Dhaka 12:02 am, Sunday, 11 October 2026
সর্বশেষ
দেশের ৫০৩টি উপজেলার উন্নয়নে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে : এলজিআরডিমন্ত্রী নিখোঁজের ৫ দিন পর কলাবাগানে মিলল অটোভ্যান চালকের মরদেহ যে কারণে শাহজালাল বিমানবন্দরে বিমানের জরুরি অবতরণ বিদ্যুৎ বিভাগের ৪১টি উন্নয়ন প্রকল্পে ১০ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকার সহায়তা স্টারলিংকে প্রথম মাস ফ্রি মোবাইল সেবা, চালু করবেন যেভাবে সাবেক এমপি ও রাষ্ট্রদূত ব্যারিস্টার মুন্তাকিম চৌধুরী মারা গেছেন পে স্কেলে বড় অগ্রগতি, যুক্ত হচ্ছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে কেন ‘গাঁজাখোর’ বললেন রাশেদ খান ২৬ অক্টোবর জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যাধুনিক হাসপাতাল হবে সিটি হাসপাতাল : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

কোটি টাকার মালিক হয়েও ১ বিএইচকেতেই থাকতেন নানা পাটেকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 12:50:24 pm, Thursday, 8 October 2026
  • / 18 Time View

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা নানা পাটেকর দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বিপুল অর্থ ও খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তবে পর্দার বাইরে তাঁর জীবনযাপন ছিল একেবারেই সাদাসিধে।

কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েও মুম্বাইয়ের একটি ছোট ১ বিএইচকে ফ্ল্যাটেই দীর্ঘদিন কাটিয়েছেন এই অভিনেতা। 

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুম্বাইয়ের আন্ধেরিতে প্রায় ৭৫০ বর্গফুটের ওই ফ্ল্যাটটি বহু বছর আগে মাত্র ১ দশমিক ১ লাখ রুপিতে কিনেছিলেন নানা পাটেকর। বর্তমানে সেই বাড়িটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ কোটি রুপি। দীর্ঘ সময় মায়ের সঙ্গে সেখানেই থাকতেন তিনি।

নানার মা নির্মলা পাটেকর ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে মারা যান। এরপরও মুম্বাইয়ে থাকলে সেই পুরোনো ফ্ল্যাটেই থাকতেন অভিনেতা। কাজের প্রয়োজনে তাঁকে মুম্বাই, পুনে ও গোয়ার মধ্যে যাতায়াত করতে হতো।

শুধু মুম্বাইয়ের ফ্ল্যাট নয়, পুনের কাছে ২৭ একরের একটি ফার্মহাউসও ছিল তাঁর।

খড়কবাসলায় অবস্থিত সেই জায়গায় চাষাবাদের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন নানা। সেখানে গম ও ধানের মতো ফসল চাষ করা হতো। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষক ও শ্রমিকদের সঙ্গে চাষাবাদ থেকে পাওয়া অর্থের অংশ ভাগ করে নেওয়ার জন্যও তিনি পরিচিত ছিলেন। 

নানার জীবনযাপনের এই সরলতা তাঁর শৈশবের অভিজ্ঞতার সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত ছিল। ১৯৫১ সালে মহারাষ্ট্রের মুরুদ-জঞ্জিরায় জন্ম নেওয়া নানার পরিবার একসময় আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ছিল।

তাঁর বাবা গজানন পাটেকর কাপড়ের ব্যবসা করতেন। কিন্তু এক নিকটাত্মীয়ের প্রতারণায় পরিবারটি বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়ে। 

মাত্র ১৩ বছর বয়সে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে কাজ শুরু করতে হয় তাঁকে। স্কুলের পর কয়েক কিলোমিটার হেঁটে গিয়ে সিনেমার পোস্টার আঁকার কাজ করতেন তিনি। এর বিনিময়ে মাসে প্রায় ৩৫ রুপি ও খাবার পেতেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা পরবর্তী জীবনেও তাঁর চিন্তাভাবনায় প্রভাব ফেলেছিল।

পরবর্তী সময়ে অভিনয়ই বদলে দেয় তাঁর জীবন। ১৯৭৮ সালের ‘গমন’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় নানার। বিদু বিনোদ চোপড়ার ‘পরিন্দা’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা সহ-অভিনেতার সম্মান পান।

এরপর ‘প্রহার’, ‘অঙ্গার’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘তিরঙ্গা’, ‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’, ‘অব তক ছাপ্পান’, ‘অপহরণ’ ও মারাঠি ছবি ‘নটসম্রাট’-এর মতো সিনেমায় তাঁর অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায়। রাগ, ক্ষমতা, অসহায়ত্ব কিংবা গভীর মানসিক দ্বন্দ্ব—বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে নিজস্ব অভিনয়শৈলীর জন্য আলাদা জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি।

জীবনের শেষ দিকেও অভিনয় থেকে পুরোপুরি সরে যাননি নানা পাটেকর। ‘হাউসফুল ৫’-এ অক্ষয় কুমার, অভিষেক বচ্চন ও রিতেশ দেশমুখের সঙ্গে অভিনয় করেন তিনি। ‘ও’ রোমিও’ ছবিতেও তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যায়। এ ছাড়া ‘সুবেদার’ ছবিতেও অভিনয় করেছিলেন তিনি।

ব্যক্তিগত জীবন অবশ্য বরাবরই অনেকটা আড়ালে রেখেছিলেন নানা। ১৯৭৮ সালে নীলকান্তি পাটেকরকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। পরে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। তাঁদের দুই ছেলে ছিল, যার একজন শৈশবেই মারা যায়। বেঁচে থাকা ছেলে মালহার পাটেকর।

