Dhaka 2:23 pm, Wednesday, 26 August 2026
সর্বশেষ
সুপার পেট্রোকেমিক্যালের রিফাইনারি নিয়ে বিপিসির তদন্ত, ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ: সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জনগণের মতামত কেন জরুরি নাগরিকত্ব থেকে মক্কা চুক্তি: হুমায়ুন কবিরকে ঘিরে যত প্রশ্ন বসুন্ধরার স্টিল প্রকল্পে একের পর এক ধাক্কা, বাড়ল ব্যয় ৩ হাজার কোটি এক ছাদের নিচে সরকারি সেবা, দাউদপুরে প্রশংসিত উদ্যোগ চীনে বিয়ের নামে প্রতারণার অভিযোগ, বাংলাদেশকে নিতে হবে কঠোর পদক্ষেপ পরীমণির গাড়ি বিতর্কে নামের ভুলে কি বদলে গিয়েছিল আসল পরিচয়? এনওসি ছাড়াই বিদেশ সফরে খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ভারত সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত কেন গুরুত্বপূর্ণ ভারতবিরোধী রাজনীতির ফাঁদে পড়লে বিপদ বিএনপিরই

মাথা নত করবে না হিজবুল্লাহ, সংঘাত নিরসনে নাইম কাশেমের ৫ দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
  • Update Time : 02:16:41 pm, Tuesday, 28 April 2026
  • / 121 Time View

ইসরায়েলি বাহিনী ‘দখলকৃত আমাদের (লেবানন) ভূমির এক ইঞ্চিও দখলে রাখতে পারবে না। আপনারা যত খুশি হুমকি দিন-আমরা পিছু হটব না, নত হব না, পরাজিতও হব না।’

সোমবার (২৭ এপ্রিল) এ মন্তব্য করেছেন হিজবুল্লাহ মহাসচিব নাইম কাশেম। একই সঙ্গে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারা ফিরে আসবে এবং পুনর্গঠন কাজ শুরু হবে।

সমর্থকদের উদ্দেশ্যে কাশেম বলেন, ‘আমরা যেমন একসঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছি, তেমনি একসঙ্গে পুনর্গঠনও করব।’ তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে একদিকে সংঘর্ষ অন্যদিকে পুনরুদ্ধারের পর্যায় হিসেবে তুলে ধরেন।

লেবাননের সংবাদমাধ্যম আল-মায়েদিন প্রকাশিত সংবাদের তথ্য মতে, যেকোনো সমাধানের জন্য তিনি পাঁচটি প্রধান দাবি তুলে ধরেন। এগুলো হচ্ছে-
১) স্থল, নৌ ও আকাশপথে ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ
২) লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার
৩) আটক ব্যক্তিদের মুক্তি
৪) বাস্তুচ্যুতদের প্রত্যাবর্তন
৫) পুনর্গঠন কার্যক্রম

কাসেম লেবাননের কর্তৃপক্ষের ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার তীব্র সমালোচনা করে একে ‘অপ্রয়োজনীয় ও অপমানজনক ছাড়’ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি সতর্ক করেন, এ ধরনের আলোচনা অভ্যন্তরীণ বিভাজন বাড়াবে এবং দেশের কোনো উপকারে আসবে না।

তিনি সরাসরি আলোচনা বন্ধ করে পরোক্ষ আলোচনায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। এবং বলেন, বর্তমান চুক্তিগুলো ‘আমাদের সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পর্কিত নয়।’

কাসেম পুনর্ব্যক্ত করেন, হিজবুল্লাহর অস্ত্র সমর্পণ না করার কারণ নিজেদের প্রতিরক্ষা জোরদার করা এবং লেবাননে ইসরায়েলের বৃহত্তর দখল পরিকল্পনার বিরুদ্ধে তা অপরিহার্য।
তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের অস্ত্র ছাড়ব না,’ এবং প্রতিরোধের শক্তি ‘বিশ্বাস, ইচ্ছাশক্তি ও সক্ষমতার’ ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

তিনি লেবাননের সামনে দুটি পথ তুলে ধরেন-‘মুক্তি ও মর্যাদা’ অথবা ‘দখল ও অপমান।’
কাসেম যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় ইরানের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং বলেন, তেহরানের হস্তক্ষেপ ছাড়া এটি সম্ভব হতো না।

তিনি ওয়াশিংটনে লেবাননের কর্তৃপক্ষের আচরণের সমালোচনা করে একে ‘লজ্জাজনক দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, তারা এমন শর্ত মেনে নিয়েছে যা ইসরায়েলকে হামলা চালিয়ে যেতে সুযোগ দিয়েছে।

