মিয়ানমার সীমান্তে চোরাচালান থামছেই না
- Update Time : 02:59:31 pm, Monday, 21 September 2026
- / 3 Time View
বাংলাদেশ থেকে যাচ্ছে ওষুধ আসছে ইয়াবা, গরু
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে পাচারের সময় রবিবার বিপুল পরিমাণ ওষুধ জব্দ করে বিজিবি। ছবি: সংগৃহীত
কখনো ওষুধ, কখনো সার; কখনো আবার মূল্যবান নানা পণ্য—সীমান্তের দুর্গম পথ ব্যবহার করে মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে বিভিন্ন পণ্য। বিপরীতে মিয়ানমার থেকে দেশে ঢুকছে ইয়াবা, গরু ও বার্মিজ পণ্য।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অভিযানে মাঝেমধ্যে এসব পণ্য আটক হলেও থামছে না চোরাচালান তৎপরতা।
এদিকে, চোরাইপথে মিয়ানমারে প্রবেশ করে পণ্য আনতে গিয়ে সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। কারো পা উড়ে যাচ্ছে, কেউ হারাচ্ছে হাত। গত এক দশক বা তারও বেশি সময়ে সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে প্রাণহানি ও পঙ্গুত্বের ঘটনা ঘটেছে।
এর পরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সীমান্তপথে অব্যাহত রয়েছে চোরাচালান।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতেও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ ওষুধ জব্দ করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। বিজিবির হিসাবে জব্দ করা ওষুধের আনুমানিক সিজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা।
অভিযানে ওষুধ পরিবহনের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়। তারা হলেন কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার পুরনো পল্লানপাড়া গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে মো. হারুন মিয়া (২৬), বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির উত্তর ঘুমধুম বড়ুয়াপাড়া গ্রামের বিপন বড়ুয়ার ছেলে জিদান বড়ুয়া (১৮) এবং কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার টিএনটি এলাকার মো. জয়নালের ছেলে মো. আকছার।
বিজিবি জানায়, জব্দ করা ওষুধ ও অন্যান্য মালামালের তালিকা প্রস্তুত ও যাচাই শেষে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তুমব্রু-ঘুমধুম সীমান্ত শুধু ওষুধ পাচারের রুট নয়, দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে দুই দিকের অবৈধ পণ্য চলাচলের অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে বিভিন্ন পণ্য পাচারের পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে ইয়াবাসহ নানা অবৈধ পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশের ঝুঁকিও রয়েছে।
সীমান্তের দুর্গম পাহাড়ি পথ, নদী-খাল ও জনবসতিহীন এলাকা ব্যবহার করে চোরাকারবারিরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করে। কখনো ছোট নৌযান, কখনো মোটরসাইকেল বা ট্রাক; কখনো আবার পাহাড়ি চোরাইপথ ব্যবহার করে পায়ে হেঁটে এসব পণ্য পরিবহন করা হয়।
চোরাচালানের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো সীমান্তের মাইনঝুঁকি। মিয়ানমারে অবৈধভাবে প্রবেশ কিংবা দুর্গম সীমান্তপথে পণ্য আনা-নেওয়ার সময় মাইন বিস্ফোরণ ঘটেছে।
স্থানীয়দের মতে, দ্রুত অর্থ আয়ের আশায় অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ এসব কাজে জড়িয়ে পড়ছে। আবার চোরাচালানের মূল হোতারা আড়াল থেকে শ্রমিক বা বাহক হিসেবে স্থানীয়দের ব্যবহার করছে—এমন অভিযোগও রয়েছে। ফলে অভিযানে অনেক সময় বাহক আটক হলেও নেপথ্যের কারবারিরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
তুমব্রু ও ঘুমধুম সীমান্তে দুর্গম পথ ব্যবহার করে বিভিন্ন পণ্য পাচারের প্রবণতা ঠেকাতে বিজিবির নজরদারি বাড়ানোর মধ্যেই ট্রাকভর্তি ওষুধ আটকের ঘটনা ঘটল।
কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালানসহ সব ধরনের সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
অধিনায়ক বলেন, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান আরো জোরদার করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।







