অপ্রতিম হত্যা: তুহিনের বাসা থেকে অপ্রতিমের সেই আইফোন উদ্ধার
- Update Time : 04:22:56 am, Sunday, 20 September 2026
- / 31 Time View
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে (১৩) হত্যার পর তাঁর কাছ থেকে নিয়ে যাওয়া আইফোনটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার দিবাগত রাত নয়টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়–সংলগ্ন সালমানপুর এলাকায় তুহিন নামের এক কিশোরের বাসায় অভিযান চালিয়ে ফোনটি উদ্ধার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়–সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে এক কিশোরকে সন্দেহের তালিকায় আনা হয়। পরে ওই কিশোরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁর বাসা থেকেই অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এক সদস্য বলেন, ‘ইতিমধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। পুরো ঘটনার বিস্তারিত রোববার দুপুর ১২টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে।’
ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, শুধু আইফোন নেওয়ার বিষয়টি নয়, হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও একাধিক কারণ রয়েছে। নিহত অপ্রতিমের সঙ্গে আসামিদের পূর্বপরিচয় বা সম্পর্ক ছিল বলেও প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে দেখা যাওয়া কিশোরের বাসা থেকে আইফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে। অপ্রতিম তাঁর মায়ের ওই আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়েছিল।
জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘আমরা পুরো ঘটনার বিস্তারিত রোববার দুপুর ১২টার সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরব। সেই পর্যন্ত সবাইকে অপেক্ষা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।’
জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম বিশ্ববিদ্যালয়–সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা শুরু করে। একটি ফুটেজে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে অপ্রতিমের সঙ্গে এক কিশোরকে দেখা যায়। ওই কিশোরের বয়স অপ্রতিমের চেয়ে বেশি ছিল এবং তাঁর মাথায় ক্যাপ ছিল।
ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে ওই কিশোরের গতিবিধি দেখে সন্দেহ হয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। পরে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি একটি বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজেও অপ্রতিমকে ওই কিশোরের সঙ্গে যেতে দেখা যায়।
এরপর স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ওই কিশোরের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেন প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা। এমনকি অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের আগেই তাঁরা ওই কিশোরের বাড়িতে যান।
পরে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়। শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়–সংলগ্ন কোটবাড়ি এলাকা থেকে ওই কিশোরকে আটক করে ডিবি পুলিশ। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।
নিখোঁজের প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়–সংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পাশের একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এসকাগজ/আরডি