সবশেষে তিনি বলেন, ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের জবাবে হিজবুল্লাহ তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে এবং ২ মার্চের আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আপনারা যত খুশি হুমকি দিন—আমরা পিছু হটব না, নত হব না, পরাজিতও হব না।’

এছাড়া, তিনি আমাল মুভমেন্টসহ অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে বলেন, প্রতিরোধ হলো দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড রক্ষার একটি জাতীয় প্রচেষ্টা।

প্রসঙ্গত, লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২,৫২১ জন ছাড়িয়েছে (২৭ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত)। এই সময়ের মধ্যে আহত হয়েছেন ৭,৮০৪ জন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মাথা নত করবে না হিজবুল্লাহ, সংঘাত নিরসনে নাইম কাশেমের ৫ দাবি

Update Time : 02:16:41 pm, Tuesday, 28 April 2026

ইসরায়েলি বাহিনী ‘দখলকৃত আমাদের (লেবানন) ভূমির এক ইঞ্চিও দখলে রাখতে পারবে না। আপনারা যত খুশি হুমকি দিন-আমরা পিছু হটব না, নত হব না, পরাজিতও হব না।’

সোমবার (২৭ এপ্রিল) এ মন্তব্য করেছেন হিজবুল্লাহ মহাসচিব নাইম কাশেম। একই সঙ্গে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারা ফিরে আসবে এবং পুনর্গঠন কাজ শুরু হবে।

সমর্থকদের উদ্দেশ্যে কাশেম বলেন, ‘আমরা যেমন একসঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছি, তেমনি একসঙ্গে পুনর্গঠনও করব।’ তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে একদিকে সংঘর্ষ অন্যদিকে পুনরুদ্ধারের পর্যায় হিসেবে তুলে ধরেন।

লেবাননের সংবাদমাধ্যম আল-মায়েদিন প্রকাশিত সংবাদের তথ্য মতে, যেকোনো সমাধানের জন্য তিনি পাঁচটি প্রধান দাবি তুলে ধরেন। এগুলো হচ্ছে-
১) স্থল, নৌ ও আকাশপথে ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ
২) লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার
৩) আটক ব্যক্তিদের মুক্তি
৪) বাস্তুচ্যুতদের প্রত্যাবর্তন
৫) পুনর্গঠন কার্যক্রম

কাসেম লেবাননের কর্তৃপক্ষের ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার তীব্র সমালোচনা করে একে ‘অপ্রয়োজনীয় ও অপমানজনক ছাড়’ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি সতর্ক করেন, এ ধরনের আলোচনা অভ্যন্তরীণ বিভাজন বাড়াবে এবং দেশের কোনো উপকারে আসবে না।

তিনি সরাসরি আলোচনা বন্ধ করে পরোক্ষ আলোচনায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। এবং বলেন, বর্তমান চুক্তিগুলো ‘আমাদের সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পর্কিত নয়।’

কাসেম পুনর্ব্যক্ত করেন, হিজবুল্লাহর অস্ত্র সমর্পণ না করার কারণ নিজেদের প্রতিরক্ষা জোরদার করা এবং লেবাননে ইসরায়েলের বৃহত্তর দখল পরিকল্পনার বিরুদ্ধে তা অপরিহার্য।
তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের অস্ত্র ছাড়ব না,’ এবং প্রতিরোধের শক্তি ‘বিশ্বাস, ইচ্ছাশক্তি ও সক্ষমতার’ ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

তিনি লেবাননের সামনে দুটি পথ তুলে ধরেন-‘মুক্তি ও মর্যাদা’ অথবা ‘দখল ও অপমান।’
কাসেম যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় ইরানের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং বলেন, তেহরানের হস্তক্ষেপ ছাড়া এটি সম্ভব হতো না।

তিনি ওয়াশিংটনে লেবাননের কর্তৃপক্ষের আচরণের সমালোচনা করে একে ‘লজ্জাজনক দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, তারা এমন শর্ত মেনে নিয়েছে যা ইসরায়েলকে হামলা চালিয়ে যেতে সুযোগ দিয়েছে।

সবশেষে তিনি বলেন, ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের জবাবে হিজবুল্লাহ তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে এবং ২ মার্চের আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আপনারা যত খুশি হুমকি দিন—আমরা পিছু হটব না, নত হব না, পরাজিতও হব না।’

এছাড়া, তিনি আমাল মুভমেন্টসহ অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে বলেন, প্রতিরোধ হলো দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড রক্ষার একটি জাতীয় প্রচেষ্টা।

প্রসঙ্গত, লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২,৫২১ জন ছাড়িয়েছে (২৭ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত)। এই সময়ের মধ্যে আহত হয়েছেন ৭,৮০৪ জন।