Dhaka 7:10 am, Saturday, 31 October 2026

৮৫তম ঋণ বিতরণ: ১৬৮ নারীর হাতে ৩০ লাখ টাকা তুলে দিল বসুন্ধরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 12:08:17 pm, Friday, 30 October 2026
  • / 10 Time View

অভাব-অনটনের কারণে যাঁদের স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন বারবার থমকে গেছে, তাঁদের জন্য আশার আলো হয়ে এসেছে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত ঋণ কার্যক্রম। কোনো জামানত ছাড়াই এ ঋণ নিয়ে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের সুযোগ পাচ্ছেন সুবিধাবঞ্চিত নারীরা। এরই ধারাবাহিকতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ১৬৮ নারীর মধ্যে ৩০ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করেছে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন।

গতকাল উপজেলার আকানগর মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ফাউন্ডেশনের ৮৫তম ঋণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপকারভোগীদের হাতে ঋণের অর্থ তুলে দেন বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ময়নাল হোসেন চৌধুরী ও বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম নাছিমুল হাই। মো. চাঁনমিয়া সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের ডিজিএম মাইমুন কবির, ডেপুটি ম্যানেজার মোশাররফ হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

বসুন্ধরা গ্রুপের এ মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে গত দুই দশকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাজারো সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগর উপজেলার এবারকার উপকারভোগী নারীদের প্রত্যেকের ওপর একটি করে পরিবার নির্ভরশীল। আর্থিক সংকটের কারণে নিজেদের উদ্যোগে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ড শুরু করতে না পারলেও বিনা সুদে ঋণ পেয়ে নতুন করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তাঁরা।

অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম নাছিমুল হাই বলেন, চড়া সুদের ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত হয়ে অসচ্ছল নারীরা এখন নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন। এ কার্যক্রম শুধু ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আর্থিক অবস্থার উন্নয়নেই ভূমিকা রাখছে না, গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

ঋণের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ টাকা কোনো অবৈধ কাজে ব্যয় করা যাবে না। সৎ ও বৈধ উপায়ে আয় করার জন্য অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে। এর মাধ্যমে পরিবারের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকপক্ষের জন্য দোয়া করারও আহ্বান জানান তিনি।

বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ময়নাল হোসেন চৌধুরী বলেন, সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত ঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে বসুন্ধরা গ্রুপ একটি অনন্য মানবিক উদ্যোগ পরিচালনা করছে। ঋণ বিতরণের পাশাপাশি শিক্ষাবৃত্তি, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, প্রশিক্ষণ, সেলাই মেশিন বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের পাশে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

তিনি আরও বলেন, বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের এ কার্যক্রম গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি তাঁদের আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ঋণের অর্থ হাতে পেয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন উপকারভোগীরা। নবীনগর উপজেলার থোল্লাকান্দি গ্রামের শিল্পী আক্তার (৩০) জানান, ঋণের টাকা কাজে লাগিয়ে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করতে চান তিনি।

একই উপজেলার বাড়াইল গ্রামের মর্জিনা আক্তার (৩৫) বলেন, তাঁর স্বামী কৃষিকাজ করেন। ঋণের অর্থ কৃষিকাজে বিনিয়োগ করে সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে চান তাঁরা।

অন্যদিকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আকানগর গ্রামের গীতা রানী (৩৮) আগের ঋণের অর্থ কাজে লাগিয়ে পরিবারের আয় বাড়ানোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি জানান, আগেরবার ঋণের টাকা দিয়ে তাঁর স্বামী আসবাবপত্র তৈরি করে বিক্রি করেছিলেন। এবার ঋণের অর্থ দিয়ে একটি গরু কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে পরিবারের আয় বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।

ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, ৮৫তম ঋণ বিতরণ অনুষ্ঠানে মোট ১৬৮ জন নারীর মধ্যে ৩০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমবার ঋণ পেয়েছেন ৫০ জন, প্রত্যেকে ১৫ হাজার টাকা করে মোট ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। দ্বিতীয়বার ২২ জনকে ১৫ হাজার টাকা করে মোট ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। তৃতীয়বার ২১ জন পেয়েছেন ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। এ ছাড়া চতুর্থবারের মতো ৭৫ জনকে ২০ হাজার টাকা করে মোট ১৫ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে।

কোনো সুদ, সার্ভিস চার্জ কিংবা জামানত ছাড়াই পরিচালিত বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের এ ঋণ কার্যক্রম সুবিধাবঞ্চিত নারীদের আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করছে। একই সঙ্গে তাঁদের পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতেও সহায়তা করছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

