নলিয়ানে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময়
- Update Time : 07:13:17 am, Thursday, 22 October 2026
- / 5 Time View
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একনজর দেখতে সকাল থেকেই ভিড় ছিল দুর্গম উপকূলীয় জনপদ খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ানে। শত শত মানুষের অপেক্ষা, নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস আর করমর্দন ও শুভেচ্ছা বিনিময়ে সেখানে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে হেলিকপ্টারে নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণের পর প্রধানমন্ত্রী হেঁটে কোস্ট গার্ডের পন্টুনের দিকে যান।
সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে সেখান থেকে নৌপথে মোংলার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। যদিও প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক নিরাপত্তা বেষ্টনি ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নিজেই নিরাপত্তা বেষ্টনী দিয়ে হেঁটে হেঁটে মানুষের সঙ্গে করমর্দন করতে করতে চলে যান পন্টুনের দিকে।
পন্টুনে যাওয়ার পথে নলিয়ান বাজার মোড়সহ সড়কের দুই পাশে অপেক্ষমাণ সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় অনেকের সঙ্গে করমর্দনও করেন তিনি। তাঁকে একনজর দেখতে সকাল থেকেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ জড়ো হন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমির এজাজ খান, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন এবং জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাতসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
নদীভাঙন, সুপেয় পানির সংকট, দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় দীর্ঘদিন ধরে ভুগছে দাকোপের নলিয়ানসহ উপকূলীয় এলাকার মানুষ। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে তাঁদের মধ্যে যেমন ছিল তাঁকে কাছ থেকে দেখার আগ্রহ, তেমনি ছিল দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের প্রত্যাশা। স্থানীয়দের আশা, সরকারের উচ্চপর্যায়ের এ সফরের মধ্য দিয়ে উপকূলের উন্নয়ন ও জীবনমান পরিবর্তনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে এলাকায় জোরদার করা হয় নিরাপত্তাব্যবস্থা। নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ ও আশপাশে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন পুলিশ, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর), নৌবাহিনী, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
প্রধানমন্ত্রীর অবতরণের স্থান বিদ্যালয় মাঠে ডগ স্কোয়াড দিয়েও তল্লাশি চালানো হয়।
সফর উপলক্ষে নলিয়ান বাজারের পশ্চিম প্রান্তের পাকা সড়ক থেকে পূর্ব দিকে কোস্ট গার্ড কার্যালয় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কে ইট বিছানোর কাজ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এ ছাড়া নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রস্তুত করা হয় হেলিপ্যাড।
সফরসূচি অনুযায়ী, সকালে হেলিকপ্টারে সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট ও সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শনের পর নলিয়ানে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে নৌপথে মোংলার নৌঘাঁটির উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। পরে সভায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি মোংলা বন্দরের জেটি ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে তাঁর।
এদিকে, সুন্দরবন এলাকায় সম্ভাব্য ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল স্থাপনের স্থান পরিদর্শন নিয়েও আলোচনা রয়েছে। মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা ও সম্ভাব্য এলএনজি টার্মিনালকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে বলে আশা করছেন তাঁরা।











