Dhaka 11:21 pm, Saturday, 30 May 2026

ফটিকছড়িতে সড়কে চাঁদাবাজির অভিযোগ, ওসির ‘লাইন’ ঘিরে তোলপাড়

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম:
  • Update Time : 05:15:30 pm, Wednesday, 1 April 2026
  • / 170 Time View

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থানার বিভিন্ন সড়কে গাছ, বাঁশ, বালু ও মাটি পরিবহনের ক্ষেত্রে চাঁদাবাজি যেন অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন পাইন্দং এলাকার বাসিন্দা মো. সাদ্দাম হোসেন, যিনি পুলিশের কথিত ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিত এবং ওসির আস্থাভাজন বলে দাবি করা হচ্ছে।
পরিবহন চালকদের দাবি, পুলিশি হয়রানি এড়াতে বাধ্য হয়েই নিয়মিত চাঁদা দিতে হচ্ছে তাদের।

ছবি: সময়ের কাগজ

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে সাদ্দাম পুলিশের অধীনে মাসিক বেতনে কাজ করতেন। পরবর্তীতে ‘লাইন’ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এলে তার সঙ্গে মাসিক ২ লাখ টাকার একটি অলিখিত চুক্তি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সড়কে চলাচলকারী যানবাহন থেকে আদায় করা চাঁদার একটি অংশ প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে ওসিকে দেওয়া হয়। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও স্বীকারোক্তিও সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া প্রশাসনের কিছু ব্যক্তি, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছেও মাসোয়ারা পৌঁছায় বলে অভিযোগ রয়েছে। সাদ্দামের দাবি, পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হয় ফটিকছড়ি থানার ওসি মুহাম্মদ সেলিমের তত্ত্বাবধানে।

ছবি: ফটিকছড়ি থানার ওসি

স্থানীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কসহ পাইন্দং-কাঞ্চননগর, ফটিকছড়ি-হেয়াকো, পেলাগাজী-বারৈয়ারঢালা এবং লেলাং-রাঙামাটিয়া সড়কে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক পণ্যবাহী যান চলাচল করে।
এসব যান থেকে গাড়িপ্রতি প্রায় ১ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়া হয়। পাশাপাশি মাটি কাটা, জায়গা ভরাট ও বালু উত্তোলনের প্রতিটি স্পট থেকে মাসে ৫ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়, যা স্থানীয়ভাবে ‘ওসির লাইন’ নামে পরিচিত।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, প্রতি মাসে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা উত্তোলন করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ২ লাখ টাকা ওসিকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া থানার সেকেন্ড অফিসার, চালক ও অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের মধ্যেও এই অর্থ বণ্টন করা হয় বলে জানা গেছে। বন বিভাগ, টহল টিম এবং কিছু সাংবাদিকের কাছেও ভিন্ন অঙ্কের অর্থ পৌঁছায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

চাঁদা আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করে সাদ্দাম হোসেন বলেন,
“ওসির নামে সড়কের ‘লাইন’ আমাকে পরিচালনা করতে হয়। আগে মাসিক বেতনে কাজ করতাম। এখন উভয় সংকটে আছি—কাজটি ছাড়তেও পারছি না, আবার রাখতে গেলেও নানা ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ড্রামট্রাক চালক বলেন,
“মাটি পরিবহনের কাজ শুরু করার আগেই গাড়িপ্রতি ৫০০ টাকা দিয়ে ‘লাইন’ নিতে হয়। তা না হলে পুলিশ গাড়ি আটক করে, পরে জরিমানা দিয়ে ছাড়াতে হয়।”
কাঞ্চননগরের গাছ ব্যবসায়ী আবছার বলেন,
“সেগুন গাছের গাড়িপ্রতি ১ হাজার টাকা এবং অন্যান্য গাছের জন্য ৭০০ টাকা করে দিতে হয়।”
সর্তাখাল এলাকার একটি বালুমহলের ম্যানেজার খোকন দে বলেন,
“বৈধ বালুমহল হলেও মেশিনে বালু উত্তোলনের কারণে মাসে ৫ হাজার টাকা করে দিতে হয়।”
অন্য এক ইজারাদার জানান,
“ওসির টাকা দিতে দেরি হলে পুলিশ পাঠানো হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই অর্থ দিতে হচ্ছে।”

এ বিষয়ে ফটিকছড়ি থানার ওসি মুহাম্মদ সেলিম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“লাইন থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। সাদ্দামকে আমি চিনিও না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসকাগজ/আরডি

