Dhaka 4:23 am, Tuesday, 29 September 2026
সর্বশেষ
সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে সাইবার সুরক্ষা আইনের অপপ্রয়োগ চাই না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা-ভাঙচুর : গ্রেপ্তার আরো দুই আসামি কারাগারে সঠিক তথ্য নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহের কাজ শেষ হবে : রোসাটম রাজধানীতে আ. লীগের সাবেক এমপির বাসা থেকে ছাত্রলীগের ১৫ নেতাকর্মী আটক বায়ুদূষণ ও তামাক নিয়ন্ত্রণে জোর দিলেন বিশেষজ্ঞরা বিমানবাহিনীর ৫৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন মাঠ পর্যায়ে রাজস্ব আদায়ে গতিশীলতা বাড়াতে অধ্যাদেশ সংশোধন জামায়াতের ১০০ কোটি টাকা পরিশোধে ভিক্ষা করতে হচ্ছে এনসিপিকে বাণিজ্য ও জলবায়ু কার্যক্রমে সরকারকে সহযোগিতার অঙ্গীকার ইইউ রাষ্ট্রদূতদের

বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় স্কুলছাত্রীকে হত্যা, ১৯ বছর পর পলাতক আসামির মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 01:51:34 pm, Sunday, 27 September 2026
  • / 5 Time View

বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী মাহমুদা আক্তার রক্সিকে হত্যার মামলায় ১৯ বছর পর রেজাউল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করে তার সাজা কার্যকরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. হুমায়ুন কবির এ রায় দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রেজাউল ইসলাম রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার অভিরাম নুরপুর গ্রামের বাসিন্দা। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. আমিনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, ২০০৭ সালের ২৮ মার্চ আশুলিয়ার বাসিন্দা ও পিতৃহারা এতিম স্কুলছাত্রী মাহমুদা আক্তার রক্সিকে বিয়ের প্রস্তাব দেন রেজাউল ইসলাম।

রক্সি ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে রেজাউল তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকেন। 

এর কয়েক দিন পর ২০০৭ সালের ২ এপ্রিল সকালে রক্সির ঘরে ঢুকে ধারালো শাবল দিয়ে তার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করেন রেজাউল। গুরুতর আহত অবস্থায় রক্সিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন রাতে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় রক্সির খালাতো ভাই নুরুল ইসলাম বাবু বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে ওই বছরের ৪ জুলাই আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক আব্দুল আলিম রেজাউল ইসলামকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। ২০০৮ সালের ৪ মার্চ আদালত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

জানা যায়, বিচার চলাকালে মামলার বাদী, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক, রেজাউলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডকারী ম্যাজিস্ট্রেট, তদন্ত কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীসহ মোট ১২ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

মামলার বিচার চলাকালে জামিনে গিয়ে আদালতে হাজির না হয়ে পলাতক রয়েছেন রেজাউল। রায় ঘোষণার সময় আদালত তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে সাজা কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় স্কুলছাত্রীকে হত্যা, ১৯ বছর পর পলাতক আসামির মৃত্যুদণ্ড

Update Time : 01:51:34 pm, Sunday, 27 September 2026

বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী মাহমুদা আক্তার রক্সিকে হত্যার মামলায় ১৯ বছর পর রেজাউল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করে তার সাজা কার্যকরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. হুমায়ুন কবির এ রায় দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রেজাউল ইসলাম রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার অভিরাম নুরপুর গ্রামের বাসিন্দা। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. আমিনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, ২০০৭ সালের ২৮ মার্চ আশুলিয়ার বাসিন্দা ও পিতৃহারা এতিম স্কুলছাত্রী মাহমুদা আক্তার রক্সিকে বিয়ের প্রস্তাব দেন রেজাউল ইসলাম।

রক্সি ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে রেজাউল তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকেন। 

এর কয়েক দিন পর ২০০৭ সালের ২ এপ্রিল সকালে রক্সির ঘরে ঢুকে ধারালো শাবল দিয়ে তার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করেন রেজাউল। গুরুতর আহত অবস্থায় রক্সিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন রাতে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় রক্সির খালাতো ভাই নুরুল ইসলাম বাবু বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে ওই বছরের ৪ জুলাই আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক আব্দুল আলিম রেজাউল ইসলামকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। ২০০৮ সালের ৪ মার্চ আদালত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

জানা যায়, বিচার চলাকালে মামলার বাদী, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক, রেজাউলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডকারী ম্যাজিস্ট্রেট, তদন্ত কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীসহ মোট ১২ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

মামলার বিচার চলাকালে জামিনে গিয়ে আদালতে হাজির না হয়ে পলাতক রয়েছেন রেজাউল। রায় ঘোষণার সময় আদালত তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে সাজা কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।