Dhaka 8:13 pm, Monday, 5 October 2026
সর্বশেষ
মন্টেনেগ্রোতে বছরে ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনা শিশুদের নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার গুলিস্তানে অভিযান চালিয়ে ৩১৬ চোরাই মোবাইলসহ গ্রেপ্তার ১৩ বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে ঢাবিতে দাবা টুর্নামেন্ট ১৬ কোটি টাকার সোনা উদ্ধার : দুই বিমানকর্মী পাঁচ দিনের রিমান্ডে রিমান্ড শেষে কারাগারে গাজী নজরুলের গাড়িচালক ওবায়দুর তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ১০০ শতাংশের বেশি ভারতীয় ২ নাগরিককে ‘গুলি করে’ বাংলাদেশে ঠেলে দিল বিএসএফ প্রেম ও অর্থের জেরে ছাত্রদল নেতা জিসানকে হত্যা : পুলিশ রাবিতে হামলা, চোখে কালো কাপড় বেঁধে ইবি সাংবাদিকদের প্রতিবাদ

মন্টেনেগ্রোতে বছরে ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 01:16:46 pm, Monday, 5 October 2026
  • / 1 Time View

বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ৫০ হাজারের বেশি দক্ষ ও পেশাজীবী কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্টেনেগ্রোর পার্লামেন্ট সদস্য গোরদান স্তোয়োভিচ। বাংলাদেশ থেকে পর্যটন, নির্মাণ, আতিথেয়তা ও চিকিৎসাসেবাসহ বিভিন্ন খাতে কর্মী নিয়োগে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তির সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (৫ অক্টোবর) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও মন্টেনেগ্রোর মধ্যে পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠনের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকে শামা ওবায়েদ ইসলাম বাংলাদেশ ও মন্টেনেগ্রোর সম্পর্ক আরো জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। দুই দেশের পার্লামেন্টের মধ্যে সম্পর্ক সম্প্রসারণ, সংসদীয় কূটনীতি জোরদার, প্রতিনিধি দলের সফর বিনিময় এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে বাংলাদেশ-মন্টেনেগ্রো পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠনের বিষয়ে আলোচনা করেন তারা।

বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানোর ব্যাপক সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো দূর করে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মন্টেনেগ্রো একটি আমদানিনির্ভর দেশ উল্লেখ করে গোরদান স্তোয়োভিচ বলেন, তৈরি পোশাকের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক এবং পাট ও পাটজাত পণ্য আমদানি বাড়াতে পারে তার দেশ।

বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগের বিষয়টিও বৈঠকে তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। কৃষি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সামুদ্রিক খাদ্য, পরিবেশবান্ধব পর্যটন, তৈরি পোশাক, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো খাতে বিনিয়োগের সুযোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে মন্টেনেগ্রোর বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা জানান দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য।

পর্যটনে মন্টেনেগ্রোর গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক অবস্থানের কথা উল্লেখ করে গোরদান স্তোয়োভিচ বাংলাদেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে যৌথ সহযোগিতা ও বিনিয়োগের আগ্রহের কথাও জানান।

বৈঠকে শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি, জনশক্তি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ, মানব চলাচল ও অভিবাসন, ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিভিন্ন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও অংশীদারত্ব নিয়েও আলোচনা হয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তির বৈধ অভিবাসন বাড়াতে কাজ করছে। বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী, প্রকৌশলী, নির্মাণশ্রমিক ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মীসহ বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনশক্তি রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্টেনেগ্রোর পার্লামেন্ট সদস্য জানান, তার দেশে প্রতি বছর ৫০ হাজারের বেশি এমন জনশক্তির প্রয়োজন রয়েছে। মন্টেনেগ্রোর শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে পর্যটন, নির্মাণ, আতিথেয়তা ও চিকিৎসাসেবার মতো খাতে বাংলাদেশ থেকে জি-টু-জি চুক্তির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনার বিষয়েও তিনি ইতিবাচক সাড়া দেন।

