Dhaka 7:45 pm, Tuesday, 15 September 2026
সর্বশেষ
অবৈধভাবে দখল করা সরকারি জমি পুনরুদ্ধার করা হবে : গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনের সম্ভাব্য সূচি চূড়ান্ত কিছু নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার : গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আ. লীগের সাবেক এমপি আজিজুল আটক যুদ্ধ, সংকট আর ভোট : পুতিনের সামনে নতুন পরীক্ষা এক দিনের সফরে সিলেটের পথে রাষ্ট্রপতি শহীদ ২ সেনা সদস্যের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা বেক্সিমকো ফার্মার পরিচালনা পর্ষদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন সালমান এফ রহমান ইসি ঘোষিত ইউপি নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে সরকার জানে না : প্রতিমন্ত্রী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বিদেশি শিক্ষার্থী-সাংবাদিকদের ভিসায় ট্রাম্পের নিয়ম স্থগিত করলেন আদালত

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 12:04:36 pm, Tuesday, 15 September 2026
  • / 2 Time View

বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকরা যুক্তরাষ্ট্রে কতদিন অবস্থান করতে পারবেন, সে বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন বিধি কার্যকর করার ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। নতুন ওই নিয়মে নির্দিষ্ট সময় পর অবস্থান বাড়াতে আলাদা করে আবেদন করার বাধ্যবাধকতা তৈরি হওয়ার কথা ছিল।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বোস্টনের মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক এফ. ডেনিস সেইলর এই স্থগিতাদেশ দেন। দেশটির কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন ও উচ্চশিক্ষাবিষয়ক সংগঠনের জোটের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই রায় দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) নতুন বিধি কার্যকর হওয়ার এক দিন আগে আদালত তা আটকে দেন।

ডিএইচএস জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং ভিসা ব্যবস্থায় প্রতারণা ঠেকানোর যুক্তিতে নতুন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।

তবে বিচারক বলেন, নীতি পরিবর্তনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উদ্বেগ যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। পাশাপাশি কম কঠোর বিকল্প ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার আইনি দায়িত্বও সংস্থাটি পালন করেনি। 

ভিসার মেয়াদে কী পরিবর্তন আনার কথা ছিল?

বর্তমানে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহৃত এফ ভিসা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির আওতায় দেওয়া জে ভিসার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মেয়াদের পরিবর্তে ‘স্ট্যাটাস বজায় রাখা পর্যন্ত’ যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ রয়েছে। নতুন নিয়মে এফ ও জে ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ চার বছরে সীমাবদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, সাংবাদিকদের জন্য ব্যবহৃত আই ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ ২৪০ দিন করার কথা ছিল। বর্তমানে এই ভিসার মাধ্যমে সাংবাদিকরা তুলনামূলক দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারেন।

বিচারক সেইলর বলেন, প্রায় পাঁচ দশক ধরে চলে আসা ব্যবস্থাকে বদলে নতুন নিয়ম চালু করতে চেয়েছিল হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। তাঁর মতে, এই পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী, অধ্যাপক ও সাংবাদিকদের সামগ্রিক সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয় ও অর্থনীতিতে প্রভাবের আশঙ্কা

আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রায় ১৬ লাখ মানুষ এফ ভিসা এবং আরও প্রায় ৫ লাখ মানুষ জে ভিসার আওতায় রয়েছেন।

ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) ও হার্ভার্ডের মতো গবেষণানির্ভর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে, উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। 

বিচারক বলেন, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যয় কয়েক শ কোটি ডলার বাড়তে পারে এবং শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যাও কমে যেতে পারে। এর ফলে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা ও মার্কিন অর্থনীতিতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

মামলাকারী সংগঠন প্রেসিডেন্টস অ্যালায়েন্স অন হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড ইমিগ্রেশনের প্রধান মিরিয়াম ফেল্ডব্লাম বলেন, আদালতের রায়টি বিদেশি শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় এবং অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়টি স্বীকার করেছে। মামলাটি চলমান থাকলেও এই আদেশের ফলে দীর্ঘদিনের ব্যবস্থা আপাতত বহাল থাকছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আন্তর্জাতিক মেধাবীদের আকর্ষণ, শিক্ষা দেওয়া এবং ধরে রাখার সুযোগ দেবে।

