Dhaka 12:22 am, Friday, 9 October 2026
সর্বশেষ
ভুয়া তথ্য দিয়ে জন্ম নিবন্ধনের চেষ্টা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একজনের কারাদণ্ড ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে প্রযুক্তির রপ্তানিকারক হতে হবে : জনপ্রশাসন উপদেষ্টা মা-ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী দুর্যোগ-সহনশীল আবাসনে ১০ কোটি ডলার ঋণ, উপকৃত হবে ৪০ হাজার পরিবার নবীনদের সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান আইজিপির বিআরটিসির নতুন চেয়ারম্যান তারিকুল ওমর প্রবাসীদের বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধে নজরদারির সুপারিশ বাংলাদেশ সফরে আসছেন নেদারল্যান্ডসের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতামন্ত্রী বিমান-পর্যটন খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরামর্শ ঢাকা-জাকার্তা সরাসরি ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে চায় ইন্দোনেশিয়া

পরকীয়া অভিযোগে ৫০ হাজার টাকায় করা হয়েছিল খুনের চুক্তি : পিবিআই

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 01:13:48 pm, Wednesday, 7 October 2026
  • / 13 Time View

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে কিশোর ওমর আলী হত্যা মামলার পাঁচ বছর পর রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে ফরিদপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই। পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ওমরকে হত্যার জন্য ৫০ হাজার টাকায় চুক্তি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুর পিবিআই জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার (পিবিআই) মো. রবিউল ইসলাম।

এ ঘটনায় নজরুল ইসলাম (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নজরলের রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের ঢোলজানী গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে।

পিবিআই জানায়, ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি ঢোলজানী গ্রামের একটি ঘাসক্ষেত থেকে ওমর আলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এর আগে তিন দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। মরদেহ উদ্ধারের পরদিন নিহতের বাবা আহেদ শেখ বাদী হয়ে বালিয়াকান্দি থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। 

দীর্ঘ তদন্তে ঘটনাস্থলের আলামত, সুরতহাল প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করা হয় বলে জানিয়েছে পিবিআই।

গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকা থেকে নজরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পিবিআইয়ের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তিনি বিভিন্ন এলাকায় ছদ্মবেশে আত্মগোপনে ছিলেন। 

পিবিআই জানায়, ঘটনার রাতে বাড়ি ফেরার পথে ওমরকে তুলে নিয়ে একটি ঘরে আটকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করা হয়। পরে ধারালো চাকু দিয়ে জখম করা হয়। পরদিন স্বজনরা ওমরের খোঁজ শুরু করলে অভিযুক্তরা আতঙ্কিত হয়ে তাকে হত্যা করে।

পরে মরদেহ পাশের একটি ঘাসক্ষেতে ফেলে রাখা হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে এসপি মো. রবিউল ইসলাম বলেন, দুই আসামির স্ত্রীর সঙ্গে ওমরের পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে, এমন অভিযোগ থেকে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। এজন্য ৫০ হাজার টাকায় চুক্তি করা হয়েছিল। 

তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে নজরুল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডে মোট পাঁচজনের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পরকীয়া অভিযোগে ৫০ হাজার টাকায় করা হয়েছিল খুনের চুক্তি : পিবিআই

Update Time : 01:13:48 pm, Wednesday, 7 October 2026

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে কিশোর ওমর আলী হত্যা মামলার পাঁচ বছর পর রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে ফরিদপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই। পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ওমরকে হত্যার জন্য ৫০ হাজার টাকায় চুক্তি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুর পিবিআই জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার (পিবিআই) মো. রবিউল ইসলাম।

এ ঘটনায় নজরুল ইসলাম (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নজরলের রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের ঢোলজানী গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে।

পিবিআই জানায়, ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি ঢোলজানী গ্রামের একটি ঘাসক্ষেত থেকে ওমর আলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এর আগে তিন দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। মরদেহ উদ্ধারের পরদিন নিহতের বাবা আহেদ শেখ বাদী হয়ে বালিয়াকান্দি থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। 

দীর্ঘ তদন্তে ঘটনাস্থলের আলামত, সুরতহাল প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করা হয় বলে জানিয়েছে পিবিআই।

গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকা থেকে নজরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পিবিআইয়ের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তিনি বিভিন্ন এলাকায় ছদ্মবেশে আত্মগোপনে ছিলেন। 

পিবিআই জানায়, ঘটনার রাতে বাড়ি ফেরার পথে ওমরকে তুলে নিয়ে একটি ঘরে আটকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করা হয়। পরে ধারালো চাকু দিয়ে জখম করা হয়। পরদিন স্বজনরা ওমরের খোঁজ শুরু করলে অভিযুক্তরা আতঙ্কিত হয়ে তাকে হত্যা করে।

পরে মরদেহ পাশের একটি ঘাসক্ষেতে ফেলে রাখা হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে এসপি মো. রবিউল ইসলাম বলেন, দুই আসামির স্ত্রীর সঙ্গে ওমরের পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে, এমন অভিযোগ থেকে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। এজন্য ৫০ হাজার টাকায় চুক্তি করা হয়েছিল। 

তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে নজরুল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডে মোট পাঁচজনের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।