তি পেতে চলেছে সিরিজের তৃতীয় সিনেমা। এবারের সিনেমার নাম ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’।

বাংলাদেশের দর্শকরাও খুশি হতে পারেন এজন্য যে, সারা বিশ্বের সঙ্গে একই দিনে বাংলাদেশের স্টার সিনেপ্লেক্সে মুক্তি পাবে সিনেমাটি। নিশ্চিত করেছেন প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ।

সম্প্রতি লন্ডনে সিনেমাটির একটি বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর সেখানেই যেন রীতিমতো ‘প্যান্ডোরা ঝড়’! প্রদর্শনী শেষে সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া দেখে বোঝা যায় ক্যামেরন আবারও তার ‘ভিজ্যুয়াল জাদু’তে সবাইকে মুগ্ধ করেছেন। সমালোচক কোর্টনি হাওয়ার্ড সরাসরি লিখেছেন, ‘অ্যাভাটার ৩ মনে করিয়ে দেয় কেন সিনেমা হলে সিনেমা দেখা জরুরি!’ কলাইডারের পেরি নেমিরফ বলেছেন, ‘পানডোরায় ফিরে যাওয়ার মতো অনুভূতি হয়েছে সিনেমাটি দেখে। এ যেন নীল-আধার প্যান্ডোরা আবার ডাকছে!’

এই সিনেমার কেন্দ্রে সুলি পরিবার। আগের পর্বে নেটেয়ামের মৃত্যু তাদের জীবনে গভীর দাগ রেখে গেছে। সেই শোক, সেই লড়াই তার মাঝেই আসে নতুন বিপদ। এখানে প্রথমবারের মতো দর্শক দেখবে ‘আগুন উপজাতি’, যাদের আবির্ভাবই সিনেমার নতুন উত্তেজনা। মাইকেল লি লিখেছেন ‘এই সিনেমার ভিজ্যুয়াল-অ্যাকশন দাঁড়িয়ে গেছে আলাদা এক উচ্চতায়।’

আর সেই উচ্চতায় পৌঁছাতে সাহায্য করেছেন স্যাম ওয়ার্থিংটন, জো স্যালদানা, সিগরনি উইভার, স্টিফেন ল্যাং, এমনকি কেট উইন্সলেটও।

গত ৫ ডিসেম্বর প্যারিসে সংবাদ সম্মেলনে ক্যামেরন বলেন, ‘দর্শকরা দেখবেন, সন্তানরা বড় হয়ে নিজেদের পরিচয় খুঁজছে। কারণ তাদের মা পুরোপুরি নাভি প্রজাতির। আর বাবা অন্য গ্রহ থেকে আসা। এই শংকর জীবন তাদের হাসি-আনন্দের সঙ্গে এক ঝাঁক চ্যালেঞ্জও নিয়ে আসে।’

৭১ বছর বয়সী এই কানাডিয়ান পরিচালক আরও বলেন, ‘আমরা মূলত শরণার্থী বা বাস্তুচ্যুত অভিবাসীদের পারিবারিক অবস্থাকে দেখানোর চেষ্টা করেছি। মানুষ এটি দেখে সহজেই বাস্তবতার সংযোগ স্থাপন করতে পারবে।’

‘অ্যাভাটার’ সিনেমা মানেই প্রযুক্তির এক বিশাল চমক। এর সিনেমাটোগ্রাফি, অ্যানিমেশন বা কারিগরি সবকিছুতেই থাকে নতুনত্বের ছোঁয়া। কিন্তু আপনি হয়তো জানেন না, এই সিনেমার সংগীত বা মিউজিকের ক্ষেত্রেও ঠিক একই কথা প্রযোজ্য। সুরকার সাইমন ফ্র্যাংলেন জানিয়েছেন, এবারের সিনেমার কাজ শেষ করতে তার দীর্ঘ সাত বছর সময় লেগেছে। এই দীর্ঘ যাত্রায় তিনি ১,৯০৭ পাতার অর্কেস্ট্রা স্কোর বা স্বরলিপি লিখেছেন। এমনকি ভিনগ্রহের কাল্পনিক জগত ‘প্যান্ডোরা’র বাসিন্দাদের বাজানোর জন্য তিনি সম্পূর্ণ নতুন বাদ্যযন্ত্রও আবিষ্কার করেছেন।

জেমস ক্যামেরন জানিয়েছেন, এই সিনেমার ব্যবসায়িক ফলই ঠিক করবে ‘অ্যাভাটার’র ভবিষ্যৎ পথচলা। কারণ, প্রথম ‘অ্যাভাটার’ এখনও বিশ্বের সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমা, আর দ্বিতীয় কিস্তি সফল হলেও সেই রেকর্ড ছুঁতে পারেনি। তাই তরুণ-বুড়ো সব দর্শকের চোখ এখন ১৯ ডিসেম্বরের দিকে। বক্স অফিসে ক্যামেরন কি আবারও বাজিমাত করতে পারবেন?