৮৫তম ঋণ বিতরণ: ১৬৮ নারীর হাতে ৩০ লাখ টাকা তুলে দিল বসুন্ধরা

Update Time : 12:08:17 pm, Friday, 30 October 2026

অভাব-অনটনের কারণে যাঁদের স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন বারবার থমকে গেছে, তাঁদের জন্য আশার আলো হয়ে এসেছে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত ঋণ কার্যক্রম। কোনো জামানত ছাড়াই এ ঋণ নিয়ে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের সুযোগ পাচ্ছেন সুবিধাবঞ্চিত নারীরা। এরই ধারাবাহিকতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ১৬৮ নারীর মধ্যে ৩০ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করেছে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন।

গতকাল উপজেলার আকানগর মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ফাউন্ডেশনের ৮৫তম ঋণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপকারভোগীদের হাতে ঋণের অর্থ তুলে দেন বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ময়নাল হোসেন চৌধুরী ও বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম নাছিমুল হাই। মো. চাঁনমিয়া সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের ডিজিএম মাইমুন কবির, ডেপুটি ম্যানেজার মোশাররফ হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

বসুন্ধরা গ্রুপের এ মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে গত দুই দশকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাজারো সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগর উপজেলার এবারকার উপকারভোগী নারীদের প্রত্যেকের ওপর একটি করে পরিবার নির্ভরশীল। আর্থিক সংকটের কারণে নিজেদের উদ্যোগে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ড শুরু করতে না পারলেও বিনা সুদে ঋণ পেয়ে নতুন করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তাঁরা।

অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম নাছিমুল হাই বলেন, চড়া সুদের ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত হয়ে অসচ্ছল নারীরা এখন নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন। এ কার্যক্রম শুধু ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আর্থিক অবস্থার উন্নয়নেই ভূমিকা রাখছে না, গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

ঋণের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ টাকা কোনো অবৈধ কাজে ব্যয় করা যাবে না। সৎ ও বৈধ উপায়ে আয় করার জন্য অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে। এর মাধ্যমে পরিবারের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকপক্ষের জন্য দোয়া করারও আহ্বান জানান তিনি।

বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ময়নাল হোসেন চৌধুরী বলেন, সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত ঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে বসুন্ধরা গ্রুপ একটি অনন্য মানবিক উদ্যোগ পরিচালনা করছে। ঋণ বিতরণের পাশাপাশি শিক্ষাবৃত্তি, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, প্রশিক্ষণ, সেলাই মেশিন বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের পাশে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

তিনি আরও বলেন, বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের এ কার্যক্রম গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি তাঁদের আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ঋণের অর্থ হাতে পেয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন উপকারভোগীরা। নবীনগর উপজেলার থোল্লাকান্দি গ্রামের শিল্পী আক্তার (৩০) জানান, ঋণের টাকা কাজে লাগিয়ে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করতে চান তিনি।

একই উপজেলার বাড়াইল গ্রামের মর্জিনা আক্তার (৩৫) বলেন, তাঁর স্বামী কৃষিকাজ করেন। ঋণের অর্থ কৃষিকাজে বিনিয়োগ করে সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে চান তাঁরা।

অন্যদিকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আকানগর গ্রামের গীতা রানী (৩৮) আগের ঋণের অর্থ কাজে লাগিয়ে পরিবারের আয় বাড়ানোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি জানান, আগেরবার ঋণের টাকা দিয়ে তাঁর স্বামী আসবাবপত্র তৈরি করে বিক্রি করেছিলেন। এবার ঋণের অর্থ দিয়ে একটি গরু কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে পরিবারের আয় বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।

ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, ৮৫তম ঋণ বিতরণ অনুষ্ঠানে মোট ১৬৮ জন নারীর মধ্যে ৩০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমবার ঋণ পেয়েছেন ৫০ জন, প্রত্যেকে ১৫ হাজার টাকা করে মোট ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। দ্বিতীয়বার ২২ জনকে ১৫ হাজার টাকা করে মোট ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। তৃতীয়বার ২১ জন পেয়েছেন ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। এ ছাড়া চতুর্থবারের মতো ৭৫ জনকে ২০ হাজার টাকা করে মোট ১৫ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে।

কোনো সুদ, সার্ভিস চার্জ কিংবা জামানত ছাড়াই পরিচালিত বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের এ ঋণ কার্যক্রম সুবিধাবঞ্চিত নারীদের আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করছে। একই সঙ্গে তাঁদের পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতেও সহায়তা করছে।