এক ঘরে দুই প্রার্থী!
হরিনারায়ণপুরে দুই ভাইয়ের নির্বাচনী লড়াই নিয়ে তুমুল আলোচনা
- Update Time : 09:28:54 am, Wednesday, 28 October 2026
- / 34 Time View
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিনারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন একই পরিবারের দুই ভাই।হরিনারায়ণপুর ইউনিয়নের পূর্ব আব্দালপুর গ্রামের সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান এস এম গোলাম রশীদ ও ফজলুর রহমান স্বাধীন দুজনই চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় ইউনিয়নজুড়ে চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বাজার ও স্থানীয় রাজনৈতিক আড্ডা—সবখানেই এখন আলোচনার বিষয় দুই ভাইয়ের নির্বাচনী লড়াই। একসময় পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ এই দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্কের টানাপোড়েন চললেও আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সেই বিরোধ এখন প্রকাশ্যে এসেছে।বড় ভাই এস এম গোলাম রশীদ হরিনারায়ণপুর ইউনিয়নের সাবেক দুইবারের চেয়ারম্যান। তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সার্চ কমিটির প্রধান এবং কুষ্টিয়া সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে ফজলুর রহমান স্বাধীন সাবেক ছাত্রনেতা এবং হরিনারায়ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। স্থানীয় রাজনীতিতে দুজনেরই পরিচিতি ও নিজস্ব সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছে। তবে রাজনৈতিক বলয়ের দিক থেকে তাঁরা ভিন্ন অবস্থানে রয়েছেন। দুজনই জেলার শীর্ষ দুই রাজনৈতিক ব্যাক্তির অনুসারি। ফজলুর রহমান স্বাধীন দীর্ঘদিন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত থাকলেও পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের আগে তাঁর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয় বলে জানা গেছে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে দুই ভাইয়ের বক্তব্যেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তাঁদের অবস্থানের পার্থক্য। সম্প্রতি পূর্ব আব্দালপুর গ্রামের একাংশের মানুষের উদ্যোগে ফজলুর রহমান স্বাধীনকে সমর্থন জানিয়ে একটি জনসভার আয়োজন করা হয়। সেখানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, তাঁর বড় ভাইয়ের শারীরিক অবস্থা আগের মতো ভালো নেই। একসময় তাঁরা অর্থ ব্যয় করে বড় ভাইকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছিলেন। বর্তমানে তাঁর বয়স হয়েছে এবং গ্রামের মানুষ তাঁকে সমর্থন করছেন। তাই চেয়ারম্যান হিসেবে জনগণ তাঁকেই বেছে নেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে, একই দিনে ইউনিয়ন বিএনপির একটি আলোচনা সভায় এস এম গোলাম রশীদ তাঁর ভাইয়ের প্রার্থিতা নিয়ে আপত্তি জানান। তিনি দাবি করেন, দল থেকে বহিষ্কৃত ব্যক্তির নির্বাচনে জনসমর্থন নেই এবং তাঁর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে চলার অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি জেলা বিএনপির নেতারা যাঁকে সমর্থন দেবেন, তাঁরা সবাই তাঁর সঙ্গে কাজ করবেন বলে মন্তব্য করেন। দুই ভাইয়ের এমন পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে নির্বাচনী আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। তবে রাজনৈতিক আঁতাতের অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার পাশাপাশি ভোটের হিসাব-নিকাশ নিয়েও শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। একই পরিবারের দুই প্রার্থী হওয়ায় তাঁদের নিজস্ব সমর্থকগোষ্ঠী, রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং এলাকার মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা নির্বাচনী সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। পূর্ব আব্দালপুরের মকবুল হোসেনের পাঁচ সন্তানের মধ্যে এস এম গোলাম রশীদ বড় এবং ফজলুর রহমান স্বাধীন ছোট সন্তান বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়। তাঁদের আরেক ভাই জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলে তিনি ছোট ভাইয়ের সমর্থন দিচ্ছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। একই পরিবারের সদস্যদের ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানও স্থানীয় আলোচনায় উঠে এসেছে।
এলাকার সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা রাজনৈতিক পক্ষপাতের চেয়ে নির্বাচনে গুরুত্ব পাক ইউনিয়নের উন্নয়ন, রাস্তাঘাটের সংস্কার, জলাবদ্ধতা নিরসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়গুলো।
সব মিলিয়ে হরিনারায়ণপুর ইউনিয়নের আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে দুই ভাইয়ের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে সাবেক দুইবারের চেয়ারম্যান ও অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতা এস এম গোলাম রশীদ, অন্যদিকে সাবেক ছাত্রনেতা ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান স্বাধীন। তাঁদের এই লড়াই শেষ পর্যন্ত পারিবারিক বিরোধের প্রতিফলন হয়ে থাকবে, নাকি ভোটের মাঠে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করবে—সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন ইউনিয়নের বাসিন্দারা। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, হরিনারায়ণপুরের মানুষ শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেবেন তাঁদের আগামী দিনের চেয়ারম্যান হিসেবে?
এ বিষয়ে ফজলুর রহমান স্বাধীনকে ফোন করা হলে তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি তবে তার বড় ভাই এস এম গোলাম রশীদ বলেন, আমরা ইউনিয়ননের চারজন দল থেকে দলীয় সমর্থন চাচ্ছি কিন্তু আমার ভাই আওয়ামীলিগে চলে গিছিলো সে দল থেকে বহিষ্কার ও হয়েছিল এখন পর্যন্ত সে দলে আছে কিনা জেলা কমিটি থানা কমিটি এ বিষয়ে কিছু জানেনা।
এসকাগজ/আরডি











