জাহাজ নির্মাণ পুনঃপ্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক জট খোলার নীতিগত সিদ্ধান্ত
- Update Time : 09:54:56 am, Tuesday, 6 October 2026
- / 9 Time View
আন্তর্জাতিক বাজার প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ও বৈদেশিক ক্রয়াদেশের ধারা বজায় রাখতে জাহাজ নির্মাণ ও পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ খাতের প্রশাসনিক জট খোলার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সমন্বয়ে কেন্দ্রীয় ফাইল অনুমোদন প্রক্রিয়াকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে হস্তান্তরের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।
এর মাধ্যমে ইয়ার্ড ছাড়পত্র পেতে দীর্ঘ ৪৫ থেকে ৬০ দিনের অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব দূর করার পাশাপাশি সেন্ট্রাল ‘ট্রিটমেন্ট, স্টোরেজ অ্যান্ড ডিসপোজাল ফ্যাসিলিটি’(টিএসডিএফ) স্থাপনে গতি আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ শিল্পসংক্রান্ত আইন, বিধি ও নীতিমালা পর্যালোচনার লক্ষ্যে গঠিত উচ্চপর্যায়ের জাতীয় বিশেষজ্ঞ কমিটির সভায় এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
চট্টগ্রামে ফাইল অনুমোদন ও ওয়ান স্টপ সার্ভিস
প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে শিপ ইয়ার্ডগুলোর ছাড়পত্র পেতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রয়াদেশ হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এই জটিলতা কাটাতে পরিবেশ অধিদপ্তরের সমস্ত ফাইল চট্টগ্রামের স্থানীয় কার্যালয় থেকেই দ্রুত পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাণিজ্য ও শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সভায় জোর দিয়ে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রয়াদেশ পেতে হলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার অবসান ঘটানো ছাড়া বিকল্প নেই। নিয়মকানুন এমন হওয়া উচিত যা বাস্তবে প্রয়োগযোগ্য। যেসব নিয়ম বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়, সেগুলোকে লাল ফিতার দৌরাত্ম্যে ফেলে রেখে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক খাতকে বাধাগ্রস্ত করার কোনো সুযোগ নেই।’
তিনি আরো জানান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (বিডা) যুক্ত করে একটি বিশেষ ওয়ান স্টপ সার্ভিস প্ল্যাটফর্মের ওয়ার্কিং গ্রুপ ইতোমধ্যে তাদের মূল কাজ শুরু করেছে।
টিএসডিএফ এবং হংকং কনভেনশনের পূর্ণ বাস্তবায়ন
জাহাজ ভাঙা ও পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ খাতে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো পরিবেশ সুরক্ষা ও বিপজ্জনক বর্জ্য শোধন। সেন্ট্রাল টিএসডিএফ অবকাঠামো না থাকায় বিশ্বস্ত আন্তর্জাতিক জাহাজ মালিকরা, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) উন্নতমানের শিপিং লাইনগুলো বাংলাদেশে তাদের পুরোনো জাহাজ পাঠাতে ইতস্তত করছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আওয়াল মিন্টু সভার সভাপতি হিসেবে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে জানান, বর্জ্য শোধন ও নিরাপদে নিষ্পত্তির জন্য প্রস্তাবিত সেন্ট্রাল টিএসডিএফ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। আন্তর্জাতিক হংকং কনভেনশন (এইচকেসি) অনুযায়ী শিপ-ইয়ার্ডগুলোকে ‘গ্রিন ইয়ার্ড’-এ রূপান্তর করতে না পারলে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে দেশ পিছিয়ে পড়বে।
তিনি বলেন, ‘দেশীয় রি-রোলিং ও আবাসন খাতে কাঁচামালের অব্যাহত সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি আমাদের আন্তর্জাতিক কনভেনশনগুলো পুরোপুরি মেনে চলতে হবে।
ব্যাংক ঋণ ও বাণিজ্য সহজীকরণ
কমিটির আলোচনায় ব্যাংক খাতের পুরনো আটকে থাকা ঋণ এবং বিনিয়োগ ঘাটতির বিষয়টি গুরুত্ব লাভ করে। ব্যাংকগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ না বাড়িয়ে কিংবা পুরনো আইনি জটিলতায় দীর্ঘ সময় নষ্ট না করে, নতুন অর্থনৈতিক কাঠামোর আওতায় উদ্যোক্তাদের সরাসরি সুবিধা প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। খুব শিগগিরই শিপ-ইয়ার্ড মালিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে একটি সমন্বিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
সভায় শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং আইন ও সংসদ বিষয়ক সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা সহ সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।









