Dhaka 10:29 pm, Sunday, 27 September 2026
সর্বশেষ
সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যেকোনো অভিযানের জন্য প্রস্তুত ভারত : রাজনাথ সিং বনানীতে ছিনতাইয়ের সময় গ্রেপ্তার আলীর নিজ এলাকায় ১০০ কাঠা জমি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের দক্ষ শ্রমিকের বড় সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে রাড্ডার সংস্কার করে দ্রুত সেবা চালু করা হবে : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সংবিধানে ফিরছে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা’, জানুয়ারিতে সংশোধন বিল নদী অধিকার ও পানির ন্যায্য বণ্টনে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে স্কুলছাত্রীর দাঁত ভাঙার ঘটনায় প্রধান আসামি গ্রেপ্তার ইউক্রেনের বৃহত্তম মোবাইল অপারেটরের সদর দপ্তরে রুশ হামলা ড্রেজার থেকে নিখোঁজ, ৬ দিন পর তিতাস নদীতে মিলল মরদেহ ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে দুর্নীতি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না

নদী অধিকার ও পানির ন্যায্য বণ্টনে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 03:41:11 pm, Sunday, 27 September 2026
  • / 1 Time View

বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বাংলাদেশের নদী অধিকার ও আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় রাজধানীর পানি ভবন মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের নদী অধিকার ও আন্তর্জাতিক পানির ন্যায্য বণ্টন’ শীর্ষক এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। দেশের অর্থনীতি, কৃষি, জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ এবং মানুষের জীবন-জীবিকা নদীর সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাই নদী রক্ষা শুধু পরিবেশ রক্ষার বিষয় নয়, এটি মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ রক্ষার বিষয়।

ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, অভিন্ন নদীগুলোর পানি ব্যবস্থাপনায় ন্যায্যতা, সমতা, পারস্পরিক স্বার্থ এবং কোনো পক্ষের ক্ষতি না করার নীতি অনুসরণ করতে হবে।

আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি কোনো একক দেশের সম্পদ নয়। উজান ও ভাটির দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমঝোতার ভিত্তিতে এসব নদীর পানিব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। 

গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ, ন্যায্য হিস্যা ও দীর্ঘমেয়াদি পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নতুন করে কার্যকর ও টেকসই সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। একই সঙ্গে তিস্তা নদীসহ অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার বিষয়েও বাংলাদেশ তার যৌক্তিক দাবি অব্যাহত রাখবে।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক সম্মানভিত্তিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে সেই সম্পর্কের ভিত্তি হতে হবে পারস্পরিক স্বার্থ, ন্যায্যতা ও আস্থার ওপর। অভিন্ন নদীর পানিব্যবস্থাপনায় নিয়মিত তথ্য বিনিময়, পূর্বাভাস, যৌথ গবেষণা ও সমন্বিত নদী অববাহিকা ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ।

নদী দখল, দূষণ ও অবৈধ স্থাপনা বন্ধের ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নদীকে বাঁচাতে হলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে।

নদী দখল ও দূষণের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নদী পুনরুদ্ধারে সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশেষজ্ঞ, গবেষক, পরিবেশবিদ ও স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। 

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ ক্রমেই পানি ও জলবায়ুজনিত ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছে উল্লেখ করে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, এ বাস্তবতায় পানিসম্পদের সমন্বিত, বিজ্ঞানভিত্তিক ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। নদী রক্ষা ও পানির ন্যায্য বণ্টনের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান আরো সুদৃঢ় করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হবে এমন একটি পানিব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে নদী থাকবে প্রাণবন্ত, মানুষ পাবে নিরাপদ ও ন্যায্য পানির অধিকার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশের নদী ও জলসম্পদ সুরক্ষিত থাকবে।’

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এমপি। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত। অনুষ্ঠানে মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান খোকন এমপিও উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বিশেষজ্ঞ আলোচকেরা বাংলাদেশের নদী, আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনা, নদী অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানি নিরাপত্তার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা, পানি বিশেষজ্ঞ, গবেষক, পরিবেশবিদ, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা এতে উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

নদী অধিকার ও পানির ন্যায্য বণ্টনে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান

Update Time : 03:41:11 pm, Sunday, 27 September 2026

বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বাংলাদেশের নদী অধিকার ও আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় রাজধানীর পানি ভবন মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের নদী অধিকার ও আন্তর্জাতিক পানির ন্যায্য বণ্টন’ শীর্ষক এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। দেশের অর্থনীতি, কৃষি, জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ এবং মানুষের জীবন-জীবিকা নদীর সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাই নদী রক্ষা শুধু পরিবেশ রক্ষার বিষয় নয়, এটি মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ রক্ষার বিষয়।

ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, অভিন্ন নদীগুলোর পানি ব্যবস্থাপনায় ন্যায্যতা, সমতা, পারস্পরিক স্বার্থ এবং কোনো পক্ষের ক্ষতি না করার নীতি অনুসরণ করতে হবে।

আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি কোনো একক দেশের সম্পদ নয়। উজান ও ভাটির দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমঝোতার ভিত্তিতে এসব নদীর পানিব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। 

গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ, ন্যায্য হিস্যা ও দীর্ঘমেয়াদি পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নতুন করে কার্যকর ও টেকসই সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। একই সঙ্গে তিস্তা নদীসহ অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার বিষয়েও বাংলাদেশ তার যৌক্তিক দাবি অব্যাহত রাখবে।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক সম্মানভিত্তিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে সেই সম্পর্কের ভিত্তি হতে হবে পারস্পরিক স্বার্থ, ন্যায্যতা ও আস্থার ওপর। অভিন্ন নদীর পানিব্যবস্থাপনায় নিয়মিত তথ্য বিনিময়, পূর্বাভাস, যৌথ গবেষণা ও সমন্বিত নদী অববাহিকা ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ।

নদী দখল, দূষণ ও অবৈধ স্থাপনা বন্ধের ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নদীকে বাঁচাতে হলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে।

নদী দখল ও দূষণের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নদী পুনরুদ্ধারে সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশেষজ্ঞ, গবেষক, পরিবেশবিদ ও স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। 

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ ক্রমেই পানি ও জলবায়ুজনিত ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছে উল্লেখ করে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, এ বাস্তবতায় পানিসম্পদের সমন্বিত, বিজ্ঞানভিত্তিক ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। নদী রক্ষা ও পানির ন্যায্য বণ্টনের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান আরো সুদৃঢ় করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হবে এমন একটি পানিব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে নদী থাকবে প্রাণবন্ত, মানুষ পাবে নিরাপদ ও ন্যায্য পানির অধিকার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশের নদী ও জলসম্পদ সুরক্ষিত থাকবে।’

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এমপি। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত। অনুষ্ঠানে মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান খোকন এমপিও উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বিশেষজ্ঞ আলোচকেরা বাংলাদেশের নদী, আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনা, নদী অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানি নিরাপত্তার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা, পানি বিশেষজ্ঞ, গবেষক, পরিবেশবিদ, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা এতে উপস্থিত ছিলেন।