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ফটিকছড়িতে সড়কে চাঁদাবাজির অভিযোগ, ওসির ‘লাইন’ ঘিরে তোলপাড়

Update Time : 05:15:30 pm, Wednesday, 1 April 2026

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থানার বিভিন্ন সড়কে গাছ, বাঁশ, বালু ও মাটি পরিবহনের ক্ষেত্রে চাঁদাবাজি যেন অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন পাইন্দং এলাকার বাসিন্দা মো. সাদ্দাম হোসেন, যিনি পুলিশের কথিত ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিত এবং ওসির আস্থাভাজন বলে দাবি করা হচ্ছে।
পরিবহন চালকদের দাবি, পুলিশি হয়রানি এড়াতে বাধ্য হয়েই নিয়মিত চাঁদা দিতে হচ্ছে তাদের।

ছবি: সময়ের কাগজ

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে সাদ্দাম পুলিশের অধীনে মাসিক বেতনে কাজ করতেন। পরবর্তীতে ‘লাইন’ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এলে তার সঙ্গে মাসিক ২ লাখ টাকার একটি অলিখিত চুক্তি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সড়কে চলাচলকারী যানবাহন থেকে আদায় করা চাঁদার একটি অংশ প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে ওসিকে দেওয়া হয়। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও স্বীকারোক্তিও সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া প্রশাসনের কিছু ব্যক্তি, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছেও মাসোয়ারা পৌঁছায় বলে অভিযোগ রয়েছে। সাদ্দামের দাবি, পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হয় ফটিকছড়ি থানার ওসি মুহাম্মদ সেলিমের তত্ত্বাবধানে।

ছবি: ফটিকছড়ি থানার ওসি

স্থানীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কসহ পাইন্দং-কাঞ্চননগর, ফটিকছড়ি-হেয়াকো, পেলাগাজী-বারৈয়ারঢালা এবং লেলাং-রাঙামাটিয়া সড়কে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক পণ্যবাহী যান চলাচল করে।
এসব যান থেকে গাড়িপ্রতি প্রায় ১ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়া হয়। পাশাপাশি মাটি কাটা, জায়গা ভরাট ও বালু উত্তোলনের প্রতিটি স্পট থেকে মাসে ৫ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়, যা স্থানীয়ভাবে ‘ওসির লাইন’ নামে পরিচিত।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, প্রতি মাসে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা উত্তোলন করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ২ লাখ টাকা ওসিকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া থানার সেকেন্ড অফিসার, চালক ও অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের মধ্যেও এই অর্থ বণ্টন করা হয় বলে জানা গেছে। বন বিভাগ, টহল টিম এবং কিছু সাংবাদিকের কাছেও ভিন্ন অঙ্কের অর্থ পৌঁছায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

চাঁদা আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করে সাদ্দাম হোসেন বলেন,
“ওসির নামে সড়কের ‘লাইন’ আমাকে পরিচালনা করতে হয়। আগে মাসিক বেতনে কাজ করতাম। এখন উভয় সংকটে আছি—কাজটি ছাড়তেও পারছি না, আবার রাখতে গেলেও নানা ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ড্রামট্রাক চালক বলেন,
“মাটি পরিবহনের কাজ শুরু করার আগেই গাড়িপ্রতি ৫০০ টাকা দিয়ে ‘লাইন’ নিতে হয়। তা না হলে পুলিশ গাড়ি আটক করে, পরে জরিমানা দিয়ে ছাড়াতে হয়।”
কাঞ্চননগরের গাছ ব্যবসায়ী আবছার বলেন,
“সেগুন গাছের গাড়িপ্রতি ১ হাজার টাকা এবং অন্যান্য গাছের জন্য ৭০০ টাকা করে দিতে হয়।”
সর্তাখাল এলাকার একটি বালুমহলের ম্যানেজার খোকন দে বলেন,
“বৈধ বালুমহল হলেও মেশিনে বালু উত্তোলনের কারণে মাসে ৫ হাজার টাকা করে দিতে হয়।”
অন্য এক ইজারাদার জানান,
“ওসির টাকা দিতে দেরি হলে পুলিশ পাঠানো হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই অর্থ দিতে হচ্ছে।”

এ বিষয়ে ফটিকছড়ি থানার ওসি মুহাম্মদ সেলিম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“লাইন থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। সাদ্দামকে আমি চিনিও না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসকাগজ/আরডি