মুক্তিযোদ্ধাকে হেনস্তার অভিযোগ, বিএনপি নেতার বহিষ্কারের দাবিতে মানববন্ধন
- Update Time : 10:37:31 am, Sunday, 11 October 2026
- / 3 Time View
কুমিল্লার মেঘনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আলী হোসেনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনীর বহিষ্কারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন দলটির একাংশের নেতাকর্মীরা। রবিবার (১১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্বাস উদ্দিন কমান্ডারসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে রমিজ উদ্দিন লন্ডনীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের আহ্বান জানান।
এর আগে গত শনিবার (১০ অক্টোবর) বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন আলী হোসেন।
তিনি মেঘনা উপজেলা জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি।
অভিযোগে আলী হোসেন উল্লেখ করেন, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত একটি সভায় বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে কথা বলার সময় রমিজ উদ্দিন লন্ডনী তাকে ধমক দিয়ে সভায় কে আসতে বলেছেন, তা জানতে চান।
অভিযোগ অনুযায়ী, সভা শেষে এ বিষয়ে জানতে ইউএনও মৌসুমী আক্তারের কক্ষে গেলে সেখানে ইউএনও, মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম এবং কয়েকজন নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে রমিজ উদ্দিন তাকে গলা চেপে ধরে এলোপাতাড়ি ঘুষি ও লাথি মারেন। পরে উপস্থিত লোকজন তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান।
উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে রমিজ উদ্দিন লন্ডনীকে সহযোগিতা না করায় তাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করেন আলী হোসেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে তাকে গালমন্দ ও দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগপত্রে আলী হোসেন নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের ১ নম্বর সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং দীর্ঘদিনের বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে রমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে যথাযথ সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদনও জানান তিনি। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা করেননি বলে জানান আলী হোসেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রমিজ উদ্দিন লন্ডনী বলেন, ‘আপনি বিষয়টি পর্যালোচনা করে সঠিক তথ্য নিয়ে প্রচার করেন। সাক্ষী বের করেন অথবা সেখানে যারা উপস্থিত ছিলেন, তাদের জিজ্ঞাসা করতে পারেন। আমার সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়েছে। তবে মারধরের বিষয়টি সাজানো নাটক।’
ইউএনও মৌসুমী আক্তার বলেন, ‘আমার কার্যালয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়েছে। তবে আমার সামনে মারামারি বা শারীরিক লাঞ্ছনার কোনো ঘটনা ঘটেনি। পরে ওসির উপস্থিতিতে দুজনকে সরিয়ে দেওয়া হয়।’
একই বক্তব্য দেন মেঘনা থানার ওসি মো. শহীদুল ইসলাম।
তাদের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে আলী হোসেন বলেন, ‘সেখানে আমার কোনো লোকজন ছিলেন না। থাকলে তারা প্রতিবাদ করতেন। সেই সুযোগে আমাকে মারধর করা হয়েছে। সেখানে যারা উপস্থিত ছিলেন, তারা সবাই রমিজ উদ্দিন লন্ডনীর লোক। ইউএনও ও ওসি সাহেব বিষয়টি কখনোই স্বীকার করবেন না। তারা স্বীকার করলে নিজেরাই প্রশ্নবিদ্ধ হবেন, কারণ ঘটনাটি ইউএনওর কার্যালয়ে ঘটেছে।’
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্বাস উদ্দিন কমান্ডার, মেঘনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আজহারুল হক শাহীন, সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল অদুদ মুন্সী, শাহাবুদ্দিন, মাসরুল হক সরকারসহ মহিলা দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল এবং বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।











