Dhaka 3:17 pm, Saturday, 10 October 2026
সর্বশেষ
রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি দিতে গিয়ে নারী আটক জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক কাল সম্প্রীতি ও গণতন্ত্র রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে : নিপুণ রায় শ্রমিক রপ্তানি থেকে কৌশলগত অংশীদারিতে যেতে চায় বাংলাদেশ-সৌদি আরব আইসিসিবিতে বৃষ্টিতেও থামেনি সুপার সেল কার বাজার শেখ মুজিবকে দমনের চেষ্টা, শেষ পর্যন্ত আইয়ুবের পতনের পথ তৈরি ‘বসবাসের উপযোগী রুয়াপ চাই’, দখল-চাঁদাবাজির প্রতিবাদে মানববন্ধন বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়ায় নতুন অধ্যায়, আসছে এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ আবাসন খাত সচলে সহজ গৃহঋণ ও নির্মাণসামগ্রীর দামে স্থিতিশীলতা জরুরি মানসিক অসুস্থতাকে ঘিরে ভয়-কুসংস্কার দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বাবাকে হত্যার দায়ে ছেলের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 11:59:09 am, Tuesday, 15 September 2026
  • / 22 Time View

রাঙামাটির সাজেকে বাবা শান্তি লাল চাকমাকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে সোহেল চাকমাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই ঘটনায় নিহতের ভাতিজা আলোময় চাকমাকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আহসান তারেক এ রায় ঘোষণা করেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও উপস্থাপিত নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।

রায়ে বলা হয়েছে, আসামি আলোময় চাকমা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তার অথবা আদালতে আত্মসমর্পণের পর মৃত্যুদণ্ড রায় কার্যকর করার প্রক্রিয়া নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, কারাগারে আটক আসামি সোহেল চাকমাকে সাজা পরোয়ানাসহ জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। 

আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, এমন পশুবৃত্তিসুলভ ও নির্মম হত্যাকাণ্ড সমাজে বিরল এবং মানবসভ্যতার জন্য চরম হুমকি।

আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. রাশেদ ইকবাল বলেন, মূল আসামি ভাতিজা আলোময় চাকমা বিজ্ঞ আদালত ও উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে পরবর্তী সময়ে পলাতক রয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ডে নিহত শান্তি লাল চাকমার ছেলে সোহেল চাকমার সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

পারিবারিক দ্বন্দ্বে তাকে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। বিজ্ঞ আদালতের শান্তি লাল চাকমার হত্যাকাণ্ডে দুইজনকে ফাঁসির রায় ঘোষণা করে। আমরা পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে উচ্চ আদালতে আপিল করব। 

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট রাতে সাজেক থানার উত্তর ভাইবোনছড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে শান্তিলাল চাকমাকে ডেকে বাইরে নিয়ে যায় আসামিরা। পরে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে এবং ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।

হত্যার পর মরদেহ গঙ্গারাম নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার ৯ দিন পর কাচালং নদী থেকে শান্তিলাল চাকমার গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বাবাকে হত্যার দায়ে ছেলের মৃত্যুদণ্ড

Update Time : 11:59:09 am, Tuesday, 15 September 2026

রাঙামাটির সাজেকে বাবা শান্তি লাল চাকমাকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে সোহেল চাকমাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই ঘটনায় নিহতের ভাতিজা আলোময় চাকমাকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আহসান তারেক এ রায় ঘোষণা করেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও উপস্থাপিত নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।

রায়ে বলা হয়েছে, আসামি আলোময় চাকমা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তার অথবা আদালতে আত্মসমর্পণের পর মৃত্যুদণ্ড রায় কার্যকর করার প্রক্রিয়া নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, কারাগারে আটক আসামি সোহেল চাকমাকে সাজা পরোয়ানাসহ জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। 

আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, এমন পশুবৃত্তিসুলভ ও নির্মম হত্যাকাণ্ড সমাজে বিরল এবং মানবসভ্যতার জন্য চরম হুমকি।

আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. রাশেদ ইকবাল বলেন, মূল আসামি ভাতিজা আলোময় চাকমা বিজ্ঞ আদালত ও উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে পরবর্তী সময়ে পলাতক রয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ডে নিহত শান্তি লাল চাকমার ছেলে সোহেল চাকমার সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

পারিবারিক দ্বন্দ্বে তাকে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। বিজ্ঞ আদালতের শান্তি লাল চাকমার হত্যাকাণ্ডে দুইজনকে ফাঁসির রায় ঘোষণা করে। আমরা পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে উচ্চ আদালতে আপিল করব। 

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট রাতে সাজেক থানার উত্তর ভাইবোনছড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে শান্তিলাল চাকমাকে ডেকে বাইরে নিয়ে যায় আসামিরা। পরে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে এবং ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।

হত্যার পর মরদেহ গঙ্গারাম নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার ৯ দিন পর কাচালং নদী থেকে শান্তিলাল চাকমার গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।