Dhaka 6:59 pm, Saturday, 10 October 2026
সর্বশেষ
স্তন ক্যান্সার : লজ্জা নয়, চাই দ্রুত শনাক্তকরণ ধর্ম যার যার, বাংলাদেশ সবার : হুইপ দুলু ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৩০০ ছুঁই ছুঁই, হাসপাতালে ১৬৩১ যা ইচ্ছে করুন, আমরা পিছু হটব না—মোদিকে রাহুল গান্ধীর হুঁশিয়ারি এআই দিয়ে জামায়াত-শিবির সরকারবিরোধী যে অপপ্রচার ছড়াচ্ছে, তা আ. লীগও করেনি ৭১ সাল থেকে আওয়ামী লীগ মিথ্যা কথা বলে আসতেছে : শামা ওবায়েদ ভারতে শেখ হাসিনাকে আশ্রয়, ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক উন্নয়নে বড় বাধা : রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট শক্তি সরকারকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে : রাশেদ খান শ্রমিকদের সার্বিক কল্যাণে কাজ করছে সরকার : শ্রমমন্ত্রী

বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে সেলাই মেশিন পেলেন নেত্রকোনার ৪০ নারী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 10:46:39 am, Saturday, 10 October 2026
  • / 10 Time View

সংসারের অভাব-অনটন কাটিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখেন অনেক নারী। কিন্তু ইচ্ছা ও কাজের দক্ষতা থাকলেও আর্থিক সংকটের কারণে তাঁদের অনেকেরই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয় না। এমন নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে পাশে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। তিন মাসের সেলাই প্রশিক্ষণ শেষে নেত্রকোনা সদর ও বারহাট্টা উপজেলার ৪০ জন অসচ্ছল নারীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে সেলাই মেশিন। এর মাধ্যমে ঘরে বসে আয় করে নিজেদের ও পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন তাঁরা।

সেলাই মেশিন পেয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন বারহাট্টা উপজেলার মাহামুদা আক্তার। বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে তিন মাসের প্রশিক্ষণ শেষে মেশিনটি হাতে পেয়ে তিনি বলেন, ‘সেলাই মেশিনটি আমার কাছে নতুন করে বাঁচার সুযোগ। এখন ঘরে বসে সেলাই করে কিছু আয় করতে পারব। আশা করছি, আমার সন্তানকে ভালোভাবে মানুষ করতে পারব। এই সহযোগিতার জন্য বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রতি আমি অনেক কৃতজ্ঞ।’

বারহাট্টা উপজেলার মাল্টিপারপাস হলরুমে সম্প্রতি আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাহামুদার মতো আরও ১৯ জন অসচ্ছল নারী প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন পেয়েছেন। তাঁদের হাতে মেশিন তুলে দেন দুই বাংলার প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক, বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রধান ও বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ইমদাদুল হক মিলন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এ এস এম গোলাম হোসাইন, ওসি (তদন্ত) শফিকুজ্জামান, প্রেস ক্লাবের সভাপতি শামসউদ্দীন আকন্দ বাবুল, ধর্মপাশা প্রেস ক্লাবের সভাপতি সেলিম আহম্মেদ, অখিল চন্দ্র পাল, মো. নুরুল আমিন, ফেরদৌস আহম্মদ, মোখলেছুর রহমান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘সেলাই মেশিন দেওয়ার পেছনে আমাদের মূল উদ্দেশ্য একটিই—যেসব নারী নিজের পায়ে দাঁড়াতে চান, স্বাবলম্বী হতে চান, কিন্তু অর্থের অভাবে সেলাই মেশিন কিনতে পারেন না, তাঁদের পাশে দাঁড়ানো। বসুন্ধরা শুভসংঘ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়মিতভাবে সেলাই মেশিন বিতরণ করছে। আমরা চাই, এই মেশিন একজন নারীর হাতে শুধু একটি যন্ত্র হিসেবে না থাকুক, এটি হোক তাঁর নিজের পায়ে দাঁড়ানোর একটি পথ।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার বলেন, ‘অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে সেলাই মেশিন বিতরণের এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিন মাস প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীদের হাতে শুধু একটি মেশিন তুলে দেওয়া হচ্ছে না, বরং তাঁদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর একটি সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই উদ্যোগের মাধ্যমে নারীরা ঘরে বসেই কাজ করে আয় করতে পারবেন এবং পরিবারের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে পারবেন। বসুন্ধরা গ্রুপের এই কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পেরে আমি আনন্দিত।’

