ইসলামপুরে সুপেয় পানির স্বস্তি, ঘরে ঘরে পৌঁছেছে সরকারি সরবরাহ
- Update Time : 01:28:24 pm, Tuesday, 28 April 2026
- / 21 Time View
দীর্ঘদিনের পানি সংকট ও ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে জামালপুরের ইসলামপুর পৌরসভায় শুরু হয়েছে সুপেয় পানির সরবরাহ। এখন অনেক বাসিন্দার ঘরের কল খুললেই মিলছে আয়রনমুক্ত, স্বচ্ছ ও নিরাপদ পানি—যা স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে ইসলামপুর পৌর এলাকার মানুষ তীব্র পানি সংকটে ভুগছিলেন। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক টিউবওয়েল অকার্যকর হয়ে পড়ে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠত। এ অবস্থায় পৌরবাসী একটি টেকসই ও কেন্দ্রীয় পানি সরবরাহ ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
এই প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে দেশের ৩০টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে ইসলামপুরে নির্মিত হয়েছে আধুনিক ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, রিজার্ভার এবং পাইপলাইন নেটওয়ার্ক। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ১ হাজার ৪২২টি পানির সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
বর্তমানে চার মাস ধরে পরীক্ষামূলকভাবে সরবরাহ চালু রয়েছে। দিনে দুই দফায়—সকাল ৮টা ও বিকাল ৪টায়—প্রায় দুই ঘণ্টা করে পানি দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পরিশোধিত এই পানি স্বয়ংক্রিয় পাম্পিং ও ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সরবরাহ করা হচ্ছে।
পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নতুন এই সেবায় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। চাটিয়া পাড়া এলাকার বাসিন্দা হুমায়ুন কবির হিমু বলেন, “আগে পানির জন্য অনেক কষ্ট করতে হতো। এখন ঘরে বসেই পরিষ্কার পানি পাওয়া যাচ্ছে।”
হরিসভা এলাকার দীপা বিশ্বাস বলেন, “সংসারের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল পানির কষ্ট। এখন অনেকটাই কমেছে।”
উত্তর দরিয়াবাদ এলাকার শ্রী গোয়ালা জানান, “নিরাপদ পানি এখন সহজলভ্য হওয়ায় মানুষ উপকৃত হচ্ছে।”
গৃহিণী রহিমা বেগম বলেন, “আগে টিউবওয়েলের পানি ছিল ময়লা ও আয়রনযুক্ত। এখন কল খুললেই ভালো পানি পাওয়া যাচ্ছে।”
তবে এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকল্পটির উদ্বোধন হয়নি। তাই নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ইসলামপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, “এটি পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবের একটি কার্যকর উদ্যোগ। খুব শিগগিরই নিয়মিত পানি সরবরাহ চালু করা হবে।”
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মুহাম্মাদ কামরুজ্জামান জানান, সংযোগ স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে এবং পরীক্ষামূলক সরবরাহ চলছে।
পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হোসাইন বলেন, “প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে। দ্রুত পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু করা হবে এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে।”
এসকাগজ/আরডি


















