Dhaka 12:42 pm, Sunday, 25 October 2026
সর্বশেষ
শৈলকূপায় বাড়ির মালিককে বেঁধে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের সব ম্যাচের সূচি, জেনে নিন বিস্তারিত আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নতুন সম্ভাবনা বদলি বাণিজ্য বন্ধে লটারিই হতে পারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর অস্ত্র সৌদির কারাগারে হাজারো বাংলাদেশি, দূতাবাসের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ১০০ টাকার নিচে মিলছে না সবজি জনসংখ্যা বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা চীনের গাজীপুরে পোশাক কারখানার গোডাউনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ারের ৮ ইউনিট মেসিকে পুরস্কৃত করল স্প্যানিশ রাজপরিবার, বার্সেলোনার আবেগঘন বার্তা সেক্টর ১২-এ হেপাটাইটিস বি সচেতনতা ও ফ্রি রক্ত পরীক্ষা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

২০ টাকার জন্য খুন, ২৫ বছর পর আসামির যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 11:55:41 am, Sunday, 30 August 2026
  • / 40 Time View

দীর্ঘ ২৫ বছর আগে রাজধানীর ডেমরার গোপীবাগে (বর্তমানে ওয়ারী থানা) ২০ টাকার জন্য বাবার সামনে ছেলেকে ছুরিকাঘাতে খুনের দায়ে মনির হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রবিবার (৩০ আগস্ট) ঢাকার ১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জাহিদুল ইসলাম এ রায় দেন।

আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী সোহেল মিয়া বলেন, কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০০১ সালের ৪ ডিসেম্বর বিকেল ৪টার দিকে গোপীবাগ এলাকার মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বের হন নজির আহম্মদ ও তার ছেলে বিপ্লব ওরফে বশির (১৮)। মনির নজির আহম্মদের পাশ দিয়ে দ্রুতগতিতে একটু সামনে গিয়ে বশিরকে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছুরিকাঘাত করে।

বিপ্লব চিৎকার করলে নজির আহম্মদসহ কয়েকজন মিলে মনিরকে জাপটে ধরেন। এরপর বিপ্লবকে উদ্ধার করে প্রথমে মনোয়ারা হাসপাতালে, পরে ন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

এ ঘটনায় ওই দিনই নজির আহম্মদ ডেমরা থানায় হত্যা মামলা করেন।

পরে মনিরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। 

মামলাটি তদন্ত করে পরের বছরের ৩১ মার্চ মনিরকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন ডেমরা থানার এসআই আ. জব্বার। তদন্তে উঠে আসে, মনিরের কাছ থেকে বিপ্লব ২০ টাকা ধার নেন। এই টাকা ফেরত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে মনির বিপ্লবকে খুন করেন।

২০০২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।

বিচার চলাকালে আদালত ৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে। ২০০৯ সালে মনিরকে জামিন দেন আদালত। ২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলেও তিনি পলাতক রয়েছেন। মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত থেকে আজ আসামির সাজার রায় এলো।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

২০ টাকার জন্য খুন, ২৫ বছর পর আসামির যাবজ্জীবন

Update Time : 11:55:41 am, Sunday, 30 August 2026

দীর্ঘ ২৫ বছর আগে রাজধানীর ডেমরার গোপীবাগে (বর্তমানে ওয়ারী থানা) ২০ টাকার জন্য বাবার সামনে ছেলেকে ছুরিকাঘাতে খুনের দায়ে মনির হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রবিবার (৩০ আগস্ট) ঢাকার ১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জাহিদুল ইসলাম এ রায় দেন।

আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী সোহেল মিয়া বলেন, কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০০১ সালের ৪ ডিসেম্বর বিকেল ৪টার দিকে গোপীবাগ এলাকার মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বের হন নজির আহম্মদ ও তার ছেলে বিপ্লব ওরফে বশির (১৮)। মনির নজির আহম্মদের পাশ দিয়ে দ্রুতগতিতে একটু সামনে গিয়ে বশিরকে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছুরিকাঘাত করে।

বিপ্লব চিৎকার করলে নজির আহম্মদসহ কয়েকজন মিলে মনিরকে জাপটে ধরেন। এরপর বিপ্লবকে উদ্ধার করে প্রথমে মনোয়ারা হাসপাতালে, পরে ন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

এ ঘটনায় ওই দিনই নজির আহম্মদ ডেমরা থানায় হত্যা মামলা করেন।

পরে মনিরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। 

মামলাটি তদন্ত করে পরের বছরের ৩১ মার্চ মনিরকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন ডেমরা থানার এসআই আ. জব্বার। তদন্তে উঠে আসে, মনিরের কাছ থেকে বিপ্লব ২০ টাকা ধার নেন। এই টাকা ফেরত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে মনির বিপ্লবকে খুন করেন।

২০০২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।

বিচার চলাকালে আদালত ৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে। ২০০৯ সালে মনিরকে জামিন দেন আদালত। ২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলেও তিনি পলাতক রয়েছেন। মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত থেকে আজ আসামির সাজার রায় এলো।