বাংলাদেশি কর্মীরা যাতে মন্টেনেগ্রোর অর্থনীতিতে আরো কার্যকরভাবে অবদান রাখতে পারেন, সে জন্য ওয়ার্ক পারমিট প্রক্রিয়া সহজ করা এবং শ্রমিকদের চলাচলসংক্রান্ত চুক্তি কার্যকর করার ওপর উভয় পক্ষ গুরুত্ব দেয়।

বৈঠকে বাল্টিক অঞ্চলসহ এর বাইরেও আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে মন্টেনেগ্রোর সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মন্টেনেগ্রোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর নতুন সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগানোর বিষয়ে তারা একমত হন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মন্টেনেগ্রোতে বছরে ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনা

Update Time : 01:16:46 pm, Monday, 5 October 2026

বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ৫০ হাজারের বেশি দক্ষ ও পেশাজীবী কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্টেনেগ্রোর পার্লামেন্ট সদস্য গোরদান স্তোয়োভিচ। বাংলাদেশ থেকে পর্যটন, নির্মাণ, আতিথেয়তা ও চিকিৎসাসেবাসহ বিভিন্ন খাতে কর্মী নিয়োগে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তির সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (৫ অক্টোবর) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও মন্টেনেগ্রোর মধ্যে পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠনের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকে শামা ওবায়েদ ইসলাম বাংলাদেশ ও মন্টেনেগ্রোর সম্পর্ক আরো জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। দুই দেশের পার্লামেন্টের মধ্যে সম্পর্ক সম্প্রসারণ, সংসদীয় কূটনীতি জোরদার, প্রতিনিধি দলের সফর বিনিময় এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে বাংলাদেশ-মন্টেনেগ্রো পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠনের বিষয়ে আলোচনা করেন তারা।

বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানোর ব্যাপক সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো দূর করে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মন্টেনেগ্রো একটি আমদানিনির্ভর দেশ উল্লেখ করে গোরদান স্তোয়োভিচ বলেন, তৈরি পোশাকের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক এবং পাট ও পাটজাত পণ্য আমদানি বাড়াতে পারে তার দেশ।

বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগের বিষয়টিও বৈঠকে তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। কৃষি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সামুদ্রিক খাদ্য, পরিবেশবান্ধব পর্যটন, তৈরি পোশাক, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো খাতে বিনিয়োগের সুযোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে মন্টেনেগ্রোর বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা জানান দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য।

পর্যটনে মন্টেনেগ্রোর গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক অবস্থানের কথা উল্লেখ করে গোরদান স্তোয়োভিচ বাংলাদেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে যৌথ সহযোগিতা ও বিনিয়োগের আগ্রহের কথাও জানান।

বৈঠকে শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি, জনশক্তি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ, মানব চলাচল ও অভিবাসন, ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিভিন্ন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও অংশীদারত্ব নিয়েও আলোচনা হয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তির বৈধ অভিবাসন বাড়াতে কাজ করছে। বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী, প্রকৌশলী, নির্মাণশ্রমিক ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মীসহ বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনশক্তি রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্টেনেগ্রোর পার্লামেন্ট সদস্য জানান, তার দেশে প্রতি বছর ৫০ হাজারের বেশি এমন জনশক্তির প্রয়োজন রয়েছে। মন্টেনেগ্রোর শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে পর্যটন, নির্মাণ, আতিথেয়তা ও চিকিৎসাসেবার মতো খাতে বাংলাদেশ থেকে জি-টু-জি চুক্তির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনার বিষয়েও তিনি ইতিবাচক সাড়া দেন।

বাংলাদেশি কর্মীরা যাতে মন্টেনেগ্রোর অর্থনীতিতে আরো কার্যকরভাবে অবদান রাখতে পারেন, সে জন্য ওয়ার্ক পারমিট প্রক্রিয়া সহজ করা এবং শ্রমিকদের চলাচলসংক্রান্ত চুক্তি কার্যকর করার ওপর উভয় পক্ষ গুরুত্ব দেয়।

বৈঠকে বাল্টিক অঞ্চলসহ এর বাইরেও আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে মন্টেনেগ্রোর সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মন্টেনেগ্রোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর নতুন সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগানোর বিষয়ে তারা একমত হন।