তবে ডিএইচএসের জেনারেল কাউন্সেল জেমস পার্সিভাল আদালতের রায়ের সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকানো কঠিন হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বিদেশি শিক্ষার্থী-সাংবাদিকদের ভিসায় ট্রাম্পের নিয়ম স্থগিত করলেন আদালত

Update Time : 12:04:36 pm, Tuesday, 15 September 2026

বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকরা যুক্তরাষ্ট্রে কতদিন অবস্থান করতে পারবেন, সে বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন বিধি কার্যকর করার ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। নতুন ওই নিয়মে নির্দিষ্ট সময় পর অবস্থান বাড়াতে আলাদা করে আবেদন করার বাধ্যবাধকতা তৈরি হওয়ার কথা ছিল।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বোস্টনের মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক এফ. ডেনিস সেইলর এই স্থগিতাদেশ দেন। দেশটির কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন ও উচ্চশিক্ষাবিষয়ক সংগঠনের জোটের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই রায় দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) নতুন বিধি কার্যকর হওয়ার এক দিন আগে আদালত তা আটকে দেন।

ডিএইচএস জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং ভিসা ব্যবস্থায় প্রতারণা ঠেকানোর যুক্তিতে নতুন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।

তবে বিচারক বলেন, নীতি পরিবর্তনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উদ্বেগ যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। পাশাপাশি কম কঠোর বিকল্প ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার আইনি দায়িত্বও সংস্থাটি পালন করেনি। 

ভিসার মেয়াদে কী পরিবর্তন আনার কথা ছিল?

বর্তমানে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহৃত এফ ভিসা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির আওতায় দেওয়া জে ভিসার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মেয়াদের পরিবর্তে ‘স্ট্যাটাস বজায় রাখা পর্যন্ত’ যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ রয়েছে। নতুন নিয়মে এফ ও জে ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ চার বছরে সীমাবদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, সাংবাদিকদের জন্য ব্যবহৃত আই ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ ২৪০ দিন করার কথা ছিল। বর্তমানে এই ভিসার মাধ্যমে সাংবাদিকরা তুলনামূলক দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারেন।

বিচারক সেইলর বলেন, প্রায় পাঁচ দশক ধরে চলে আসা ব্যবস্থাকে বদলে নতুন নিয়ম চালু করতে চেয়েছিল হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। তাঁর মতে, এই পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী, অধ্যাপক ও সাংবাদিকদের সামগ্রিক সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয় ও অর্থনীতিতে প্রভাবের আশঙ্কা

আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রায় ১৬ লাখ মানুষ এফ ভিসা এবং আরও প্রায় ৫ লাখ মানুষ জে ভিসার আওতায় রয়েছেন।

ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) ও হার্ভার্ডের মতো গবেষণানির্ভর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে, উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। 

বিচারক বলেন, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যয় কয়েক শ কোটি ডলার বাড়তে পারে এবং শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যাও কমে যেতে পারে। এর ফলে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা ও মার্কিন অর্থনীতিতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

মামলাকারী সংগঠন প্রেসিডেন্টস অ্যালায়েন্স অন হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড ইমিগ্রেশনের প্রধান মিরিয়াম ফেল্ডব্লাম বলেন, আদালতের রায়টি বিদেশি শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় এবং অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়টি স্বীকার করেছে। মামলাটি চলমান থাকলেও এই আদেশের ফলে দীর্ঘদিনের ব্যবস্থা আপাতত বহাল থাকছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আন্তর্জাতিক মেধাবীদের আকর্ষণ, শিক্ষা দেওয়া এবং ধরে রাখার সুযোগ দেবে।

তবে ডিএইচএসের জেনারেল কাউন্সেল জেমস পার্সিভাল আদালতের রায়ের সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকানো কঠিন হবে।