Dhaka 3:58 pm, Wednesday, 22 April 2026

অবশেষে মুক্তি পেলেন দেড় মাসের বাচ্চার মা সেই যুব মহিলা লীগ নেত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 07:56:56 am, Wednesday, 22 April 2026
  • / 6 Time View

রাজধানীর তেজগাঁও থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক ও সহিংসতার মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যাওয়া এজাহারভুক্ত আসামি শিল্পী বেগম অবশেষে জামিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মুক্তি পেয়েছেন। তার সঙ্গে থাকা দেড় মাস বয়সী নবজাতক শিশুটিকেও কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে তারা মুক্তি পান।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, জামিন মঞ্জুর হলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে বিচারকের সই বাকি থাকায় তাৎক্ষণিক মুক্তি সম্ভব হয়নি। ফলে মা ও শিশুকে এক রাত কারাগারেই কাটাতে হয়। পরে বুধবার সকালে জামিন সংক্রান্ত নথিতে সই সম্পন্ন হলে দ্রুত তা কারাগারে পাঠানো হয় এবং আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুনর্বিবেচনার আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান মানবিক বিবেচনায় ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় পুলিশ রিপোর্ট পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী জানান, জামিন কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত ও কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগায় বিলম্ব হয়। তবে সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পরই মা ও শিশুর মুক্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি দায়ের করা বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও দণ্ডবিধির একাধিক ধারার মামলায় শিল্পী বেগমকে আসামি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, বাদীর ছেলে মো. তাহমিদ মুবিন রাতুল (২১), যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চাঁনখারপুল এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন এবং পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই ঘটনার ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় আসামির নির্দেশে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র, পিস্তল ও বোমা নিয়ে বাদীর বাসায় হামলা চালায়। এতে ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর, লুটপাট এবং প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। হামলায় বাদীর স্বামী মো. সোহেল রানা গুরুতর আহত হন এবং তার হাত ভেঙে যায় বলেও উল্লেখ করা হয়। এছাড়া হামলাকারীরা বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি ও হত্যার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, স্থানীয় তদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণে আসামির সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর ভিত্তিতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল সন্ধ্যায় তার বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পরবর্তীতে তাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত জেল হাজতে রাখার আবেদন মঞ্জুর করেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

অবশেষে মুক্তি পেলেন দেড় মাসের বাচ্চার মা সেই যুব মহিলা লীগ নেত্রী

Update Time : 07:56:56 am, Wednesday, 22 April 2026

রাজধানীর তেজগাঁও থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক ও সহিংসতার মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যাওয়া এজাহারভুক্ত আসামি শিল্পী বেগম অবশেষে জামিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মুক্তি পেয়েছেন। তার সঙ্গে থাকা দেড় মাস বয়সী নবজাতক শিশুটিকেও কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে তারা মুক্তি পান।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, জামিন মঞ্জুর হলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে বিচারকের সই বাকি থাকায় তাৎক্ষণিক মুক্তি সম্ভব হয়নি। ফলে মা ও শিশুকে এক রাত কারাগারেই কাটাতে হয়। পরে বুধবার সকালে জামিন সংক্রান্ত নথিতে সই সম্পন্ন হলে দ্রুত তা কারাগারে পাঠানো হয় এবং আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুনর্বিবেচনার আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান মানবিক বিবেচনায় ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় পুলিশ রিপোর্ট পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী জানান, জামিন কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত ও কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগায় বিলম্ব হয়। তবে সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পরই মা ও শিশুর মুক্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি দায়ের করা বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও দণ্ডবিধির একাধিক ধারার মামলায় শিল্পী বেগমকে আসামি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, বাদীর ছেলে মো. তাহমিদ মুবিন রাতুল (২১), যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চাঁনখারপুল এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন এবং পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই ঘটনার ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় আসামির নির্দেশে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র, পিস্তল ও বোমা নিয়ে বাদীর বাসায় হামলা চালায়। এতে ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর, লুটপাট এবং প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। হামলায় বাদীর স্বামী মো. সোহেল রানা গুরুতর আহত হন এবং তার হাত ভেঙে যায় বলেও উল্লেখ করা হয়। এছাড়া হামলাকারীরা বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি ও হত্যার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, স্থানীয় তদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণে আসামির সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর ভিত্তিতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল সন্ধ্যায় তার বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পরবর্তীতে তাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত জেল হাজতে রাখার আবেদন মঞ্জুর করেন।