উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে চুয়েট শিক্ষার্থীরা
- Update Time : 11:51:18 am, Tuesday, 6 October 2026
- / 2 Time View
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে প্রায় দুই সপ্তাহ পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে চট্টগ্রাম নগরে কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।
চুয়েট ক্যাম্পাস থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দূরের প্রেস ক্লাব এলাকায় পাঁচটি বাসে করে শতাধিক শিক্ষার্থী কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ ছাড়া নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকেও চুয়েটের শিক্ষার্থীরা এতে যোগ দেন।
কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
এর মধ্যে ছিল ‘চুয়েট সচলে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ’, ‘চুয়েট রিভোল্টস ফর সায়েম স্যার’ ও ‘পিএম, কনসিডার আওয়ার অ্যাপিল’। এ সময় ‘দফা এক, দাবি এক, অনলাইন ভিসির পদত্যাগ’ এবং ‘দাবি মোদের একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।
মানববন্ধনে পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আসাদুল্লাহ হিল গালিব বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছেন। তবে সংকট সমাধানে এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
সরকারের কাছে অধ্যাপক সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবি জানান তিনি।
চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আহনাফ শাহরিয়ার অর্ণব, মাহিরা তাজরিন ও যুলকারনাইন মিহাদ কর্মসূচিতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
লিখিত বক্তব্যে শিক্ষার্থীরা বলেন, চুয়েটের চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ায় ক্লাস, পরীক্ষা, গবেষণা ও শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের জন্য সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান তারা।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইমদাদুল হক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা শান্তিপূর্ণভাবে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আসছেন।
এখনো এ বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত না আসায় ক্যাম্পাসের বাইরে এসে দাবি জানাতে হচ্ছে। দ্রুত বিষয়টি বিবেচনা করে চুয়েটের সংকট সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব নেওয়ার ৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে ওই দিন থেকেই আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।
পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন তারা। এরপর লাল কার্ড প্রদর্শন, মশাল মিছিল ও মুখোশ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।
আন্দোলনের ১৫তম দিনেও চুয়েটের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে।









