তিন দশকের সাধনার স্বীকৃতি, স্থায়ী ভবন পাচ্ছে ভাওয়াইয়া পরিষদ
- Update Time : 04:55:24 am, Saturday, 31 October 2026
- / 2 Time View
উত্তরাঞ্চলের লোকসংগীত ভাওয়াইয়ার ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে এই সংগীতের চর্চা ছড়িয়ে দিতে কুড়িগ্রামের উলিপুরে নির্মিত হচ্ছে বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া পরিষদের স্থায়ী বহুতল ভবন। দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে একটি টিনের চালাঘরে সংগীতচর্চা ও শিল্পী তৈরির কার্যক্রম পরিচালনা করে আসা সংগঠনটির জন্য এটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর শুক্রবার দুপুরে স্থাপন করা হয়েছে। এ উদ্যোগে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপসহ স্থানীয় প্রশাসন, বিশিষ্ট ব্যক্তি ও এলাকাবাসী সহযোগিতা করছেন।
১৯৯৩ সালে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের পাঁচপীর এলাকায় বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া পরিষদ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে একটি সাধারণ টিনের চালাঘরেই সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও এখান থেকে দেশ-বিদেশে পরিচিতি পাওয়া প্রায় তিন হাজার ভাওয়াইয়া শিল্পী তৈরি হয়েছেন।
দীর্ঘদিনের এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে সংগঠনটির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে স্থায়ী ও আধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সমাজসেবী গেলাপ হোসেনের দান করা পাঁচ শতক জমির ওপর ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অনুদান দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার দুপুরে উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের পাঁচপীর এলাকায় কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কের পাশে ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট প্রদীপ কুমার রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও ভাওয়াইয়া একাডেমির পরিচালক ভুপতি ভূষণ বর্মা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বশীর আহমেদ।
এতে বক্তব্য দেন উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী, ভাওয়াইয়া পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রাজেন্দ্রনাথ রায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সলিডারিটির নির্বাহী পরিচালক হারুন অর রশিদ লাল, বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও গীতিকার তৌহিদুর রহমান, কসিম উদ্দিন পরিষদের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মমিন এবং জমিদাতা গেলাপ উদ্দিনের ছেলে এনামুর রহমানসহ অন্যরা।
অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি খন্দকার একরামুল হক সম্রাট এবং নিউজ২৪-এর কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি হুমায়ুন কবীর সূর্য।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ভাওয়াইয়া উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন, প্রকৃতি, প্রেম, বিরহ ও লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। এই সংগীতের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ধরে রাখতে বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। নতুন ভবন নির্মিত হলে সংগীতচর্চা, প্রশিক্ষণ ও শিল্পী তৈরির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে।
তারা আশা প্রকাশ করেন, আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ভবনটি প্রতিষ্ঠিত হলে ভাওয়াইয়া সংগীতের চর্চা নতুন গতি পাবে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা উপযুক্ত পরিবেশে প্রশিক্ষণ ও সাধনার সুযোগ পাবেন। এর মধ্য দিয়ে দেশের ঐতিহ্যবাহী এই লোকসংগীতের প্রসার দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরেও আরও সমৃদ্ধ হবে।












