Dhaka 11:22 pm, Sunday, 30 August 2026
সর্বশেষ
‘মিনি সিঙ্গাপুর’খ্যাত বসুন্ধরায় ছিনতাই, নিরাপত্তাকর্মীদের তৎপরতায় আটক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টঙ্গীতে ছাত্রলীগের ৫ নেতাকর্মীসহ গ্রেপ্তার ৬ উপসাগরীয় শাসকদের সতর্ক করলেন মোজতবা খামেনি ই-রিকশা ব্যবস্থাপনায় নীতিমালা প্রণয়ন করছে সরকার : স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী নতুন ঝুঁকিতে নেপাল টাঙ্গাইলে ছেলের হাতে বাবা খুন সড়ক দুর্ঘটনায় দুই পক্ষের সমঝোতা, তাসনুভা তিশাকে ৩০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট জাতীয় সমস্যা, সরকার এটি তৈরি করেনি : নুর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কৌশলগত সংলাপ শুরুর বিষয়ে একমত বাংলাদেশ-চীন

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে ‘সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের’ সংযোগ পাওয়া গেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 11:20:23 am, Sunday, 30 August 2026
  • / 4 Time View

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত করতে গিয়ে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এক ‘সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের’ সংযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। রবিবার (৩০ আগস্ট) নিজ কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে তিনি এ কথা বলেন।

তবে চিফ প্রসিকিউটর ওই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের নাম প্রকাশ করেননি। 

সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে এক মামলার তদন্তে নেমে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড নিয়ে তথ্য পাওয়ার কথা এর আগে গণমাধ্যমকে জানান ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা। তিনি বলেছেন, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আগে থেকেই র‍্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইং জানত। এক ইন্টেলিজেন্স কর্মকর্তার বরাতে জোহা বলেন, হত্যাকাণ্ডের আগের রাতে ওই কর্মকর্তাকে বলা হয়েছিল, ‘একটা কিছু ঘটতে যাচ্ছে।

 তবে কী ঘটতে যাচ্ছে, তা তাকে নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। পরদিন সকালে তিনি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের খবর জানতে পারেন। প্রকাশিত এই খবরে দৃষ্টি আকর্ষণ করে চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্য জানতে চান এক সাংবাদিক। 

তখন আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সাগর-রুনির ইনভেস্টিগেশনটা আমাদের (ট্রাইব্যুনালের) ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (তদন্ত সংস্থা) করছে না।

এটা (সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে) করছে পিবিআই।’ 

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমরা একটি ইনভেস্টিগেশন করতে গিয়ে অনেক সময় অন্য কোনো ঘটনার ক্লু পেয়ে যাই। যেমনটা আমরা পেয়েছিলাম মুজাফফরের (সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার সাবেক সেনা কর্মকর্তা মুজাফফর হোসেন) ব্যাপারে। এখন যেমন আমরা সাগর-রুনির তদন্তের ব্যাপারে ক্লু আমরা পেয়েছি। তবে আমরা নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে পারছি না।

তবে এইটুকু বলতে পারছি যে একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সাগর-রুনির ঘটনার (হত্যাকাণ্ডে) একটা কানেকশন পাওয়া গেছে।’ 

মামলাসংশ্লিষ্ট সিডিআর (কল ডিটেইল রেকর্ড) পর্যালোচনার সময় ‘এই কানেকশনটা পাওয়া যায়’ জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমরা সেগুলা যাচাই-বাছাই করে দেখছি। তার ওপর (সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব) আমাদের নজরদারিতে আছেন। আরো ইনভেস্টিগেশন হওয়ার পরে আরো অথেন্টিক কোনো কিছু পাওয়া গেলে পিবিআইয়ের যারা সংশ্লিষ্ট ইনভেস্টিগেটিং অফিসার আছেন, তাদের আমরা হয়তো এই তথ্যটা দিয়ে সহায়তা করব।’

আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘যেহেতু এটা (সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে) ওয়াইডস্প্রেড (বৃহৎ পরিসরে) বা সিস্টেমেটিক (পদ্ধতিগত) অফেন্স (অপরাধ) না, এটা একটা ইন্ডিভিজ্যুয়াল মার্ডার কেস, সে কারণে এটা সংশ্লিষ্ট দায়রা আদালতে বিচার হবে। এখন দেখা যাক, কোথায় যায় কী হয়!’

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ১২৯ বার পেছানো হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৭ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখ দেন। 

২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টের আদেশে চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় র‌্যাবকে। চব্বিশের অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল দেওয়া হাইকোর্টের আদেশ সংশোধন চেয়ে ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রসচিবের পক্ষে হাইকোর্টে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। শুনানির পর আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে আদেশ দেন। বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করতে স্বরাষ্ট্রসচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মামলাটির তদন্ত শেষে ছয় মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এরপর ওই বছর অক্টোবরে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। এরপর গত দেড় বছরে আদালত থেকে তিনবার সময় নেয় টাস্কফোর্স। পরে একটি অগ্রগতি প্রতিবেবদন দাখিল করা হয়, যা গত ২৬ এপ্রিল হাইকোর্টে তুলে ধরেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

