Dhaka 6:46 am, Saturday, 10 October 2026
সর্বশেষ
বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়ায় নতুন অধ্যায়, আসছে এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ আবাসন খাত সচলে সহজ গৃহঋণ ও নির্মাণসামগ্রীর দামে স্থিতিশীলতা জরুরি মানসিক অসুস্থতাকে ঘিরে ভয়-কুসংস্কার দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল: ৪টি গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করল জাপানি কনসোর্টিয়াম শান্তিতে নোবেল পেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার নাভি পিল্লাই রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর ১০ টাকা কেজিতে ২৪ ঘণ্টায় পার্সেল পৌঁছে দিচ্ছে ডাক বিভাগ কপাল পুড়ল অতিরিক্ত ডিআইজি টুটুল চক্রবর্তীর জোনভিত্তিক রং ব্যবহারের পরিকল্পনা কতটুকু কার্যকর নারায়ণগঞ্জে ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ১২২

যে কারণে দেশে উৎপাদিত অকটেন নিচ্ছে না সরকার

সময়ের কাগজ ডেস্ক :
  • Update Time : 02:46:55 pm, Monday, 20 April 2026
  • / 467 Time View

দেশের পেট্রোলপাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও জ্বালানি না পাওয়ার অভিযোগের মধ্যে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে দেশীয়ভাবে উৎপাদিত অকটেন ও পেট্রোল সরবরাহ বন্ধের ঘটনায়।
সহযোগী সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) হঠাৎ করে স্থানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে অকটেন ও পেট্রোল গ্রহণ বন্ধ করেছে। এতে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের সংকটে পড়েছে।
সূত্র জানায়, গত ৮ এপ্রিল বিপিসি একটি চিঠির মাধ্যমে সুপার পেট্রোকেমিক্যালসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে সরবরাহ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। এতে উৎপাদিত জ্বালানি তেল ডিপোতে জমে গিয়ে সংরক্ষণ সংকট তৈরি হয়েছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, ডিপোগুলোতে পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সক্ষমতা না থাকায় অতিরিক্ত মজুতের কারণে সাময়িকভাবে স্থানীয় উৎস থেকে তেল গ্রহণ বন্ধ রাখা হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি যদি সত্য হয়, তবে তা জনমনে আরও অসন্তোষ সৃষ্টি করবে। কারণ দেশের বিভিন্ন পেট্রোলপাম্পে মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি নিতে হচ্ছে।
বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি উৎপাদন হওয়া সত্ত্বেও সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যা থাকলে তা বড় ব্যর্থতা। তিনি মনে করেন, জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং স্থানীয় উৎপাদকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, দেশে প্রতি মাসে প্রায় ৭৫ হাজার টন অকটেন ও পেট্রোলের চাহিদা রয়েছে, যার বড় অংশ স্থানীয় প্রতিষ্ঠান সরবরাহ করে। তবে বর্তমানে ডিপোতে মজুত বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি হয়েছে।
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামা এবং অভ্যন্তরীণ লোকসানের চাপও এই পরিস্থিতির একটি কারণ।
এদিকে ডিজেল সরবরাহে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত ডিজেল মজুত রয়েছে এবং নতুন আমদানি চালু থাকায় সরবরাহ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে।

এসকাগজ/আরডি

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

যে কারণে দেশে উৎপাদিত অকটেন নিচ্ছে না সরকার

Update Time : 02:46:55 pm, Monday, 20 April 2026

দেশের পেট্রোলপাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও জ্বালানি না পাওয়ার অভিযোগের মধ্যে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে দেশীয়ভাবে উৎপাদিত অকটেন ও পেট্রোল সরবরাহ বন্ধের ঘটনায়।
সহযোগী সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) হঠাৎ করে স্থানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে অকটেন ও পেট্রোল গ্রহণ বন্ধ করেছে। এতে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের সংকটে পড়েছে।
সূত্র জানায়, গত ৮ এপ্রিল বিপিসি একটি চিঠির মাধ্যমে সুপার পেট্রোকেমিক্যালসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে সরবরাহ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। এতে উৎপাদিত জ্বালানি তেল ডিপোতে জমে গিয়ে সংরক্ষণ সংকট তৈরি হয়েছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, ডিপোগুলোতে পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সক্ষমতা না থাকায় অতিরিক্ত মজুতের কারণে সাময়িকভাবে স্থানীয় উৎস থেকে তেল গ্রহণ বন্ধ রাখা হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি যদি সত্য হয়, তবে তা জনমনে আরও অসন্তোষ সৃষ্টি করবে। কারণ দেশের বিভিন্ন পেট্রোলপাম্পে মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি নিতে হচ্ছে।
বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি উৎপাদন হওয়া সত্ত্বেও সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যা থাকলে তা বড় ব্যর্থতা। তিনি মনে করেন, জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং স্থানীয় উৎপাদকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, দেশে প্রতি মাসে প্রায় ৭৫ হাজার টন অকটেন ও পেট্রোলের চাহিদা রয়েছে, যার বড় অংশ স্থানীয় প্রতিষ্ঠান সরবরাহ করে। তবে বর্তমানে ডিপোতে মজুত বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি হয়েছে।
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামা এবং অভ্যন্তরীণ লোকসানের চাপও এই পরিস্থিতির একটি কারণ।
এদিকে ডিজেল সরবরাহে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত ডিজেল মজুত রয়েছে এবং নতুন আমদানি চালু থাকায় সরবরাহ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে।

এসকাগজ/আরডি