অন্যদিকে নেত্রকোনা সদর উপজেলার বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের কার্যালয়ে আরও ২০ জন নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, লেখক ও প্রাবন্ধিক হায়দার জাহান চৌধুরী, নেত্রকোনা জেলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শ্যামলেন্দু পাল, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের ব্যবস্থাপক মৃণাল কান্তি চক্রবর্তী, বসুন্ধরা শুভসংঘ নেত্রকোনা জেলা শাখার সভাপতি আব্দুর রহমান, বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিনিধি আলপনা বেগম, নিউজ২৪-এর প্রতিনিধি সোহান আহমেদ কাকন, কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি এবাদ হোসেন এবং শুভসংঘের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল আলম টনি প্রমুখ।

সেলাই মেশিন পাওয়া নারীদের একজন মিতু আক্তার। তাঁর বাবা নেই। মা বিভিন্ন টেইলার্সে ঘুরে সেলাইয়ের কাজ করে যে আয় করেন, তা দিয়েই চলে সংসার। মিতু নেত্রকোনা সরকারি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অনার্স তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন। পরিবারের আর্থিক সংকট কাটাতে মায়ের পাশাপাশি নিজেও কাজ করতে চান তিনি।

মিতু বলেন, ‘বাড়িতে সেলাই মেশিন থাকলে মা-মেয়ে দুজনেই কাজ করে ভালো আয় করতে পারব। বসুন্ধরার সহায়তায় প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন পেয়েছি। এখন আমাদের সচ্ছলতা আসবে, ইনশাআল্লাহ। অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই বসুন্ধরা গ্রুপকে।’

সেলাই মেশিন পেয়ে নতুন করে আশার আলো দেখছেন ইতি রানী দাসও। তাঁর স্বামী ঢাকার একটি গার্মেন্টসে স্বল্প বেতনে কাজ করেন। স্বামীর সীমিত আয়ে সংসারের সব প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে নিজেরও কিছু করার তাগিদ অনুভব করেন ইতি। বসুন্ধরা শুভসংঘের দেওয়া সেলাই মেশিন তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

বসুন্ধরা শুভসংঘের এই উদ্যোগে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের উপকরণ পেয়ে ৪০ নারী এখন নিজেদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আয় করার সুযোগ পাচ্ছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, সেলাইয়ের কাজের মাধ্যমে পরিবারের আর্থিক সংকট কমানোর পাশাপাশি সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তেও ভূমিকা রাখতে পারবেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে সেলাই মেশিন পেলেন নেত্রকোনার ৪০ নারী

Update Time : 10:46:39 am, Saturday, 10 October 2026

সংসারের অভাব-অনটন কাটিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখেন অনেক নারী। কিন্তু ইচ্ছা ও কাজের দক্ষতা থাকলেও আর্থিক সংকটের কারণে তাঁদের অনেকেরই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয় না। এমন নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে পাশে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। তিন মাসের সেলাই প্রশিক্ষণ শেষে নেত্রকোনা সদর ও বারহাট্টা উপজেলার ৪০ জন অসচ্ছল নারীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে সেলাই মেশিন। এর মাধ্যমে ঘরে বসে আয় করে নিজেদের ও পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন তাঁরা।

সেলাই মেশিন পেয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন বারহাট্টা উপজেলার মাহামুদা আক্তার। বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে তিন মাসের প্রশিক্ষণ শেষে মেশিনটি হাতে পেয়ে তিনি বলেন, ‘সেলাই মেশিনটি আমার কাছে নতুন করে বাঁচার সুযোগ। এখন ঘরে বসে সেলাই করে কিছু আয় করতে পারব। আশা করছি, আমার সন্তানকে ভালোভাবে মানুষ করতে পারব। এই সহযোগিতার জন্য বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রতি আমি অনেক কৃতজ্ঞ।’

