ভারতীয় ২ নাগরিককে ‘গুলি করে’ বাংলাদেশে ঠেলে দিল বিএসএফ
- Update Time : 12:00:59 pm, Monday, 5 October 2026
- / 5 Time View
কুড়িগ্রামের উলিপুর সীমান্তে গরু পাচারকারী সন্দেহে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে দুই ভারতীয় নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তারা রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহতরা হলেন—ভারতের দক্ষিণ সালমারা-মাঙ্কাচর জেলার সুখচর থানার বড়বালু গ্রামের ইসমাইল হোসেন (৩৫) এবং একই এলাকার খাজা আব্দুল আলীম (৩৯)।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতরা রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুরাতন ভবনের চতুর্থ তলায় ১৫ নম্বর সার্জারি পুরুষ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলির মতো ক্ষত ও রক্তাক্ত জখম রয়েছে।
চিকিৎসাধীন ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘রবিবার (৪ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে ভারতের আসাম রাজ্যের দক্ষিণ সালমারা-মাঙ্কাচর জেলার নারায়ণপুর স্থলবন্দর সংলগ্ন চরে আমরা আমাদের গরু দেখাশোনা করছিলাম।
এসময় বিএসএফ এসে আমাদের বাংলাদেশি বলে গালাগাল করে। আমরা বিএসএফ সদস্যদের বলি, আমরা ভারতীয় ও গরু পাচারকারী নই এবং গরুগুলো আমাদের নিজের। আপনারা প্রতিদিন দেখেন। কিন্তু বিএসএফ কোনো কথা না শুনে দুই নদী পার করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় ও গুলি করে।
তিনি আরো বলেন, ‘প্রায় এক ঘণ্টা জ্ঞান ছিল না আমার। এ সময় তারা আমাদের বাংলাদেশে ছেড়ে দেয়। পরে নদীতে মাছ ধরতে থাকা দুই বাংলাদেশির কাছে সাহায্য চাইলে তারা আমাদের সহযোগিতা করেন। তারা প্রথমে যাত্রাপুর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসা না হওয়ায় সেখান থেকে রাত ৯টায় রংপুরে বেসরকারি হাসপাতালে নেন।
এরপর তারা চলে যান। এরপর পুলিশ খবর পেয়ে রাত দেড়টার দিকে আমাদের হাসপাতালে ভর্তি করায়।’
সরেজমিন দেখা যায়, ইসমাইলের শরীরে অসংখ্য ছররা গুলির দাগ। ডান হাতে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। চিকিৎসক ব্যান্ডেজ করে দিয়েছেন। স্যালাইন চলছে তার। অন্যদিকে গুরুতর অসুস্থ খাজা আব্দুল আলীম (৩৯) কথা বলতে পারছেন না। তার শরীরেও অসংখ্য ছররা গুলির দাগ। ডান পেটে গুলিবিদ্ধ হওয়ায় ব্যান্ডেজ করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে, ঘটনাটি কুড়িগ্রামের উলিপুর সীমান্ত এলাকায় ঘটেছে বলে জানা গেলেও বিষয়টি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানাতে পারেননি কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি।
এ বিষয়ে জানতে কুড়িগ্রাম বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, আহত দুই ব্যক্তি রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে তারা রয়েছে।