সিনেমায় দীর্ঘ অবদানের জন্য পদ্মশ্রীসহ একাধিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন নানা পাটেকর। তবে বিপুল খ্যাতি ও সম্পদের পরও তাঁর জীবনযাপনের সরলতা ছিল আলোচনার অন্যতম বিষয়। মুম্বাইয়ের ছোট্ট সেই ১ বিএইচকে ফ্ল্যাট যেন তাঁর জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়েরই প্রতীক হয়ে ছিল।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

কোটি টাকার মালিক হয়েও ১ বিএইচকেতেই থাকতেন নানা পাটেকার

Update Time : 12:50:24 pm, Thursday, 8 October 2026

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা নানা পাটেকর দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বিপুল অর্থ ও খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তবে পর্দার বাইরে তাঁর জীবনযাপন ছিল একেবারেই সাদাসিধে।

কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েও মুম্বাইয়ের একটি ছোট ১ বিএইচকে ফ্ল্যাটেই দীর্ঘদিন কাটিয়েছেন এই অভিনেতা। 

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুম্বাইয়ের আন্ধেরিতে প্রায় ৭৫০ বর্গফুটের ওই ফ্ল্যাটটি বহু বছর আগে মাত্র ১ দশমিক ১ লাখ রুপিতে কিনেছিলেন নানা পাটেকর। বর্তমানে সেই বাড়িটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ কোটি রুপি। দীর্ঘ সময় মায়ের সঙ্গে সেখানেই থাকতেন তিনি।

নানার মা নির্মলা পাটেকর ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে মারা যান। এরপরও মুম্বাইয়ে থাকলে সেই পুরোনো ফ্ল্যাটেই থাকতেন অভিনেতা। কাজের প্রয়োজনে তাঁকে মুম্বাই, পুনে ও গোয়ার মধ্যে যাতায়াত করতে হতো।

শুধু মুম্বাইয়ের ফ্ল্যাট নয়, পুনের কাছে ২৭ একরের একটি ফার্মহাউসও ছিল তাঁর।

খড়কবাসলায় অবস্থিত সেই জায়গায় চাষাবাদের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন নানা। সেখানে গম ও ধানের মতো ফসল চাষ করা হতো। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষক ও শ্রমিকদের সঙ্গে চাষাবাদ থেকে পাওয়া অর্থের অংশ ভাগ করে নেওয়ার জন্যও তিনি পরিচিত ছিলেন। 

নানার জীবনযাপনের এই সরলতা তাঁর শৈশবের অভিজ্ঞতার সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত ছিল। ১৯৫১ সালে মহারাষ্ট্রের মুরুদ-জঞ্জিরায় জন্ম নেওয়া নানার পরিবার একসময় আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ছিল।

তাঁর বাবা গজানন পাটেকর কাপড়ের ব্যবসা করতেন। কিন্তু এক নিকটাত্মীয়ের প্রতারণায় পরিবারটি বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়ে। 

মাত্র ১৩ বছর বয়সে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে কাজ শুরু করতে হয় তাঁকে। স্কুলের পর কয়েক কিলোমিটার হেঁটে গিয়ে সিনেমার পোস্টার আঁকার কাজ করতেন তিনি। এর বিনিময়ে মাসে প্রায় ৩৫ রুপি ও খাবার পেতেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা পরবর্তী জীবনেও তাঁর চিন্তাভাবনায় প্রভাব ফেলেছিল।

পরবর্তী সময়ে অভিনয়ই বদলে দেয় তাঁর জীবন। ১৯৭৮ সালের ‘গমন’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় নানার। বিদু বিনোদ চোপড়ার ‘পরিন্দা’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা সহ-অভিনেতার সম্মান পান।

এরপর ‘প্রহার’, ‘অঙ্গার’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘তিরঙ্গা’, ‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’, ‘অব তক ছাপ্পান’, ‘অপহরণ’ ও মারাঠি ছবি ‘নটসম্রাট’-এর মতো সিনেমায় তাঁর অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায়। রাগ, ক্ষমতা, অসহায়ত্ব কিংবা গভীর মানসিক দ্বন্দ্ব—বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে নিজস্ব অভিনয়শৈলীর জন্য আলাদা জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি।

জীবনের শেষ দিকেও অভিনয় থেকে পুরোপুরি সরে যাননি নানা পাটেকর। ‘হাউসফুল ৫’-এ অক্ষয় কুমার, অভিষেক বচ্চন ও রিতেশ দেশমুখের সঙ্গে অভিনয় করেন তিনি। ‘ও’ রোমিও’ ছবিতেও তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যায়। এ ছাড়া ‘সুবেদার’ ছবিতেও অভিনয় করেছিলেন তিনি।

ব্যক্তিগত জীবন অবশ্য বরাবরই অনেকটা আড়ালে রেখেছিলেন নানা। ১৯৭৮ সালে নীলকান্তি পাটেকরকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। পরে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। তাঁদের দুই ছেলে ছিল, যার একজন শৈশবেই মারা যায়। বেঁচে থাকা ছেলে মালহার পাটেকর।

সিনেমায় দীর্ঘ অবদানের জন্য পদ্মশ্রীসহ একাধিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন নানা পাটেকর। তবে বিপুল খ্যাতি ও সম্পদের পরও তাঁর জীবনযাপনের সরলতা ছিল আলোচনার অন্যতম বিষয়। মুম্বাইয়ের ছোট্ট সেই ১ বিএইচকে ফ্ল্যাট যেন তাঁর জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়েরই প্রতীক হয়ে ছিল।