বারহাট্টা উপজেলার মাল্টিপারপাস হলরুমে সম্প্রতি আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাহামুদার মতো আরও ১৯ জন অসচ্ছল নারী প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন পেয়েছেন। তাঁদের হাতে মেশিন তুলে দেন দুই বাংলার প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক, বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রধান ও বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ইমদাদুল হক মিলন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এ এস এম গোলাম হোসাইন, ওসি (তদন্ত) শফিকুজ্জামান, প্রেস ক্লাবের সভাপতি শামসউদ্দীন আকন্দ বাবুল, ধর্মপাশা প্রেস ক্লাবের সভাপতি সেলিম আহম্মেদ, অখিল চন্দ্র পাল, মো. নুরুল আমিন, ফেরদৌস আহম্মদ, মোখলেছুর রহমান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘সেলাই মেশিন দেওয়ার পেছনে আমাদের মূল উদ্দেশ্য একটিই—যেসব নারী নিজের পায়ে দাঁড়াতে চান, স্বাবলম্বী হতে চান, কিন্তু অর্থের অভাবে সেলাই মেশিন কিনতে পারেন না, তাঁদের পাশে দাঁড়ানো। বসুন্ধরা শুভসংঘ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়মিতভাবে সেলাই মেশিন বিতরণ করছে। আমরা চাই, এই মেশিন একজন নারীর হাতে শুধু একটি যন্ত্র হিসেবে না থাকুক, এটি হোক তাঁর নিজের পায়ে দাঁড়ানোর একটি পথ।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার বলেন, ‘অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে সেলাই মেশিন বিতরণের এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিন মাস প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীদের হাতে শুধু একটি মেশিন তুলে দেওয়া হচ্ছে না, বরং তাঁদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর একটি সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই উদ্যোগের মাধ্যমে নারীরা ঘরে বসেই কাজ করে আয় করতে পারবেন এবং পরিবারের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে পারবেন। বসুন্ধরা গ্রুপের এই কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পেরে আমি আনন্দিত।’

অন্যদিকে নেত্রকোনা সদর উপজেলার বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের কার্যালয়ে আরও ২০ জন নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, লেখক ও প্রাবন্ধিক হায়দার জাহান চৌধুরী, নেত্রকোনা জেলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শ্যামলেন্দু পাল, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের ব্যবস্থাপক মৃণাল কান্তি চক্রবর্তী, বসুন্ধরা শুভসংঘ নেত্রকোনা জেলা শাখার সভাপতি আব্দুর রহমান, বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিনিধি আলপনা বেগম, নিউজ২৪-এর প্রতিনিধি সোহান আহমেদ কাকন, কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি এবাদ হোসেন এবং শুভসংঘের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল আলম টনি প্রমুখ।

সেলাই মেশিন পাওয়া নারীদের একজন মিতু আক্তার। তাঁর বাবা নেই। মা বিভিন্ন টেইলার্সে ঘুরে সেলাইয়ের কাজ করে যে আয় করেন, তা দিয়েই চলে সংসার। মিতু নেত্রকোনা সরকারি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অনার্স তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন। পরিবারের আর্থিক সংকট কাটাতে মায়ের পাশাপাশি নিজেও কাজ করতে চান তিনি।

মিতু বলেন, ‘বাড়িতে সেলাই মেশিন থাকলে মা-মেয়ে দুজনেই কাজ করে ভালো আয় করতে পারব। বসুন্ধরার সহায়তায় প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন পেয়েছি। এখন আমাদের সচ্ছলতা আসবে, ইনশাআল্লাহ। অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই বসুন্ধরা গ্রুপকে।’

সেলাই মেশিন পেয়ে নতুন করে আশার আলো দেখছেন ইতি রানী দাসও। তাঁর স্বামী ঢাকার একটি গার্মেন্টসে স্বল্প বেতনে কাজ করেন। স্বামীর সীমিত আয়ে সংসারের সব প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে নিজেরও কিছু করার তাগিদ অনুভব করেন ইতি। বসুন্ধরা শুভসংঘের দেওয়া সেলাই মেশিন তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

বসুন্ধরা শুভসংঘের এই উদ্যোগে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের উপকরণ পেয়ে ৪০ নারী এখন নিজেদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আয় করার সুযোগ পাচ্ছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, সেলাইয়ের কাজের মাধ্যমে পরিবারের আর্থিক সংকট কমানোর পাশাপাশি সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তেও ভূমিকা রাখতে পারবেন।