সেদিন টাস্কফোর্সের অগ্রগতি প্রতিবেদন থেকে প্রকাশযোগ্য কিছু তথ্য তুলে ধরে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হাইকোর্টকে বলেন, ‘ওই সময় (হত্যাকাণ্ডের সময়) দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, অন্যান্য দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ব্যক্তি, এমনকি ওই সময়ের পুলিশ প্রশাসনের তদন্তকারী সংস্থার দায়িত্বরত ব্যক্তিদের কারো কাছে বর্তমান টাস্কফোর্স কোনো অ্যাকসেস পাচ্ছেন না। ওই সময় যাদেরকে আমরা সচরাচর টেলিভিশনে দেখতাম, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাদের আমরা পাইনি।’

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে ‘সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের’ সংযোগ পাওয়া গেছে

Update Time : 11:20:23 am, Sunday, 30 August 2026

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত করতে গিয়ে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এক ‘সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের’ সংযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। রবিবার (৩০ আগস্ট) নিজ কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে তিনি এ কথা বলেন।

তবে চিফ প্রসিকিউটর ওই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের নাম প্রকাশ করেননি। 

সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে এক মামলার তদন্তে নেমে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড নিয়ে তথ্য পাওয়ার কথা এর আগে গণমাধ্যমকে জানান ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা। তিনি বলেছেন, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আগে থেকেই র‍্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইং জানত। এক ইন্টেলিজেন্স কর্মকর্তার বরাতে জোহা বলেন, হত্যাকাণ্ডের আগের রাতে ওই কর্মকর্তাকে বলা হয়েছিল, ‘একটা কিছু ঘটতে যাচ্ছে।

 তবে কী ঘটতে যাচ্ছে, তা তাকে নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। পরদিন সকালে তিনি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের খবর জানতে পারেন। প্রকাশিত এই খবরে দৃষ্টি আকর্ষণ করে চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্য জানতে চান এক সাংবাদিক। 

তখন আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সাগর-রুনির ইনভেস্টিগেশনটা আমাদের (ট্রাইব্যুনালের) ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (তদন্ত সংস্থা) করছে না।

এটা (সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে) করছে পিবিআই।’ 

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমরা একটি ইনভেস্টিগেশন করতে গিয়ে অনেক সময় অন্য কোনো ঘটনার ক্লু পেয়ে যাই। যেমনটা আমরা পেয়েছিলাম মুজাফফরের (সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার সাবেক সেনা কর্মকর্তা মুজাফফর হোসেন) ব্যাপারে। এখন যেমন আমরা সাগর-রুনির তদন্তের ব্যাপারে ক্লু আমরা পেয়েছি। তবে আমরা নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে পারছি না।

তবে এইটুকু বলতে পারছি যে একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সাগর-রুনির ঘটনার (হত্যাকাণ্ডে) একটা কানেকশন পাওয়া গেছে।’ 

মামলাসংশ্লিষ্ট সিডিআর (কল ডিটেইল রেকর্ড) পর্যালোচনার সময় ‘এই কানেকশনটা পাওয়া যায়’ জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমরা সেগুলা যাচাই-বাছাই করে দেখছি। তার ওপর (সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব) আমাদের নজরদারিতে আছেন। আরো ইনভেস্টিগেশন হওয়ার পরে আরো অথেন্টিক কোনো কিছু পাওয়া গেলে পিবিআইয়ের যারা সংশ্লিষ্ট ইনভেস্টিগেটিং অফিসার আছেন, তাদের আমরা হয়তো এই তথ্যটা দিয়ে সহায়তা করব।’

আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘যেহেতু এটা (সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে) ওয়াইডস্প্রেড (বৃহৎ পরিসরে) বা সিস্টেমেটিক (পদ্ধতিগত) অফেন্স (অপরাধ) না, এটা একটা ইন্ডিভিজ্যুয়াল মার্ডার কেস, সে কারণে এটা সংশ্লিষ্ট দায়রা আদালতে বিচার হবে। এখন দেখা যাক, কোথায় যায় কী হয়!’

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ১২৯ বার পেছানো হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৭ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখ দেন। 

২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টের আদেশে চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় র‌্যাবকে। চব্বিশের অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল দেওয়া হাইকোর্টের আদেশ সংশোধন চেয়ে ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রসচিবের পক্ষে হাইকোর্টে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। শুনানির পর আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে আদেশ দেন। বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করতে স্বরাষ্ট্রসচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মামলাটির তদন্ত শেষে ছয় মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এরপর ওই বছর অক্টোবরে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। এরপর গত দেড় বছরে আদালত থেকে তিনবার সময় নেয় টাস্কফোর্স। পরে একটি অগ্রগতি প্রতিবেবদন দাখিল করা হয়, যা গত ২৬ এপ্রিল হাইকোর্টে তুলে ধরেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

সেদিন টাস্কফোর্সের অগ্রগতি প্রতিবেদন থেকে প্রকাশযোগ্য কিছু তথ্য তুলে ধরে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হাইকোর্টকে বলেন, ‘ওই সময় (হত্যাকাণ্ডের সময়) দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, অন্যান্য দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ব্যক্তি, এমনকি ওই সময়ের পুলিশ প্রশাসনের তদন্তকারী সংস্থার দায়িত্বরত ব্যক্তিদের কারো কাছে বর্তমান টাস্কফোর্স কোনো অ্যাকসেস পাচ্ছেন না। ওই সময় যাদেরকে আমরা সচরাচর টেলিভিশনে দেখতাম, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাদের আমরা পাইনি।’