লাইভে এসে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করলেন ঢাবি শিক্ষিকা
- Update Time : 11:39:45 am, Saturday, 10 October 2026
- / 4 Time View
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের শ্রেণিকক্ষে এক ছাত্রীর পোশাক (নিকাব) নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ ও একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রেক্ষাপটে ফেসবুক লাইভে এসে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষিকা তাসনিম সিরাজ মাহবুব।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে তিনি দাবি করেন, কোনো শিক্ষার্থীর ধর্মীয় বিশ্বাস বা পোশাক অবমাননা করার উদ্দেশ্য তার ছিল না।
চোখসহ মুখমণ্ডল সম্পূর্ণ ঢাকা থাকায় পরিচয় শনাক্তকরণ এবং শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিক পাঠদানের স্বাচ্ছন্দ্যের জায়গা থেকেই তিনি কথা বলেছিলেন।
ফেসবুক লাইভে তাসনিম সিরাজ মাহবুব বলেন, ‘গত ৭ অক্টোবর মাস্টার্স শেষ সেমিস্টারের ক্লাসে এক শিক্ষার্থী চোখসহ সমগ্র মুখমণ্ডল ঢেকে উপস্থিত ছিলেন। চোখ দেখতে না পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শনাক্ত করা এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সময় কার্যকর যোগাযোগে অস্বস্তি তৈরি হচ্ছিল।’
এ প্রসঙ্গে তিনি সূরা আন-নূরের ৩১ নম্বর আয়াত এবং হজ পালনের বিধানের আলোকে শালীন পোশাকের ধর্মীয় ব্যাখ্যার কথা উল্লেখ করেন।
তিনি সেসময় ক্লাসে বোরকা পরা অন্য দুই শিক্ষার্থীর উদাহরণ দিয়ে তিনি মুখমণ্ডল দৃশ্যমান রাখার বিষয়ে নিজের বোঝাপড়ার কথা ওই শিক্ষার্থীকে জানান।
কোনো নির্দেশ বা শাস্তি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমি তাকে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য করিনি। পোশাক পরিবর্তন করতে, নিকাব খুলতে কিংবা ক্লাস ত্যাগ করতেও নির্দেশ দিইনি। ধর্মীয় পোশাকের কারণে তাকে কোনো শাস্তি দিইনি বা ভবিষ্যতে আমার ক্লাসে আসতেও নিষেধ করিনি।
শুধু চোখ দেখতে না পারায় অস্বস্তিবোধ হওয়ার কথা জানানোর পর ওই ছাত্রী নিজ থেকেই ক্লাস ত্যাগ করেন বলে দাবি করেন এই শিক্ষক। পরবর্তীতে ওই শিক্ষার্থী ব্যথিত হয়েছেন জানতে পেরে তিনি দুঃখ প্রকাশের জন্য বিভাগের করিডরে প্রায় ১০ মিনিট অপেক্ষা করে তিনবার ডেকে পাঠালেও ওই ছাত্রী দেখা করতে আসেননি। এরপর পরিবারের এক সদস্যের গুরুতর অসুস্থতার কারণে তাকে দ্রুত হাসপাতালে চলে যেতে হয়।
বিভাগের গৃহীত ব্যবস্থার সমালোচনা করে তাসনিম সিরাজ মাহবুব বলেন, ‘পারিবারিক সংকটের মধ্যেই তিনি জানতে পারেন—তার বক্তব্য বিকৃতভাবে প্রচার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তার কোনো বক্তব্য গ্রহণ না করেই বিভাগ তার সব কোর্স অন্য শিক্ষকদের মধ্যে বণ্টন করে দিয়েছে।
’ আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাওয়ার আগেই এমন সিদ্ধান্তে তিনি মর্মাহত হয়েছেন বলে জানান।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগের বিষয়ে তার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ এবং সভার বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। পাশাপাশি ঘটনার পর থেকে বেনামি ফোন, ইমেইল ও বার্তায় হুমকি পাওয়ায় নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।
উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর ইংরেজি বিভাগের ক্লাসে নিকাব পরে আসায় এক ছাত্রীকে আসন পরিবর্তন করতে বলা এবং তাকে ‘মৌলবাদী’ ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ওই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরদিন ৮ অক্টোবর বিভাগের এক জরুরি একাডেমিক সভায় তাকে সব ধরনের পাঠদান কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পাশাপাশি তার কোর্সগুলো অন্য শিক্ষকদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যালোচনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠায় বিভাগ।









